পশ্চিমবঙ্গ

ত্রিপুরার পর এবার তৃণমূলের লক্ষ্য আসাম ও কেরালা

কলকাতা, ০৬ আগস্ট – বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার পর এবার তৃণমূলের লক্ষ্য আসাম ও কেরালা। দেশজুড়ে সিএএ বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল এবার আসামের সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতা অখিল গৈগকে দলে টেনে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চাইছে। চব্বিশের ভারতের লোকসভা ভোটের লড়াইয়ে আসামের মোদি বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারেন এই অখিল গৈগ। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর পাশাপাশি বামশাসিত রাজ্য কেরালাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পোস্টার লাগিয়েছে তৃণমূল।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা, আসামসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সংগঠন বিস্তার করতে অন্য দলের কট্টর গেরুয়া বিরোধীদের দলে টেনে সংগঠন বিস্তারে নজর দিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, আসামের শিবসাগরের বিধায়ক রাইজোর দলের প্রধান অখিল গৈগকে সরাসরি তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই রাইজোর দলের প্রতিনিধিরা দুই বার কালিঘাটে এসে মমতার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন। বৈঠকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে আসামে বিজেপি বিরোধিতাকে তীব্র করতে তাদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর একান্তই যদি তা না হয় তাহলে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাইজোর দলের অখিল-ঘনিষ্ঠ নেতা অম্লানজ্যোতি গগৈ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কলকাতায় তাদের দলের সঙ্গে দুই বার তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়েছে। তবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সিএএ পার্লামেন্টে পাস হলেও তৃণমূল সব সময় এর বিরোধিতা করে এসেছে। পার্লামেন্টেও তারা এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। একইভাবে আসামে অখিল গৈগও এই বিলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করেন। এই আন্দোলনের জেরে তাকে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়। কারামুক্তির পরও অখিল তার পুরনো অবস্থানেই আছেন। যদিও ২০২১ সালে আসামের বিধানসভা নির্বাচনে রাইজোর দলের বেশকিছু প্রার্থী লড়াইয়ে নামলেও একমাত্র শিবসাগর কেন্দ্র থেকে অখিল নিজে জিতলেও বাকি কোনও কেন্দ্রেই তার দলের কোনও প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। দল গঠনের আগে রাজনীতিতে দুর্নীতি রুখতে ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন’ নামের সংগঠন তৈরি করেও আন্দোলন করেছেন তিনি। রাজ্যের কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য ‘কৃষক মুক্তিসংগ্রাম সমিতি’র হিসেবেও অখিল রাজ্যজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। এ ধরণের জনপ্রিয় নেতাকে দলে টানতে পারলে নিঃসন্দেহে আসামের রাজনীতিতে ভালো মাইলেজ পাওয়ার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে সংগঠন বিস্তারেও সুবিধা হবে তৃণমূলের। এমনটাই আশা করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

এদিকে, ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর পর এবার বামশাসিত কেরালার জেলায় জেলায় পোস্টার পড়েছে ‘দিদি’র নামে। ত্রিপুরা ও আসামের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণের রাজ্য কেরালাতেও নজর পড়েছে তৃণমূলের। এই পোস্টার তারই প্রমাণ। মমতার নামে স্লোগান দিয়েই বামশাসিত কেরালায় সংগঠন বিস্তারের কাজ শুরু করেছে তারা।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে কেরালায় পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। সেবার আশানুরূপ ফল করতে না পারলেও এবার চব্বিশের লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে সংগঠন বিস্তারে মন দিয়েছে দলটি।

পশ্চিমবঙ্গে একুশের বিধানসভা ভোটের পরই গত জুন মাসে কেরালা তৃণমূলের নেতারা কলকাতায় এসে তৃণমূলের একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন। ওই নেতার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই রাজ্যে সাংগঠনিক কাজে গতি এনেছেন তারা। গত মঙ্গলবার এর্নাকুলামে দলের সাংগঠনিক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ৫১ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর জেলা ও ব্লক স্তরের কমিটি গঠন করা হবে।

এর্নাকুলামের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে যোগদান করেন রাজনৈতিক কর্মীরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বামফ্রন্ট শাসিত রাজ্যটিতে পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের জনমুখী কাজের প্রচার করবে তৃণমূল। তুলে ধরা হবে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে তার তিন দশকের লড়াইয়ের কথাও।

কেরালার মোট ১৪টি জেলাতেই সংগঠন তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। তাই জেলায় জেলায় নতুন স্লোগান ‘কল দিদি, সেভ ইন্ডিয়া, দিল্লি চলো’ পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এই পোস্টারে কেরালা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি মনোজ শঙ্করেন্নালু নিজের ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এবং সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন।

মনোজ বলেন, ‘আগামী তিন বছরে আমাদের দল গড়ে তুলতে হবে। তাই দিদিকে দিল্লি পৌঁছে দেওয়ার স্লোগান দিয়ে, আমরা দল বিস্তারের কাজে জোর দিয়েছি। এখন যোগাযোগের যুগ। কেরালার মতো রাজ্যে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দল তৈরি করতে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার করতেই হবে। তাই আমি প্রত্যেক হোর্ডিংয়ে নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছি।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/০৬ আগস্ট ২০২১

Back to top button