Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১৩-২০১৬

পাকিস্তানকে টক্কর দিতে মোদীর নজর এ বার পশ্চিমেও

পাকিস্তানকে টক্কর দিতে মোদীর নজর এ বার পশ্চিমেও

নয়াদিল্লী, ১৩ সেপ্টেম্বর- ‘পুবে তাকাও’ তো আছেই, একই সঙ্গে এ বার ‘পশ্চিমে তাকাও’ নীতি নিয়ে এগোতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির লক্ষ্য পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা ও বাণিজ্য বাড়ানো। আর ‘পশ্চিমে তাকাও’ নীতির অন্যতম লক্ষ্য, ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসের আঁতুড় পাকিস্তানকে বিশ্ব দরবারে আরও কোণঠাসা করে ফেলা। পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে বেশি দহরম-মহরম ইসলামাবাদের। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ শক্তির ভাণ্ডার রয়েছে এই দেশগুলিতে। আগামী এক বছরে এই এলাকার দেশগুলির সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে তৎপর এখন সাউথ ব্লক। সূত্রের খবর, শুধু আলোচনা বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকই নয়, এই দেশগুলির সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে  সমন্বয় এবং যেখানে যেখানে সম্ভব নৌঘাঁটি গড়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সাউথ ব্লকের কর্তাদের মতে এটা অনেকটা শঠে শাঠ্যং নীতি।

গত এক পক্ষকালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর পর বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে। তার ঠিক আগেই এক ডজন চুক্তি সই করেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তা এল সিসি-র সঙ্গে। আগামি কয়েক মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, ইরানের শীর্ষনেতারা একের পর এক আসবেন নয়াদিল্লিতে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট রেউভান রিভলিনকেও। ২০১৭-তে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর উদ্‌যাপন করবে ভারত ও ইজরায়েল। সে সময় দু’দেশের শীর্ষনেতার বৈঠকও হওয়ার কথা।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, আইএস-এর দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের পশ্চিমের এই অঞ্চলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের মধ্যে এসে পড়ছে। নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে সক্রিয়তা বাড়াতে বলা হয়েছে ওই দেশগুলিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের। ইতিমধ্যেই আমিরশাহি, ওমান, কাতার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছে নয়াদিল্লি।

সৌদি আরবের সঙ্গে যে পাকিস্তানের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বহু বার তা বহু ভাবে স্পষ্ট হয়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কট্টর মৌলবাদী সংস্থাগুলিকে অর্থ জোগানোর জন্য বারবার অভিযোগের আঙুল ওঠে ইসলামি ব্যাঙ্কগুলির দিকে। এই ব্যাঙ্কগুলি সৌদি আরবেরই অর্থে পুষ্ট। এ-হেন সৌদি আরবকে ভারতের বাজার, অর্থনীতি ও রণনীতিতে আরও বেশি করে সামিল করার কৌশল নিয়েছে মোদী সরকার। শুধু সৌদি আরবই নয়, এই অঞ্চলের যে সব দেশের সঙ্গে গাঁটছড়া রয়েছে ইসলামাবাদের, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোই লক্ষ্য এখন ভারতের। এমনকী, যে সব দেশ সামরিক তথা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহজাত বন্ধু, তাদেরও কী ভাবে কাছে টানা যায় ভাবা হচ্ছে সে কথাও।

সৌদি আরবের সংস্থা আরামাকো ভারতের শক্তি ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া কাতার ও আমিরশাহির বেশ কিছু সংস্থার সঙ্গেও শক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে কথা এগিয়েছে বেশ কিছুটা। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর অক্টোবরে সৌদি আরব ও আমিরশাহি সফরে যাচ্ছেন। সেই সফরে বিষয়টি নিয়ে কথা পাকা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা ঘরোয়া ভাবে জানাচ্ছেন, মনমোহন সিংহ প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ই পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক শিবির ও বিশেষ করে পাকিস্তান বিভিন্ন ভাবে ভারতের সেই চেষ্টা ঠেকিয়ে এসেছে। খুব বেশি এগোতে পারেনি দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের ওই কর্তাটির কথায় ‘‘এ বারে কিন্তু পাকিস্তানকে দৌড়ে পিছিয়ে দিতে আমরা ঢের বেশি আগ্রাসী ভাবে এগোচ্ছি।’’

আর/০৮:১৪/১৩ সেপ্টেম্বর

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে