Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

Iqbal Ahmed

ইকবাল আহমেদ বাংলাদেশের সিলেটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি ইংল্যান্ডে আসেন৷ তিনি লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারের সিটি কলেজে তাঁর বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন এবং ১৯৭৬ সালে ওল্ডহ্যামে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন৷ তাঁর দুই ভাই কামাল এবং বিলাল তাঁর সঙ্গে এই ব্যবসায় যোগ দেন এবং তাঁদের ব্যবসার বিস্তার ঘটে৷

ইকবাল বিবাহিত এবং তাঁর তিন পুত্র৷ এঁদের মধ্যে দুই পুত্র বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে তাঁদের নিজেদের জীবনের রাস্তা নিজেরাই বেছে নিয়েছেন৷ একজন ইকবালেরই প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত সীফুড প্রস্ততকারক সংস্থা সিয়ামার্কে কাজ করেন ও অন্যজন চিকিৎসক এবং তৃতীয় পুত্র বর্তমানে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন৷

ইকবাল আহমেদ হিমায়িত মাছ আমদানির ব্যাপারে একজন পথিকৃত৷ তিনিই প্রথম ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ি আমদানি করেছিলেন৷ এর ফলে ইকবাল ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি ইউরোপে অন্যতম একটি  হিমায়িত মাছ ও সীফুড  সরবরাহকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং এখনও এই সংস্থা সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছে৷

১৯৯১ সালে সিয়ামার্ক পিএলসি (Seamark plc) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব হল উষ্ণ জলের চিংড়ি বিশেষ করে ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ি ও মিষ্টি জলের গলদা চিংড়ির (fresh water king prawn) প্রক্রিয়াকরণ ও চাষ৷ প্রক্রিয়াকরণের পর প্যাকেট জাত হয়ে এই মাছ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে রপ্তানি করা শুরু করে এই সংস্থা, যার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে সিয়ামার্ক সেরা রপ্তানিকারক সংস্থা হিসেবে কুইনস অ্যাওয়ার্ড পায়৷ পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে এই সংস্থা বিজনেস ইন ইউরোপ অ্যাওয়ার্ডের প্রথম পুরস্কার জিতে নেয়৷ এরপর ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ পরপর তিনি বছরই বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে সিয়ামার্ক সর্বোচ্চ সীফুড রপ্তানিকারক সংস্থা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার ও স্বর্ণপদক পায়৷

তৃতীয় বিশ্বে একজন ব্রিটিশ বিনিয়োগকারী হিসেবে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্প বিভাগের (DTI) উৎসাহে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে দশ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার খরচ করে একটি নতুন অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপন করেছেন তিনি৷ ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে এই কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে আমন্ত্রণ জানানো হয় হার রয়্যাল হাইনেস প্রিন্সেস রয়্যালকে৷ তিনি বহু বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে এই কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন৷ এছাড়াও বাংলাদেশের অন্য দুটি সীফুড প্রস্ততকারক সংস্থাকেও অধিগ্রহণ করা হয়৷

আমেরিকার নিউ জার্সিতে একটি গুদাম ঘর ও নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি হিমঘর থাকায়, নিউ জার্সিতে ২০০১ সালে সিয়ামার্ক একটি সেলস অফিস খোলে যাতে উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় তাদের পণ্য ছড়িয়ে দিতে সুবিধা হয়৷ ২০০৫ সালে সিয়ামার্ক পূর্ব ম্যানচেস্টারে ৬.২৫ একর জমির উপর আরও একটি কারখানা তৈরি করে৷ এরপর আরও একধাপ এগিয়ে এই জায়গায় ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে ভারমিলিয়ন (Vermilion) নামে একটি থাই খাবারের রেস্তোরা খোলা হয়৷ ভারমিলিয়নের অন্দর সজ্জা সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস এবং এই রেস্তোরার প্রথম তলায় রেস্তোরা যেখানে একসঙ্গে ২০০ জন খেতে পারে৷ দ্বিতীয় তলায় একটি বার আছে৷ এই বারে একসঙ্গে ৩০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দ্বিতীয় তলাতেই একটি অনুষ্ঠান কক্ষ আছে৷ প্রায় ১০০ জন মানুষ এখানে একসঙ্গে বসতে পারেন৷ প্রতিটি ইউনিটেরই একটি করে বার ও রান্নাশালা রয়েছে এবং ছোট বড় যে কোনও অনুষ্ঠান সে বিয়েবাড়িই হোক বা কোনও ব্যবসায়িক কনফারেন্স এই রেস্তোরায় অনায়াসে আয়োজন করা যায়৷

ইকবাল দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিভিন্ন কমিটির পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন৷ এই সমস্ত কমিটির মধ্যে বাণিজ্য ও শিল্প দফতরের অধীনে সাউদার্ন এশিয়া অ্যাডভাইসারি গ্রুপ, দ্য কমপিটিটিভনেস কাউন্সিল, ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে বন্ড (BOND), এবং ম্যানচেস্টার ফোরাম উল্লেখযোগ্য৷ তিনি নিউ ইস্ট ম্যানচেস্টার লিমিটেডের একজন ডিরেক্টরও বটে৷ এই সংস্থাটি ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিল, ইংলিশ পার্টনারশিপ, এবং নর্থ ওয়েস্ট ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির একটি যৌথ উদ্যোগ যা পূর্ব ম্যানচেস্টারের পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছে৷ ২০০৬ সালে তিনি সরকারের খাদ্য শিল্প সুরক্ষা কৌশলের (Food industry Sustainability Strategy বা FISS) অধীনে গঠিত এথিক্যাল ট্রেডিং চ্যাম্পিয়নস গ্রুপের সদস্য হয়েছিলেন৷ হিমায়িত খাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির হয়ে তাদের  সুবিধা অসুবিধার কথা পেশ করার যোগ্য প্রতিনিধিত্ব ইকবালই করে থাকেন৷ ব্রিটিশ ফ্রোজেন ফুড ফেডারেশন তাঁকে চ্যাম্পিয়নস গ্রুপের পদ পাওয়ার জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করেন এবং ২০০৭ সালের মার্চ মাসের শেষে তাঁর সমর্থনে তাদের অভিমত ও সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করা হয়৷

তিনি বাংলাদেশ ব্রিটিশ চেম্বার অফ কমার্সের (Bangladesh British Chamber of Commerce) উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের সভাপতিও (Northwest Regional President) ছিলেন৷ ২০০৭ সালে জর্জ অসবর্ণ (Shadow Chancellor) তাঁর সদ্য প্রতিষ্ঠিত নিউ এন্টারপ্রাইজ কাউন্সিলে (New Enterprise Council) যোগদানের আমন্ত্রণ জানান৷ তিনি ব্রিটেন ও বাংলাদেশের প্রচুর দানকর্মের সঙ্গেও যুক্ত৷ উত্তর পূর্ব বাংলাদেশের সিলেটের একটি স্কুল ও কলেজের (Burunga Iqbal Ahmed High School and College) তিনিই প্রতিষ্ঠাতা৷ সব মিলিয়ে ১২০০ জন ছাত্র এখানে পড়াশোনা করেন৷ তিনি মসজিদ-উল অক্সা ইসলামিক সেন্টারের (Masjid-ul-aqsa Islamic Centre) প্রতিষ্ঠাতা ও সহ সভাপতি৷

তাঁর পেশাগত জীবনের বাইরে তিনি বিভিন্ন তথ্যচিত্র, চলচ্চিত্র দেখতে ভালবাসেন৷ গল্ফ, টেনিস, সাঁতারের মতো খেলাধুলোতেও তাঁর সমান আগ্রহ৷


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে