Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২০-২০১৭

তনু হত্যা: সিআইডিকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

তনু হত্যা: সিআইডিকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

কুমিল্লা, ২০ মার্চ- দেশব্যাপী বহুল আলোচিত কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছরেও ঘাতকরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ২০ মার্চ সোমবার তনুর হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবিতে সিআইডিকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপির একটি কপি কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরও দেয় গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা শাখা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা জেলার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান, নারী সংগঠক মমতা রায়হান মম, কবি সৈয়দ আহাম্মদ তারেক, নাবিল হাসান অনিমেশ ও খন্দকার মহিবুল হক।

এছাড়াও সোমবার দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের কলা ভবনের সামনে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নাজিমুল হক স্বপন, সজীব ও সোহাগ প্রমুখ। এ সময় তনুর সহপাঠীদের আবেগঘন বক্তব্যে অন্য শিক্ষার্থীরা অশ্রুসজল হয়ে পড়ে। এছাড়া কলেজে মসজিদে মিলাদের আয়োজন করে তনুর সংগঠন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লা জেলার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘হত্যার এক বছরেও মামলার কোনও অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সিআইডি। এর প্রতিবাদে তথ্য অধিকার আইনে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা একটি দাবি উত্থাপন করেছি। আগামী ১০ দিনের ভেতর সিআইডি যদি কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি উল্লেখ করতে না পারে তাহলে ২ এপ্রিল থেকে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে লাগাতার আন্দোলনে নামবো। আমরা আশা করি অচিরেই তনু হত্যাকারীদের শনাক্ত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

এদিকে তনুর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরেও মিলাদের আয়োজন করা হয়। ঘটনার পর থেকে তদন্তকারী সংস্থা একাধিকবার পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে কুমিল্লা সিআইডি। ধীরে ধীরে এ মামলার কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার। কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়ার কথাও রয়েছে। তনুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদ মাহফিলে মুরাদনগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও বাবা ইয়ার হোসেন রোববার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে তনুর মা জানান, তনুর কবর জিয়ারত ও মিলাদ পড়াতে বাড়িতে এসেও শান্তি নাই, বাড়িতেও গোয়েন্দারা আমাদের ফলো করছে। তিনি বলেন, দেশে সকল হত্যার রহস্য বের হয়, তাদের সাজাও হচ্ছে। কিন্তু আমার মেয়ের (তনু) খুনিরা এখনো সনাক্ত ও গ্রেফতার হইলো না কেন? এখন সিআইডিকে কিছু বললেই তারা বলে, মিডিয়ায় এতো কথা না বলে চুপ থাকতে, বাড়াবাড়ি না করতে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, গত এক বছরেও খুনিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃংখলা বাহিনী। আমাদের জন্য আল্লাহ; আছেন, দুনিয়াতে এ বিচার না পেলেও পরকালে মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তি হবেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার পর এর ফলাফল সম্পর্কে আমাদেরকেও কিছুই জানানো হচ্ছে না।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-কুমিল্লা। ঘটনার পর পর ঘাতকদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মহলসহ দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠলেও ধীরে ধীরে সবই থেমে গেছে। তনুর লাশের দুই দফা ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্তকারী সংস্থা, কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি তনু হত্যা মামলা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমি ঢাকায় আছি, মামলাটির তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলছে, তাই তদন্তাধীন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় কুমিল্লা সিআইডি। 

গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছিল।

তবে দীর্ঘ এক বছরেও তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রানু পেলেও এ পর্যন্ত ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের সনাক্ত করতে না পারায় এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তনুর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এফ/২১:৩২/২০মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে