Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১২-২০১৭

নিজের জমি বিক্রি করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করলেন রাজমিস্ত্রি ছগির

এস এম সামছুর রহমান


নিজের জমি বিক্রি করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করলেন রাজমিস্ত্রি ছগির

বাগেরহাট, ১২ ফেব্রুয়ারি- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনে ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ফেলেন বাগেরহাটের শরণখোলার ছগির হোসেন। সেই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা প্রকাশ করার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়বেন। কিন্তু পেশায় রাজমিস্ত্রি ছগির হোসেনের এমন কোনও সহায়-সম্পদ নেই যা খরচ করে এই ভাস্কর্য গড়তে পারেন তিনি। কিন্তু তাতে থেমে যাননি ছগির। নিজের বসতভিটার ৫ কাঠা জমির মধ্যে ৩ কাঠা জমি বিক্রি করে সেই টাকায় গড়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। সাড়ে সাত ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যটি এখন তিনি উপহার দিতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

এলাকাবাসী জানান, শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি ছগির হোসেন রাজমিস্ত্রির জোগাল (সহযোগী) হিসেবে কাজ করতেন। পরে তিনি একই এলাকার প্রতিবন্ধি সুমী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় শশুর বাড়ি থেকে ৫ কাঠা জমি উপহার পান তিনি। ওই জমিতেই ঘর বেঁধে সংসার শুরু করেন ছগির। তিন সন্তানের জনক ছগির এক সময় জোগাল (সহযোগী) থেকে রাজমিস্ত্রি হয়ে যান।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের ইচ্ছা তার ছিল আগে থেকেই। কিছুদিন আগে এই ইচ্ছার কথা তিনি জানান নিজের স্ত্রীকে ও শ্বশুর বাড়িতে। কিন্তু রাজমিস্ত্রি ছগিরের এমন কোনও সঞ্চয় ছিল না যা দিয়ে তিনি ভাস্কর্যটি তৈরি করবেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের সময় পাওয়া ৫ কাঠা জমির ৩ কাঠা বিক্রি করে ওই ভাস্কর্য তৈরির সিদ্ধান্ত নেন ছগির।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ছগির আর দেরি করেননি। বিক্রি করে দেন ৩ কাঠা জমি। এরপর ছয় মাস সময় নিয়ে তিনি তৈরি করে প্রায় সাড়ে সাত ফুট উঁচু পাঁচশ কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।


নরাজমিস্ত্রি ছগির বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের ইতিহাস শুনে বঙ্গবন্ধুকে মনে-প্রাণে ভালবেসে ফেলি। তার জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল মনে। কিন্তু সহায়-সম্বল ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত শ্বশুর বাড়ি থেকে পাওয়া জমি বিক্রি করে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছি।’

ছগির আরও বলেন, ‘কিছু পাওয়ার আশায় না, কেবল ভালোবাসা থেকে আমি এটা বানিয়েছি। এবার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীকে ভাস্কর্যটি উপহার দিতে পারলেই আমার মনের আশা পূরণ হবে।’

ছগিরের স্ত্রী প্রতিবন্ধী সুমি বেগম বলেন, ‘এটা বানাতে গিয়ে আমাদের কষ্ট হয়েছে, খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে। কিন্তু দুঃখ নেই। তার (ছগির) মনের আশা তো পূর্ণ হয়েছে, এটাই বড়।’

ছগিরের শ্বাশুড়ি এলাচি বেগম বলেন, ‘ছগির আমাদের দেওয়া জমি বিক্রি করে এই ভাস্কর্য তৈরি করেছে। আমরা এতেও খুশি হয়েছি।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতি এমন ভালোবাসার নিদর্শনে মুগ্ধ এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ছগিরকে দেখে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। স্থানীয় মাহফুজুর রহমান বাবু বলেন, ‘একজন দরিদ্র মানুষের মনে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে তা দেখে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. সালাম সেপাই বলেন, ‘ছগির মিস্ত্রির বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।’

শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন বলেন, ‘ছগির বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে তা দেখার মতো।’

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন ছগিরের এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি যেন সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছতে পারে সেই সুপারিশ করবো।’

আর/১২:১৪/১২ ফেব্রুয়ারি

বাগেরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে