ক্রিকেট

আনন্দমাখা শেষের অপেক্ষা

ঢাকা, ০৯ আগস্ট – টি-টোয়েন্টিতে এমন ঘটনা হয়নি। সিরিজ নিশ্চিতের পর আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে হয়েছে একাধিকবার। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর শেষ ম্যাচটা হেরেছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও এক ঘটনা আছে। ফলে চ্যম্পিয়ন বোর্ডের পেছনে দাঁড়িয়ে শিরোপা হাতে নিয়ে যেই উচ্ছ্বাস উল্লাস করার কথা সেই তেজ পাওয়া যায় না। ম্যাচ হারের বেদনা তো কিছুটা হলেও কাজ করে। মিরপুর শের-ই-বাংলার সবুজ ঘাসে আজ কি তেমন একটি দিন দেখতে হবে নাকি জয়ের ফানুস উড়াবে বাংলাদেশ?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিতের পর চতুর্থ ম্যাচটা হেরেছে। আজ আনন্দমাখা শেষের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। কথায় আছে, যার শেষ ভালো তার সব ভালো। সাত দিনের রঙিন উৎসব নিশ্চিতভাবেই অন্যতম সেরা সাফল্য উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে।

এবার শেষটা রাঙানোর পালা। চার ম্যাচে বোলাররা ছিলেন পিকচার পারফেক্ট। প্রতি ম্যাচে ধ্রুপদী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানকে আটকে রেখেছিলেন তারা। মোস্তাফিজ, শরিফুল, মেহেদী, সাকিবদের বোলিং ছিল একেবারেই নিয়ন্ত্রিত। আঁটসাঁট। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা রীতিমত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। ওপেনিং নাঈম ও সৌম্য প্রতি ম্যাচেই উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন। সৌম্য টানা চার ম্যাচে যেভাবে আউট হয়েছেন তা স্রেফ দৃষ্টিকটু। নাঈম ভরসা হয়ে উঠেও কোনো ম্যাচে বড় কিছু দিতে পারেননি। সাকিবের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও ছিল গড়পড়তা। মাহমুদল্লাহ তৃতীয় ম্যাচের নায়ক হলেও মন্থর ইনিংসে একমাত্র ফিফটিটি পেয়েছেন। আগে পরের ম্যাচগুলিতেও দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক।

ফলে ব্যাটসম্যানরা এবারের সিরিজে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ শেষটা ভালো করার পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের থেকেও ভালো কিছুর আশায় আছেন, ‘ব্যাটিংটা আমাদের আরও ভালো করা উচিত। শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে উন্নতি চাই। ব্যাটিংয়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে পারি।’

কিভাবে ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে পারেন সেই উপায় বাতলে দিলেন অধিনায়ক, ‘কোনেভাবে ১০-১২ রান…একটা চার, কয়েকটা দুই বা সিঙ্গেলের মাধ্যমে রান বের করতে পারি তাহলে দলের ব্যাটিং ইউনিট খুশি হবে। এটা বোলারদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তাহলে তারা ডিফেন্ড করতে পারবে। আমাদের সুবর্ণ সুযোগ আরও একটা ম্যাচ জেতার। এজন্য ব্যাটসম্যানদের আরও সতর্ক ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শুরু থেকে বাংলাদেশের উইকেটে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। তবে চার ম্যাচ খেলার পর নিশ্চয়ই ধারণা পেয়েছে। এজন্য শেষ ম্যাচে স্পিন আক্রমণ বাড়ানোর চিন্তাও করছে তারা। শেষ ম্যাচে আস্টান আগার, লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপশন ও অ্যাস্টান টার্নারের সঙ্গে আডাম জাম্পাকে নিয়ে মাঠে নামলেও অবাক হবার থাকবে না।

কারণ, মিরপুরে প্রতিটি ম্যাচই হয়েছে লো স্কোরিং। স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চার স্পিনার খেলাতেও পারে অজিরা। বাংলাদেশের একাদশে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। ওপেনিংয়ে সৌম্যর পরিবর্তে মিঠুনকে বাজিয়ে দেখতে পারে দল। শামীমের পরিবর্তে সুযোগ হতে পারে মোসাদ্দেকের। এছাড়া মোস্তাফিজ বা শরীফুলকে বিশ্রাম নিয়ে তাসকিনকে খেলানোর চিন্তাও করছে দল। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে ম্যাচের আগে।

কঠোর নিয়ম-নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। মাঠের বাইরে সিরিজ আয়োজনে যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল, ঠিক তেমনি মাঠের ভেতরেও সিরিজ জিততে চ্যালেঞ্জ ছিল। মাঠের বাইরে ও ভেতরে দুই জায়গায় সফল বাংলাদেশ। এখন শুধু আনন্দমাখা শেষের অপেক্ষা। মুখে চড়া হাসি নিয়ে ঐতিহাসিক ট্রফি গ্রহণ করতে পারলেই ষোলোকলা পূর্ণ হবে।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ০৯ আগস্ট

Back to top button