জাতীয়

উচ্চাভিলাষী উঠতি মডেলদের উত্থান রাজের হাতে

ঢাকা, ০৭ আগস্ট – প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের টার্গেট ছিল উচ্চাভিলাষী উঠতি মডেলরা। এসব মডেলকে ব্যবহার করে প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের জন্য ফাঁদ পাততেন তিনি। ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ পেতেন এসব উঠতি মডেল। রাজের ব্ল্যাকমেইল বাণিজ্যের অন্যতম হাতিয়ার ছিলেন তারা। রাজকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার মডেলদের একটি বড় অংশের উত্থান ঘটে রাজের হাত ধরে। এসব মডেলের অনেকের প্রোফাইল পাওয়া গেছে রাজের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাজ জানিয়েছেন, মডেলদের মধ্যে একটি অংশ ভালো। তবে আরেকটি অংশ এসব অবৈধ কর্মকা-ে জড়িয়ে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকেন।

মূলত এই অংশকেই টার্গেট করতেন রাজ। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাজ ও মিশু হাসানের মোবাইল ও ল্যাপটপে অনেক প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি/ভিডিও রয়েছে। গোপনে ধারণ করা এসব ছবি দিয়েই চলত ব্ল্যাকমেইল। রাজ মাল্টিমিডিয়া নামেও তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগৎ ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় ব্ল্যাকমেইলের পথ বেছে নেন।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজের বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে আমরা আরও তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য প্রদান করে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব ১-এর আভিযানিক দল বনানী এলাকায় বুধবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে শামসুর নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনি (২৬), মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজ (৩৯), পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু (২৯) ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ০৭ আগস্ট

Back to top button