জাতীয়

লকডাউনের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে সরকার

ঢাকা, ১২ আগস্ট – নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপের চিন্তা থেকে সরে আসছে সরকার। এ কারণে দেশে সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে বিভিন্ন সময়ে জারি করা কঠোর, মাঝারি ও স্বল্প বিধিনিষেধও আগামী দিনগুলোয় থাকছে না বলে জানা গেছে। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সভা করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। খবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রের।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আগামীতে দেশে আর কোনো লকডাউন দেওয়া হবে না। কারণ দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় লকডাউন মেনে চলার মতো আর্থিক সক্ষমতা দেশের মানুষের নেই। এর বিকল্প হিসেবে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে কিছুটা হলেও মানুষ মাস্ক পরায় অভ্যস্ত হয়েছে, এটা ইতিবাচক। এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খসড়া নিয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) আলোচনা করা হবে। এই আলোচনাসাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র মতে, সর্বশেষ টানা ১৯ দিন সব বন্ধ করে কঠোর বিধিনিষেধ চলার পর গতকাল বুধবার থেকে তা উঠিয়ে দিয়ে গণপরিবহন ও অফিস-আদালত খোলা হয়েছে। তবে বন্ধ আছে পর্যটনকেন্দ্রসহ সভা-সমাবেশ। কিন্তু সরকার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মানুষের জীবনমানসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় পূর্ণাঙ্গ গণপরিবহন খোলাসহ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি অফিস-আদালতে কাজকর্ম চলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সামাজিক দূরত্ব, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরায় কোনো ছাড় দেবে না সরকার। শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে সর্বত্র মাস্ক পরা। এসব বিষয়ে কোনো গাফলতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা ঘটে, সে ক্ষেত্রে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার। সামনে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে এ ধরনের নির্দেশনা থাকবে।

এ নির্দেশনায় মাস্ক পরার ওপরে অধিক গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সবাই যাতে মাস্ক পরে ঘর থেকে বের হন, সেজন্য মাঠ প্রশাসনসহ সর্বত্রই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। খুলে দেওয়া হবে পর্যটনকেন্দ্রসহ দর্শনীয় স্থানগুলো। সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে কঠোর বিধিনিষেধসহ কারফিউ জারির পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সরকারকে সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সদ্য তুলে নেওয়া বিধিনিষেধের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দিলে বিভিন্ন মহল সমালোচনায় মুখর হয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে এসব বিষয়ে কথা বলে থাকেন। অন্যদিকে সরকার মানুষের জীবন ব্যবস্থা, রুটি-রুজিসহ সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বিশ্বব্যাপী চলা করোনাভাইরাসের কারণে আগামীতে দেশ যাতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য লকডাউনের বিকল্প চিন্তা করছে সরকার। এই চিন্তার মধ্যে পথচারীদের মাস্ক পরা এবং মানুষের সামাজিক সচেতনতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলছে আলোচনা। শিগগিরই সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে গণপরিবহন চলাচলের পূর্ণাঙ্গ অনুমতি দিয়ে মানুষকে কর্মে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। জানা গেছে, আগামীতে আর লকডাউন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে না সরকার।

সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ
এম ইউ/১২ আগস্ট ২০২১

Back to top button