Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৬

বিদেশি কূটনীতিকদের বিচারে বাধা ভিয়েনা কনভেনশন

শেখ শাহরিয়ার জামান


বিদেশি কূটনীতিকদের বিচারে বাধা ভিয়েনা কনভেনশন

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর- বিদেশি কয়েকজন কূটনীতিক বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়লেও ‘ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১’-এর কারণে তাদের বিচার করতে পারেনি সরকার। গত দু’বছরে অপরাধে জড়িয়ে পড়া বিচারের আওতা বহির্ভূত এরকম পাঁচ কূটনীতিকের মধ্যে তিনজন ছিল পাকিস্তানি ও দু’জন উত্তর কোরীয়। 

গত বছরের জানুয়ারি মাসে মোহাম্মাদ মাজহার খান নামের এক পাকিস্তানি কূটনীতিককে জালনোটসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, ‘জালনোট ব্যবসার মাধ্যমে মাজহারের উপার্জিত টাকা যেতো হিজবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজে।’ গ্রেফতারের পর পাকিস্তান দূতাবাসের তৎকালীন ফার্স্ট সেক্রেটারি সামিনা মেহতাব তাকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই ব্যক্তিকে প্রত্যাহারের জন্য পাকিস্তান সরকারকে বলা হলে, জানুয়ারি মাসেই ডিপ্লোমেটিক দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের আরেক কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে। এক বছর ধরে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আটক সদস্য ইদ্রিস শেখ স্বীকারোক্তিমূলক এক জবানবন্দিতে ফারিনার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে বলে স্বীকার করে। সেই সময় গোয়েন্দা বিভাগের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেছিলেন,‘এই ইদ্রিস শেখ একটি বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে গোয়েন্দার কাজ করতো।’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফারিনা আরশাদকে প্রত্যাহার করে নিতে বললে গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে ফিরিয়ে নেয় পাকিস্তান।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবরার আহমেদ খান নামের একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন গতিবিধির অভিযোগে গুলশান ২ -এর ৬৯ নম্বর রোড থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তিন ঘণ্টা পর পাকিস্তান দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারির কাছে তাকে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এ বছরের আগষ্ট মাসে হান সন ইক নামে উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের একজন প্রথম সচিবকে চোরাচালানের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড -এর কর্মকর্তারা কমলাপুরের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপোতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কন্টেইনারে তিন কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সিগারেট ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির সন্ধান পায়। কন্টেইনারটি উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ওই কূটনীতিকের নামে আমদানি করা হয়েছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং ওই কর্মকর্তাকে দেশত্যাগের জন্য বলা হয়।   

এর আগে গত বছরের মার্চে শাহজালাল বিমানবন্দরে উত্তর কোরীয় দূতাবাসের সন ইয়ং নামে অপর এক কূটনীতিকের কাছ থেকে ২৭ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। সিঙ্গাপুর থেকে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। সোনা উদ্ধারের পর ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রাচার প্রধান ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানিরা যা করেছে, সেটি ক্রিমিনাল অফেন্স। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১ প্রচলিত এবং এ কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের বিচার করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনও কূটনীতিক যদি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন এবং তিনি যে দেশের নাগরিক তারা যদি তার কূটনৈতিক অব্যাহতি (ইমিউনিটি) প্রত্যাহার করে, তবেই তিনি যে দেশে অপরাধ করেছেন, সে দেশে বিচার করা সম্ভব, অন্যথায় নয়।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘কূটনীতিকদের যেকোনও ধরনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এটাই ভিয়েনা কনভেনশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।বাংলাদেশে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের কূটনীতিকরা যদি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কোনও কাজ করে থাকেন, তবে এর বিরুদ্ধে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের  বহির্ভূতকাজে জড়িয়ে পড়লে তাকে বহিস্কার করা বা প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কূটনীতিক যেদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন, সেই দেশ আশা করে,  যখন তিনি নিজে দেশে ফেরত যাবেন, তখন সে দেশে তার বিচার হবে।’

বাংলাদেশে কর্মরত কোনও বিদেশি কূটনীতিকের বিচার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, তার জানামতে কখনও এমনটি ঘটেনি বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস ১৯৬১- এর ৩১ ধারায় বলা আছে, যেকোনও ধরনের অপরাধমূলক বিচারের আওতা থেকে কূটনীতিকরা মুক্ত থাকবেন। 

আর/১০:১৪/১২ সেপ্টেম্বর 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে