জাতীয়

‘পরীমনি-ডিবি কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

ঢাকা, ০৭ আগস্ট – পরীমনির সঙ্গে তার পূর্বের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার (০৭ আগস্ট) মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ওমর ফারুক।

ইতোমধ্যে পরীমনিসহ মডেল মৌ, পিয়াসা ও রাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও ডকেট বুঝে পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়িকা পরীমনি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। তার নাম গোলাম সাকলায়েন। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান জোনের এডিসি হিসাবে কর্মরত আছেন। সর্বশেষ পরীমণি সেই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এসে অবস্থান করেন প্রায় ১৮ ঘণ্টা। পরীমনি গ্রেপ্তারের পর অকপটে স্বীকার করেছেন সবকিছু। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে পুলিশে।

গত ১৩ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনি। এর পরদিনই উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে। পরে এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন থেকেই গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর থেকেই শুরু হয় যোগাযোগ।

সূত্র বলছে, বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পরীর সঙ্গে সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তবে বিষয়টি এতদিন অজ্ঞাত কারণে গোপন ছিল। র‌্যাবের হাতে পরী গ্রেপ্তারের পর ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে এলো।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানিয়েছেন, নিয়মিত কথা বলতে বলতে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তার। এরপর তারা নিয়মিত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এমনকি সাকলায়েন তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট তার সরকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান পরীমণি।

সাকলায়েন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে পরীমনির নিজের হ্যারিয়ার গাড়ি নিয়ে গোলাম সাকলায়েন মধুমতির ফ্লাটে যান। এ সময় ১০তলা থেকে নেমে এসে খোদ গোলাম সাকলায়েন পরীমনিকে রিসিভ করে বাসায় নিয়ে যান। পরীমনির খালাতো বোন শায়লা ও তার স্বামী গোলাম রাতে সাকলায়েনের ওই বাসায় যান। পরে রাত ২টার দিকে পরীমনি ও তার স্বজনরা গোলাম সাকলায়েনের বাসা থেকে বের হয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পরীমনিকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁস হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত রাজারবাগের মধুমতির বাসভবনের কেয়ারটেকার শামীমকে সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআরসহ পুলিশ সদর দফতরে ডেকে পাঠান। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরীমণির বক্তব্যের সত্যতা পান। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরীমনির গাড়িচালক নাজির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১ আগস্ট পরীমনিকে নিয়ে তিনি রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে এক বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বনানীর বাসায় চলে যান। পরে রাতে তাকে পরীমণি গাড়ি নিয়ে তার খালাতো বোন ও বোন জামাইকে তুলে রাজারবাগের ওই বাসায় যেতে বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে নাজির হোসেন বলেন, ‘ওই লোকের (পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন) সঙ্গে পরীমনি দুই দিন রাতের বেলা হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। হাতিরঝিলে গাড়িতে বসেই তারা মদ খেয়েছে।’

এসব অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে গোলাম সাকলায়েন শিথিল বলেন, পরীমনির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং তারা বিয়েও করেননি। পরীমণি তার বাসায় যাওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে জানালে এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি
এম ইউ/০৭ আগস্ট ২০২১

Back to top button