‘কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করা উচিত হয়নি ’
নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট – আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল নিয়ে গোটা দুনিয়া যখন উত্তাল, তখন দেশটিতে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয় নাগরিক। ভারত সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনাই দিল্লির প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। কিন্তু কীভাবে? দিল্লিতে খোলা হয়েছে বিশেষ সেল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ জন কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন। আফগানিস্তানে আটকে পড়া মানুষের ফোন ধরছেন, হোয়াটসঅ্যাপে জবাব দিচ্ছেন, ই-মেইলের উত্তর দিচ্ছেন। সর্বোপরি তাদের দেশে ফেরাতে তৎপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই পরিস্থিতিতেই দিন তিনেক আগে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে কার্যত তালা লাগিয়ে রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন-সহ দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের যাবতীয় কর্মীদের দেশে ফেরানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করতে পারছেন না ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি যশবন্ত সিনহা।
নিউজ ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানার এই মন্ত্রী বলেন, ‘কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। আফগানিস্তানে এখনও প্রচুর ভারতীয় নাগরিক আটকে রয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখনও তাদের দূতাবাস খোলা রেখেছে। আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষ দূতাবাসে এসে আশ্রয় নিতে পারতো।’
তার মতে, অতীতে তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ভারত। অতএব দেশের মঙ্গলের জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলা যেতেই পারে। তাহলে করণীয় কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন আফগানিস্তানের যা পরিস্থিতি তাতে ভারতের পক্ষে তিনটি বিকল্প রয়েছে। এক, প্রকাশ্যে তালেবানের নিন্দা করা। দুই, তালেবানকে সমর্থন করা। তিন, একেবারে চুপ থাকা। কিন্তু বেশিদিন চুপ করে থাকাও সম্ভব নয়। কারণ দেশটিতে আমাদের নাগরিকরা আটকে রয়েছেন।’
ভারত আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানার এই মন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভাবতে হবে তালেবানরা ভারত সম্পর্কে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীন, পাকিস্তান ছাড়াও রাশিয়া ইতোমধ্যেই তাদের সমর্থন দিয়েছে। যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। এখন সময় অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার।’
যশবন্ত সিনহা বলেন, মনে রাখতে হবে, ‘ভারতের কাছে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞ। দিল্লি সেখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। আমি ২০০২ সালে আফগানিস্তানে গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি।’
আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মোদি সরকারকে কোনও পরামর্শ দিতে চান? এমন প্রশ্নে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘ভারতে খুব কম রাজনীতিক আছেন যারা কাবুল, মাজার-ই-শরীফ-সহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখেছেন। সৌভাগ্যবশত আমি তাদের মধ্যে একজন। মোদি সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের পরামর্শ নেবেন কিনা সেটা তাদের বিষয়।’
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/২০ আগস্ট ২০২১










