জাতীয়

বাজারে ‘প্যারাসিটামল’ জাতীয় ওষুধ সংকট

সাদ্দিফ অভি

ঢাকা, ০৮ আগস্ট – নুরুন্নবি চৌধুরী বাসায় নিয়মিতভাবেই রাখার জন্য ফার্মেসিতে গিয়েছেন প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ কেনার জন্য। কিন্তু ফার্মেসি তাকে জানায় প্যারাসিটামল জাতীয় কোনও ওষুধ আপাতত নেই। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন- প্যারাসিটামল নেই! অন্যদিকে রাশেদ আহমেদ গেছেন জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল কিনতে। তিনি নিয়মিত প্যারাসিটামল যেই ব্র্যান্ডের খান সেটি নেই, তাকে ফার্মেসি থেকে দেওয়া হল অন্য কোম্পানির অন্য একটি ব্র্যান্ডের। তিনি সেটি নিতে রাজি হননি।

দেশে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বর, মৌসুমি সর্দি কাশির প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে আর সেই সঙ্গে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। আগস্টের সাতদিনেই দেড় হাজার ছাড়িয়েছে ডেঙ্গু রোগী যেখানে জুলাইতেই ছিল ২ হাজারের কিছু বেশি।

চিকিৎসকের মতে, সর্দি জ্বর, মাথা ব্যথা নিরাময়ে অন্যতম প্রাথমিক ওষুধ ‘প্যারাসিটামল’। যেহেতু এখন করোনা, ডেঙ্গু এবং সিজনের কারণে জ্বর ঠাণ্ডা আক্রান্ত রোগী আছে ঘরে ঘরে সেহেতু সর্বত্র এর চাহিদা প্রচুর। সাধারণ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সামান্য জ্বর হলেই একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নেন। এই প্র্যাকটিস প্রায় প্রত্যেকটা ঘরে আছে।

ওষুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদা বহুগুণে বেড়ে যায়। সম্প্রতি তা আরও বেড়ে গেছে। গত ৫-৬ দিন ধরে সরবরাহ কমে গেছে প্যারাসিটামলের। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কেউ কেউ দিতে পারলেও অনেকেই তা পারছেন না।

শনিবার রাতে ঢাকার কয়েকটি ফার্মেসিতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট আছে বাজারে। অনেকেই প্রাথমিক ওষুধ হিসেবে ঘরে সংরক্ষণের জন্য একসঙ্গে ১০ পাতা করে কেনেন। আবার অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নেন। সব মিলিয়ে সরবরাহে একটা সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর পান্থপথে তাজরিন ফার্মেসির বিক্রেতারা জানান, তাদের স্টকে প্যারাসিটামল ক্যাটাগরির কোনও ওষুধ নেই।

একই এলাকার লাজ ফার্মার বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কিছুটা কম আছে। তবে আমাদের কাছে আছে, আমরা কম কম দিচ্ছি। অনেকেই একসঙ্গে অনেকগুলো করে নিতে চান সেক্ষেত্রেও আমরা কম কম দিচ্ছি।

গুলশানের তামান্না ফার্মেসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি আছে বেশ কিছুদিন ধরেই।

শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও প্যারাসিটামলের সংকট আছে বলে জানা গেছে। কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ , পটুয়াখালী, নীলফামারী, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, যশোরসহ কয়েকটি জেলায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষ অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত ওষুধ কেনায় বাজারে হঠাৎ সংকট দেখা দিয়েছে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এসময় কোম্পানি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের জোগান দিতে না পারায় সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে সরবরাহকারীরা বলেছেন- দুয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/০৮ আগস্ট ২০২১

Back to top button