Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৪-২০১৭

'ভিক্ষার ঝুলি আমার একমাত্র সম্বল'

ছোটন শিকদার


'ভিক্ষার ঝুলি আমার একমাত্র সম্বল'

শরীয়তপুর, ২৪ জানুয়ারি- শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন খন্দকারের ছেলে মো. আবু তালেব খন্দকার। ১৯৭১ সালের দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে মাতৃভুমিকে রক্ষার মানসে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে ভেদরগঞ্জ অঞ্চলে যুদ্ধকালীন কমান্ডার এসএম কামাল উদ্দিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে যোগ দেন।

৭১ এর আগষ্ট থেকে পাক বাহিনীকে সারেন্ডার করানোর পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। আবু তালেব খন্দকারকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি একটি পরিচয়পত্র প্রদান করে। আবু তালেব খন্দকার স্বাধীনতার পর থেকে বার বার আবেদন করার পরও এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হতে পারেন নি।

৮ কন্যা সন্তানের বাবা মো. আবু তালেব খন্দকারের বয়স হয়ায় এখন আর কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে পারছেন না। তাই সংসারের চাকা ঘরাতে হাতে নিয়েছেন ভিক্ষার ঝুলি।

ভিক্ষা করেই ৬৫ বছরের মানুষটি তাঁর দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ৩ মেয়েকে লেখা পড়ার খরচ চালাচ্ছেন। বয়স হলেও টাকার অভাবে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না। ১৯৭১ সালে থেকে ২০১৬ । স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ । পাল্টে গেছে বাংলার চিত্র । কিন্তু পাল্টায়নি আবু তালেব খন্দকারের ভাগ্য।

মো. আবু তালেব খন্দকারের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেও এখন পর্যন্ত মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ। পাইনি কোন ভাতা বা সরকারি সাহায্য । তাই ভিক্ষার ঝুলি আমার একমাত্র সম্বল। তিনি আরো বলেন, যখন শরীরে শক্তি ছিলো তখন কৃষিকাজ করে সংসার চালাতাম। এখন আর শরীরে শক্তি নাই কেউ কাজেও নেয় না। তাই সংসার চালাতে ভিক্ষার ঝুলি নিয়েছি।

আবু তালেব খন্দকার জানান, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এলাকায় ভিক্ষা করতে লজ্জা লাগে। মান সম্মানের ভয়ে অনেক দূরে গিয়ে ভিক্ষা করেন বললেন তিনি। নড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুর রহমান খান বলেন, আবু তালেব খন্দকার ৭১এর আগষ্টে পন্ডিতসার চাকলাদার বাড়ী ক্যাম্পে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত করার ক্যাটাগরিতে না পড়ায় তাকে তালিকভূক্ত করা হয়নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সাত্তার খান বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবে তা হতে পারে না। আর এ তথ্য আমার জানা নেই। নড়িয়া উপজেলা কমান্ডার আব্দুল হাছিন খান ও যুদ্ধকালিন কমান্ডার এস এম কামাল উদ্দিনের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

দেশ স্বাধীন করে যারা বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছে। তাদের মধ্যে আজও এমন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আছে যাদের হাতে ভিক্ষার ঝুলি, কাধে ফেরীর ব্যাগ। যাদের কাছে কোন সনদ নেই। তাদের অভিজ্ঞতাই তাদের সনদ। তারা কেবল সুবিধা বঞ্চিতই নয় রীতিমতো অবহেলিতো।

আর/১০:১৪/২৪ জানুয়ারি

শরীয়তপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে