Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

ভালোবাসার গানগুলো গাইতে হবে এখনই

ভালোবাসার গানগুলো গাইতে হবে এখনই
শহীদ কাদরী। ১৯৫০–এর দশকের একজন প্রখ্যাত কবি। তাঁর বেশ কিছু কবিতা এখনো অপ্রকাশিত, কিছু অগ্রন্থিত। অপ্রকাশিত ও অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে অচিরেই প্রথমা প্রকাশন থেকে বের হচ্ছে কবির শেষ মৌলিক কবিতার বই গোধূলির গান। কবির জন্ম ও মৃত্যুর মাসে সেই পাণ্ডুলিপির অপ্রকাশিত কয়েকটি কবিতা ছাপা হলো এই আয়োজনে .... আমাদের শেষ গানগুলো হন্তারকদের অস্ত্রের ছায়ায় লালিত আমরা প্রত্যেকে আজ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানুষ। এমন এক দুঃসময়ের মধ্যে আমরা বসবাস করছি, যখন দেশে-দেশে উত্থান ঘটছে আণবিক অস্ত্রের আমাদের শেষ গানগুলো এখুনি গাইতে হবে— মানবিক বন্ধনের, প্রেমের, অপার ভালোবাসার গানগুলো গাইতে হবে এখনই অন্ধকার সময় থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য গানগুলো আমাদের সম্বল। রাত্রি যেমন নক্ষত্রের পক্ষে গাছগুলো যেমন নতুন পত্রালির উত্থানের পক্ষে নদীগুলো যেমন কল্লোলিত ধ্বনির পক্ষে ফাঁসির আসামি যেমন ক্ষমাপ্রাপ্তির পক্ষে আমাদের গানগুলোকে দাঁড়াতে হবে সন্তানসম্ভবা মহিলাদের পক্ষে পর্বতচূড়া আর সমুদ্রের বিস্তারের পক্ষে এই গ্রহের প্রতিটি ঘাসের শিখার পক্ষে। এখন সেই দুঃসময়, যখন আমাদের গাইতে হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ গানগুলো ....................... উত্তর নেই না। উত্তর জানে না কেউ, না ওই সোনালি সোমত্ত গাছ, না ওই যে অ্যাকুয়ারিয়ামের লাল, নীল, রুপালি মাছ। এমনকি রবীন্দ্রনাথেরও উত্তর ছিল না জানা। আমাদের…

সেদিনও ভোর হবার কথা ছিলো

সেদিনও ভোর হবার কথা ছিলো
সেদিনও ভোর হবার কথা ছিলো এই বাংলার আকাশে আবহমান নিয়ম মত কিন্তু, কালো অন্ধকারের নেশাগ্রস্ত – ‘লাল-সবুজ’ বিদ্বেষী ‘পাক’ অনুগত হঠাৎ কিছু হায়েনার রক্ত পিপাসা জাগে-বাতাসে ভাসাতে রক্তের গন্ধ থমকে দিতে বাংলাদেশ। দীর্ঘায়িত করতে রাত। কণ্ঠ করতে স্তব্ধ। স্টেনগান হাতে উদ্ভ্রান্ত হায়েনার দল এসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক স্বপরিবারে জাতির জনককে করে খুন-জাতির কপালে ছাপে কলঙ্ক তিলক। খুন…

শহুরে পাখি আর গাঁয়ের পাখি 

শহুরে পাখি আর গাঁয়ের পাখি 
একটি পাখি শহর থেকে এলো আমার গাঁয়ে তাকে আমি আদর করে বসতে দিলাম ছায়ে। শহর জুড়ে বানের পানি শুকনো মাটি নেই ঘুরে ঘুরে একটু খাবার পাই না কিছুতেই। এই যে দেখ সবুজ শ্যামল মাঠ ফসলে ভরা চাষির হাতে যতন করে আদর দিয়ে গড়া। আপন মনে হেসে খেলে যা মনে চায় খাবে  এমন মজার খাবার তুমি কোথায় বল পাবে! থেকে গেল শহুরে পাখি গাঁয়ের পাখির সাথে খায় দায় ফূর্তি করে আনন্দেতে মাতে। গাঁয়ের পাখির ভালোবাসায় শহুরে পাখি…

ছেলেবেলা

ছেলেবেলা
কোথায় আমার হাওর-বাওড় কোথায় সবুজ বীথি, কোথায় আমার নবান্নের মাঠ শুকনো মাঠের সিঁথি। সবখানে আজ বসত বাড়ি বাগান বাড়ি কই! কোথায় আমার ছেলেবেলার কোলাহল হইচই। কোথায় আমার জবা বকুল হাসনাহেনা  জুঁই, স্মৃতির পাতা উল্টে এখন বিঁধছে বুকে সুই। কোথায় আমার ডাহুক ডাকা শিশিরভেজা ভোর, জলছিটানো সকাল বেলার কপাট খোলা দোর। পাই না…

দুই বিঘা জমি

দুই বিঘা জমি
শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই – চেয়ে দেখো মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই। শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা – ওটা দিতে হবে।’ কহিলাম তবে বক্ষে…

হাওরের সৈনিক

হাওরের সৈনিক
সকাল হতে রাত অবধি যায় খেটে সে নিরবধি কভু নাহি থামে, আগুন ঝরা রোদে পোড়ায় বজ্রেরে সে নাহি ডরায় কি আসে যায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি যদি নামে। । পানতা ভাতে মরিচ পেঁয়াজ তার'চে ভালো জুটেনি আজ মন্দ কি বা তাতে, ছিন্ন জামা চাপিয়ে গায় মাঠের পানে যায় ছুটে যায় কাঁধে করে লাঙল জোয়াল কাস্তে নিয়ে হাতে। । রোগ বালাইয়ে থামলে কভু সহায়…

আমার কৈফিয়ৎ

আমার কৈফিয়ৎ
বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’, কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি! কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে! যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’ দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী! কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে! বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে…

বর্ষাকাল

বর্ষাকাল
কোথায় আমার হিজল তলার বর্ষা কালের ফুল, কোথায় আমার খেলার সাথীর হারিয়ে যাওয়া দুল। বর্ষা এলে কিশোর বেলায় যাই হারিয়ে আবার, হাঁটু জলে দল বেঁধে সব গা ভেজাতাম সবার। পুকুর-নদী ডোবা-নালায় জল থৈ থৈ খেলা, এক নিমিষে যাই হারিয়ে ভাসিয়ে মনের ভেলা। আকাশ জুড়ে মেঘের সারি বৃষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর, কোলাব্যাঙের ডাক শুনে ঐ মন ছুটে…

ফররুখ আহমদের কবিতা ‘ডাহুক’

ফররুখ আহমদের কবিতা ‘ডাহুক’
রাত্রিভ’র ডাহুকের ডাক.... এখানে ঘুমের পাড়া, স্তব্ধদীঘি অতল সুপ্তির! দীর্ঘ রাত্রি একা জেগে আছি।           ছলনার পাশা খেলা আজ প’ড়ে থাক,           ঘুমাক বিশ্রান্ত শাখে দিনের মৌমাছি,           কান পেতে শোনো আজ ডাহুকের ডাক। তারার বন্দর ছেড়ে চাঁদ চলে রাত্রির সাগরে ক্রমাগত ভেসে ভেসে পালক মেঘের অন্তরালে,…

দাগ

দাগ
চলো, মাটি খুঁড়ে আজ স্মৃতি পুঁতে রাখি। যা কিছু হয়নি বলা, থাক বাকি। সম্পর্কের রক্ত- মাংস- হাড় জংলা ঝোপের দাগে। আবেগের শাবল সামলে রাখি; জমানো যা কিছু আমার ভাগে, দিয়ে যাব সব, মাটি খুঁড়ে শুধু স্মৃতি পুঁতে রাখি।   জেগে থাকা যত হিসেবের ভিড়, কালচে গোলাপেও গন্ধ লুকিয়ে থাকে। বইয়ের তাকে জমে থাকা ধুলো, অস্তিত্বেও তার স্মৃতি…

যৌবনে জীবনে তুমি

যৌবনে জীবনে তুমি
তোমারই আভায় নিত্য নবরূপে তোমাকে দেখার আকাঙ্ক্ষার দীপ জেলে হৃদয়ে কৈশর-যৌবনের সারাপথ হেঁটেছি, জীবন আমার একার নয় জেনেছি এবং তোমাতেই সমর্পণ করেছি; রেখেছি একাগ্র দৃষ্টির আলো পথে ফেলে যে পথের ধূলি মেখেছি সর্বাঙ্গে আর কারার নির্মম অন্ধকার উপেক্ষা করেছি মুক্ত বুক সঙনের মুখে পেতেছি নির্ভয়ে শুধু এক অকৃত্রিম বাসনায়।…

সিদরাতুল মুনতাহার বর্ষার ছড়া

সিদরাতুল মুনতাহার বর্ষার ছড়া
বৃষ্টির ছড়া বৃষ্টি শেষে রামধনুতে  সাতটি রঙের খেলা, হীরক কুচি বৃষ্টি ফোঁটায় প্রজাপতির মেলা। উড়ে বেড়ায় ফড়িংরাজা লাফায় পুঁটি মাছ, মাতাল করা সুবাস ছড়ায় কদম কেয়ার গাছ। মেঘের আড়ে মুখটি লুকায় হলদে রবি মামা, কাদার মাঝে পিছলে পড়ে ভেজে খুকুর জামা। **** বর্ষাধারা পুকুর ভাসে ডোবা ভাসে ভাসে গাঁয়ের ঝিল, বজ্রপাতে আঁতকে…

 1 2 3 >  শেষ ›
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে