Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০২-২০১৭

'অসন্তুষ্ট' ডাক্তার স্বামীকে খুশি করতে যা করলো এই নারী

'অসন্তুষ্ট' ডাক্তার স্বামীকে খুশি করতে যা করলো এই নারী

রাজশাহী, ০২ ফেব্রুয়ারি- রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার নগর মাতৃসদন থেকে নবজাতক চুরি যাওয়া ঘটনায় ব্যাপক জেরার মুখে শাহিন আকতার শুভ্রা (৩২) জানিয়েছেন- তার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। কিন্তু ছেলে সন্তানের জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। তাই একাধিকবার ভ্রুণ নষ্ট করেন তিনি।

তিনি নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নগরীর আলুপট্টি ক্যাম্পাসের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। গত কয়েক বছরে শুভ্রা একাধিকবার গর্ভধারণ করেছিলেন।

কিন্তু প্রতিবারই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখা যায় গর্ভে মেয়ে সন্তান। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। ফলে প্রতিবারই গর্ভপাত করেন শুভ্রা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মতিয়ার রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শুভ্রা বাচ্চাটিকে চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে তহুরার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন।

রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার নগর মাতৃসদন থেকে চুরি হয়ে যাওয়া নবজাতকটি উদ্ধারের পর তার ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাবা-মায়ের পরিচয় নিশ্চিত হতে পুলিশ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষা করতে বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে ১৪ দিন বয়সী ওই বাচ্চাটিসহ তার মা-বাবা মুক্তি খাতুন (১৮) ও নাসির উদ্দিনের (২২) রক্তের নমুনা ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক আমেনা খাতুন তাদের এই নমুনা সংগ্রহ করেন। হাসপাতালে তাদের সঙ্গে মুক্তির বাবা মুক্তার আলী, মামা শহিদুল ইসলাম ও বাচ্চা চুরির ওই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহমখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিয়ার রহমানও এসেছিলেন।

ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে এসআই মতিয়ার বলেন, 'আমরা প্রায় নিশ্চিত-বাচ্চাটি মুক্তি খাতুনেরই। তারপরেও কোনো ধরণের বিতর্ক যেন না থাকে সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।'

তিনি আরও জানান, রামেক হাসপাতালের এই ল্যাবরেটরি থেকে নমুনা ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই প্রতিবেদন আসবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মতিয়ার রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শুভ্রা বাচ্চাটিকে চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে তহুরার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন।

তাই মামলার অভিযোগপত্র থেকে তহুরাকে বাদ দেয়া হবে। আর আদালতের আদেশ অনুযায়ী শুভ্রাকে আবার আদালতে তোলা হবে। তখন তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন।

তিনি বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শুভ্রা প্রথমে দাবি করছিলেন- মুক্তির পরিবারের কাছ থেকে বাচ্চাটি তিনি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরপর ব্যাপক জেরার মুখে শুভ্রা জানিয়েছেন- তার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। কিন্তু ছেলে সন্তানের জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল।

গত কয়েক বছরে শুভ্রা একাধিকবার গর্ভধারণ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখা যায়, গর্ভে মেয়ে সন্তান। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। ফলে প্রতিবারই গর্ভপাত করেন তিনি।

শুভ্রা পুলিশকে জানান, সর্বশেষ যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন তখনও আল্ট্রাসনো করে গর্ভে মেয়ে সন্তানের খবর জানতে পারেন। ফলে স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছে।

এ কারণে গত ৮ মাস ধরে তার স্বামী বাড়িতে আসতেন না। তিন মাস আগে তিনি আবার গর্ভপাত ঘটান। কিন্তু স্বামীর কাছে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর তিনি একটি ছেলে সন্তান চুরির পরিকল্পনা করেন।

দীর্ঘ প্রস্তুতির পর মুক্তির বাচ্চা চুরির পর শুভ্রা তার স্বামীকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এভাবে তিনি তার সংসার রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি নওদাপাড়া এলাকার নগর মাতৃসদনে পবা উপজেলার চর শ্যামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের ছয় ঘণ্টা পর নবজাতকটি চুরি হয়ে যায়।

এ ঘটনায় মুক্তির মা রোজিনা বেগম থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ নগরীর ডাঁশমারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী তহুরা বেগমকে (৩০) গ্রেফতার করে।

পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বাচ্চা উদ্ধারের কোনো কিনারা করতে পারছিল না পুলিশ। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে অভিযুক্ত এক নারীর ছবি ও সংবাদ ছাপা হয়।

ওইদিনই সকালে নগরীর টিকাপাড়া বাশার রোড এলাকার জনৈক পাঠক ফোনে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে বিষয়টি যুগান্তরের পক্ষ থেকে মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামকে জানানো হয়। এরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ নবজাতকটিকে উদ্ধার করে।

এ সময় শাহিন আকতার শুভ্রাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বাগমারা উপজেলার মান্দিয়াল গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। তার স্বামী একজন চিকিৎসক। তবে এরই মধ্যে বাচ্চা চুরির অভিযোগে পরদিন শুভ্রাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে মুক্তি খাতুনের জিম্মায় দেয়া হয়। আর শুভ্রাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আর/১৭:১৪/০২ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে