Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৭-২০১৬

লুই কানের মূল নকশা পেলেই জিয়ার কবর অপসারণ

পাভেল হায়দার চৌধুরী


লুই কানের মূল নকশা পেলেই জিয়ার কবর অপসারণ

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর- লুই আই কানের আঁকা মূল নকশার অপেক্ষায় রয়েছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর অপসারণের উদ্যোগটি। মূল নকশা হাতে পাওয়ার পরপরই জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তৈরি করা এ কবর সরানোর কাজে হাত দেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কবর সরানোর জন্য চলতি বছরকে টার্গেট করে সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করে রেখেছে। সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিতে জিয়ার কবর অপসারণ করা হচ্ছে না। কাজটি করা হবে শুধু সংসদ সচিবালয়ের সৌন্দর্য রক্ষার স্বার্থেই।’ 

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের সীমার ভেতরে নকশায় যা আছে, শুধু তাই থাকবে। মোদ্দা কথা সেখানে মূল নকশাই আমরা প্রতিস্থাপন করব। এটা করতে গিয়ে সেখানে কারও কবর থাকলে তাও অপসারণ করা হবে।’ কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছরই মূল নকশা প্রতিস্থাপন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নকশায় যা আছে, তাই থাকবে। নকশার বাইরে যা কিছু আছে, সেগুলো থাকবে না। কারণ এটা একটা জাতীয় সম্পদ, জাতীয় সংসদের সীমানা। আমি মরে গেলাম, শেখ হাসিনা মরে গেলেন, আর সেখানে কবর করে ফেলব, এটা হয় না।’ দীর্ঘদিনের পুরনো কবর অপসারণ করতে গেল এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিয়া তো মহাপুরুষ নন। সংসদ ভবনের নকশায় তিনটা প্লাজা আছে। প্রবেশপথের মধ্যখানে একটা কবর দিয়ে দিলেন, এটা কখনও হয়? এটা বর্বরতা, বিকৃত মানসিকতা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে আমি এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না। এটি সরকারের বিষয়।’

সূত্র জানায়, সরকার ও সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যেই সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়ার কবর সরানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লুই কানের আঁকা সংসদ সচিবালয়ের মূল নকশা আনার যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। এই নকশা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লেনদেনও চুকিয়ে ফেলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের মধ্যে মূল নকশা হাতে এসে পৌঁছুবে। এরপরই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কবর অপসারণের ব্যবস্থা নেবে। 

সব মিলিয়ে এ বছরই এ কাজটি করা সম্ভব হবে বলে জানান সংবাদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘মূল নকশা ছাড়া এ কাজে হাত দিলে বিতর্ক উঠতে পারে—এই কারণে মূল নকশা হাতে রাখতে চায় সরকার ও সংসদ সচিবালয়। এ খাতে আর্থিক যে ব্যয় হবে, তাও ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে সংসদ সচিবালয়।’ তিনি আরও জানান, ‘নকশা হাতে পেলে সংসদ ভবনের কিছু সংস্কার কাজও করা হবে। নকশা আনার আগে সংসদ ভবন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছে সংসদ সচিবালয়। নকশা পাওয়ার পরই তা দেখে চূড়ান্তভাবে সীমানা নির্ধারণ করেই কবর সরানোর কাজ শুরু হবে।’

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘কবর সরানোর বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয় ও গৃহায়ন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কয়েক দফা বৈঠক করেছে। আমরা সংসদ সচিবালয়ের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন নকশার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘কবর সরানোর সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। কেবল সংসদ ভবনের নকশার বাস্তবায়নের স্বার্থেই। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয়েছে।’

এদিকে, শুক্রবার সকালে বান্দরবান সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী নেতারা বলছেন, লুই কানের মূল নকশা প্রতিস্থাপন হবেই। এটা নিয়ে কোনও মহলের অন্যায় আবদার, আন্দোলনের হুমকি ও সমালোচনা আমলে নেওয়া হবে না। নেতাদের দাবি, সংসদ ভবন এলাকা সুরক্ষিত এলাকা। জিয়ার জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে অবাধে যাতায়াত নিরাপত্তা হুমকি। বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে জিয়ার কবর নির্মাণ করে সেখানে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘বিএনপি হীন মানসিকতা থেকে জিয়ার কবর সেখানে করেছে। আরও অনেক জায়গা থাকতে সেখানে কবর দিতে হবে কেন? তাই কবর অপসারণের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।’   

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘সংসদ সচিবালয়ের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য কবর সরানো প্রয়োজন। কাজটি কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়। সংসদ ভবন সচিবালয়ে নকশায় কোনও কবর স্থানের অস্তিত্ব নেই। সেখানে একটি কবর দিয়ে জায়গাটিকে কবরস্থান বানানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘এ কারণেই সংসদ সচিবালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় জিয়াউর রহমানের কবর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরেরই ৭ জুলাই একনেকের সভায় তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি লুই আই কানের নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কবরগুলো যদি সরানোর দরকার হয়, তাহলে সরকার তা করবে।’  এরপরই এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে ১৪ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে স্থপতি লুই আই কানের নকশায় শেরেবাংলা নগর এলাকায় কবরস্থানের জন্য কোনও জায়গা রাখা হয়নি উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের কবরসহ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সব ক’টি কবর সরানোর পক্ষে মত দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এদিকে, গত দু্ই বছরে বিভিন্ন সময়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ  বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর দাবি তুলেছেন।

প্রসঙ্গ, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর তার লাশ সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৭ মাইল দূরে রাঙ্গুনিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দুই মাইল দূরে পাথরঘাটা নামক একটি গ্রামে পাহাড়ের ঢালুতে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ১ জুন সকাল ১১টায় জিয়ার লাশ তোলা হয়। ওইদিন বিকাল পৌনে ৪টায় বিমানবাহিনীর একটি বিমানে চট্টগ্রাম থেকে লাশ ঢাকায় আনা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চন্দ্রিমা উদ্যানে ২ জুন এই কবর স্থাপন করা হয়। এর প্রস্তাবক ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ।

আর/১০:১৪/১৭ সেপ্টেম্বর 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে