ঢালিউড

পরীমণির সত্যিকারের অপরাধ খুঁজছেন লেখিকা তসলিমা

ঢাকা, ০৬ আগস্ট – পরীমণির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও মাদক পেয়েছে বলে বুধবার রাতে জানায় র‌্যাব। এরপর বৃহস্পতিবার আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।

আলোচিত এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পুলিশের কিছু বক্তব্যকে তুলে ধরে পরীমণি অপরাধের তালিকা সাজালেন তিনি। সঙ্গে জবাবও দেন।

আটটি পয়েন্টে লেখা পরীমণির অপরাধ হলো, “র‌্যাবের ব্রিফিং দেখলাম পরীমণিকে নিয়ে। আমি শুধু শুনতে চাইছিলাম কত ভয়ংকর অপরাধ করেছে পরীমণি। অপরাধের মধ্যে যা বলা হয়েছে, তা হলো, ১. পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে স্মৃতিমণি ওরফে পরীমণি সিনেমায় রাতারাতি চান্স পেয়ে গেছে। ২. তার বাড়িতে বিদেশি মদের বোতল পাওয়া গেছে। ৩. তার বাড়িতে একখানা মিনিবার আছে। ৪. পরীমণি মদ্যপান করে, এখন সে মদে আসক্ত। ৫. নজরুল ইসলাম নামের এক প্রযোজক, যে তাকে সাহায্য করেছিল সিনেমায় নামতে, মাঝে মধ্যে পরীমণির বাড়িতে আসে, মদ্যপান করে। ৬. ডিজে পার্টি হতো পরীমণির বাড়িতে। ৭. আইসসহ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে (এগুলোর চেহারা অবশ্য দেখানো হয়নি)। ৮. মদ খাওয়ার বা সংগ্রহ করার লাইসেন্স আছে পরীমণির, তবে তার মেয়াদ পার হয়ে গেছে, এখনো রিনিউ করেনি সে।”

“তারপর আরও কিছু খবর দেখলাম, পরীমণি পর্ন ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিল। না এটিরও প্রমাণ কিছু দেখানো হয়নি।”

তসলিমার দাবি, এগুলো অপরাধের মধ্যে পড়ে না। বলেন, “মদ খাওয়া, মদ রাখা, ঘরে মিনিবার থাকা কোনোটিই অপরাধ নয়। বাড়িতে বন্ধু বান্ধব আসা, এক সঙ্গে মদ্যপান করা অপরাধ নয়। বাড়িতে ডিজে পার্টি করা অপরাধ নয়। কারো সাহায্য নিয়ে সিনেমায় নামা অপরাধ নয়। কারো সাহায্যে মডেলিং-এ চান্স পাওয়া অপরাধ নয়। কোনো উত্তেজক বড়ি যদি সে নিজে খায় অপরাধ নয়। ন্যাংটো হয়ে ছবি তোলাও অপরাধ নয়। লাইসেন্স রিনিউ-এ দেরি হওয়াও তো অপরাধ নয়।

পরীমণি নাকি একাধিক বিয়ে করেছে, সেটিও কোনো অপরাধ নয়।

অপরাধ তবে কোথায়? যে অপরাধের জন্য দামি গ্লেনফিডিশ হুইস্কিগুলো বাজেয়াপ্ত করা হলো, মেয়েটাকে গ্রেপ্তার করা হলো, রিমাণ্ডে নেওয়া হলো!”

“যে কটা মদ ভর্তি বোতল দেখা গেল পরীমণির বাড়িতে, মদের লাইসেন্সধারীদের বেসমেন্টের সেলারে এর চেয়ে অনেক বেশি থাকে। একটা দুটো পার্টিতেই সব সাবাড় হয়ে যায়। পরীমণি আবার মদ শেষ হয়ে গেলে খালি বোতল জমিয়ে রাখে। বোতলগুলো দেখতে ভালো বলেই হয়তো। কী জানি, এও আবার অপরাধের তালিকার মধ্যে পড়ে কিনা।”

নারী হওয়া অপরাধ কিনা এমন প্রশ্নও তুলেছেন তসলিমা। সবশেষে তিনি বলেন, “সত্যিকার অপরাধ খুঁজছি। কাউকে কি জোর করে মাদক গিলিয়েছে, মদ গিলিয়েছে, কারো সঙ্গে প্রতারণা করেছে মেয়েটি? ধাপ্পা দিয়ে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা পকেটে ভরেছে? কাউকে খুন করেছে? অনেকে বলছিল খুব গরিব ঘর থেকে উঠে এসে ধনী হয়েছে পরীমণি। গরিব থেকে ধনী হওয়া পুরুষগুলোকে মানুষ সাধারণত খুব প্রশংসা করে, কিন্তু মেয়ে যদি গরিব থেকে ধনী হয়, তাহলেই চোখ কপালে ওঠে মানুষের। কী করে হলো, নিশ্চয়ই শুয়েছে। যদি শুয়েই থাকে, তাহলে কি জোর করে কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে শুয়েছে? ধর্ষণ করেছে কাউকে? পুরুষেরা যেমন দিন-রাত ধর্ষণ করে মেয়েদের, সেরকম কোনো ধর্ষণ? অপরাধ খুঁজছি। নাকি মেয়ে হওয়াটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ?”

মাস খানেক আগে পরীমণির জীবন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে আরেক পোস্টে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তসলিমা নাসরিন।

এম এউ, ০৬ আগস্ট

Back to top button