জানা-অজানা

বাঁশ ভালুক: বিরল এই প্রাণী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুটি বেয়র ক্যাট বা বাঁশ ভালুকসহ কয়েকটি বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার দুপুরে একটি ব্যক্তিগত পার্কে বনবিভাগের সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালিয়ে বাঁশ ভালুকসহ একটি শকুন ও একটি খাটো লেজা বানর উদ্ধার করে স্থানীয় বনবিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রেখেছে।

বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার শহীদুল ইসলাম বলেন, এগুলো বিরল প্রাণী। সঠিক পরিবেশ ছাড়া যেখানে সেখানে ছেড়ে দিলে বাঁচবে না। আমরা রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। এগুলো এখন ভালো আছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে রেঞ্জ অফিসার আরো বলেন, বাঁশ ভালুক এখন আর বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না।

বাঁশ ভালুক স্বভাবত কেমন হয়

বন্যপ্রাণী গবেষক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যাপক আ. ন. ম. আমিনুর রহমান বলেন, বাঁশ ভালুক দেখতে ভালুকের মতো হলেও এটা ভালুক প্রজাতির নয়। এটি দেখতে কুচকুচে কালো। নিরীহ এবং মুখের সামনে গোঁফের দেখা মেলে। তাকায় খুব উৎসুক দৃষ্টিতে। চোখগুলো সবসময় চকচক করে। আর এদের লেজ খুব নড়ে। সাধারণত কারও ক্ষতি করে না।

প্রায় ৮/১০ বছর আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি বাঁশ ভালুক পাওয়া গিয়েছিলো জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি বাঁশ ভালুক প্রায় ১০ বছর বাঁচে, তবে প্রজনন কাল ছাড়া এরা একাকী চলাচল বা থাকতে পছন্দ করে। এরা মূলত রাতের প্রাণী এবং এরা কিছুটা লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। আর দিনের বেলা গাছের উপরে ঘুমায়। আর রাত হলে নেমে আসে। এরা এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে যেতে পারে।

বাঁশ ভালুকের গোত্র, কোথায় দেখা মেলে

অধ্যাপক আ. ন. ম. আমিনুর রহমান বলেন, এটি ভাইবেরিটি গোত্রের অর্থাৎ ভোঁদড়ের কিছুটা কাছাকাছি এবং বিড়াল বা কুকুর থেকে আলাদা।

তিনি বলেন, এদের শরীর থেকে একটা গন্ধ বের হয় যা থেকে এগুলোকে গন্ধগোকুল গোত্রের বলা যায়। লেজের গোঁড়ায় এক ধরণের গ্র্যান্ড থাকে যা থেকে পারফিউমও তৈরি হয় বলে এরা আক্রমণের শিকার হতো। গেছো ও সর্বভুক এই প্রাণী মানুষকে আক্রমণ করে না কিন্তু অনেক সময় না বুঝে মানুষ এদের মেরে ফেলে। কারণ বাঁশ ভালুক আকারে দেখতে একটু বড়ো হয়।

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্ব চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর দেখা মিলতো বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বাঁশ ভালুক বিরল একটা প্রাণী। মিশ্র চির সবুজ বনে পাওয়া যায়। এছাড়া ক্যাম্বোডিয়া, লাওস, নেপাল, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাঁশ ভালুকের দেখা মেলে। তিনি আরাও বলেন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সঠিক পন্থায় জরিপ করা হলে বাঁশ ভালুক আছে কিনা সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এন এইচ, ০৬ আগস্ট

Back to top button