Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১৬-২০১৬

টঙ্গীর টাম্পাকো ট্র্যাজেডিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

টঙ্গীর টাম্পাকো ট্র্যাজেডিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

গাজীপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর- টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালে থাকা আহতদের মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত মনোয়ার হোসেন (৪০) টাম্পাকো কারখানার লেদ সেকশনের ইনচার্জ ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার আনাখন্দ এলাকার মমতাজ উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে। এ নিয়ে টাম্পাকোর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। টাম্পাকোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গী থানার এসআই সুমন ভক্ত এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৪ জন নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মনোয়ার হোসেনের ভাতিজা রবিউল বাশার সুজন জানান, শনিবার দুর্ঘটনার দিন কারখানার ধসে পড়া দেওয়ালে তার চাচা চাপা পড়েন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সা পেতে বিলম্ব হওয়ায় তাকে ধানমন্ডির নদার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে সংজ্ঞাহীন ছিলেন। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। রবিউল বাশার আরো জানান, তার চাচা মনোয়ার হোসেন স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে টঙ্গীর ফকির মার্কেট এলাকায় ভাড়া থেকে টাম্পাকো কারখানায় চাকরি করতেন।

এদিকে বৃহস্পতিবারও সেনাবাহিনীর সদস্য ও ফায়ার ব্রিগেডের লোকজন টাম্পাকোর ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। গত সোমবার ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার এবং হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অপর একজনসহ মৃতের সংখ্যা ৩৪-এ দাঁড়ায়। এখনো বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে দুর্ঘটনাস্থলের পাশে স্থাপিত জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুম থেকে জানা গেছে।

গত সোমবার ঈদের আগেরদিন ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সদস্যরা টাম্পাকো কারখানায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তাদের সহায়তা করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম মাহমুদ হাসান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানান, টাম্পাকোতে রানা প্লাজার চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসস্তূপ। এই ধ্বংসস্তূপ সরাতে মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। এমনকি দুই মাসও লাগতে পারে। এটা বলা মুশকিল।

অপরদিকে, টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে নিহত শ্রমিক জুয়েল পাটওয়ারীর পিতা আব্দুল করিম পাটওয়ারী বাদী হয়ে টাম্পাকোর মালিক সাবেক এমপি সৈয়দ মো. মকবুল হোসেনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদার।

উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত
টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার নিখোঁজ ১০ শ্রমিকের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার কার্যক্রম বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। ঈদের দিনও স্বল্প পরিসরে উদ্ধার কাজ চালানো হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও ধোঁয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজে বুলডোজার, ভেক্যুসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ধসে পড়া ভবনের কংক্রিট রাস্তা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

মানববন্ধন
টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিককে গ্রেফতার এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মঙ্গলবার জাতীয় শ্রমিক জোট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গীর পাদদেশে মানববন্ধন করে। শ্রমিক নেতা আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল, একরামুল হক খান সোহেল, আশরাফুজ্জামান, সুমন মিয়া প্রমুখ।

আর্থিক সহায়তা
গাজীপুর জেলা প্রশাসন টঙ্গীর টাম্পাকো কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিক রিপন দাস ও মনোয়ার হোসেনের স্বজনদের ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এ ছাড়া আহত ১৩ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

১০ শ্রমিক নিখোঁজ
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত এবং কারখানার ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে গাজীপুর জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে। জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম কারখানার নিখোঁজের তালিকা জমা নিচ্ছেন।

যারা নিখোঁজ রয়েছেন তারা হলেন মাগুরা সদরের চনপুর ইডারন গ্রামের আঃ মালেক মোল্লার ছেলে আজিম উদ্দিন (৩৬), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার উকুলকি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩৭), গাজীপুর মহানগরীর হিমারদীঘি আমতলী বস্তি হরিজন কলোনীর দিলীপ ডোমের ছেলে শ্রী রাজেশ বাবু (২২), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মোঃ আবু তাহেরের ছেলে রিয়াদ হোসেন মুরাদ (৩২), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার ঝিগার বাড়িয়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন (৪৫), একই এলাকার সুলতান গাজীর ছেলে মোঃ আনিছুর রহমান (৩০), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার মেছেরা গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪০), চাঁদপুরের কচুয়া থানার তেগরিয়া গ্রামের ইউনুস পাটোয়ারীর ছেলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী (৪৫), কুমিল্লা মুরাদনগর থানার টনকী গ্রামের মোঃ তোফায়েল হোসেনের ছেলে মাসুম আহমেদ (৩০) ও ফরিদপুরের বোয়ালমারি থানার বাহিরনগর গ্রামের মোজাম মোল্লার ছেলে চুন্নু মোল্লা (২২)। গতকাল বৃহস্পতিবারও কন্ট্রোলরুমের সামনে নিখোঁজ স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের খোঁজ নিতে এসে ছবি হাতে নিয়ে আহাজারি করতে থাকে। এ সময় তারা তাদের প্রিয় স্বজনের সন্ধান চান।

আর/১০:১৪/১৬ সেপ্টেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে