Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১২-২০১৬

হামলার আশঙ্কার কথা আগে থেকেই জানতেন বুশ

বাধন অধিকারী


হামলার আশঙ্কার কথা আগে থেকেই জানতেন বুশ
জর্জ বুশ

ওয়াশিংটন, ১২ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালে সংঘটিত নাইন/ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্তত একমাস আগে থেকেই জানতেন ওই সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ। হামলার পরিকল্পনার কথা জেনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি তিনি, ছিলেন নিরুদ্ধেগ। ২০০৪ সালের এপ্রিলে শীর্ষ প্রভাবশালী মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর সামনে এই বিস্ফোরক খবর হাজির করে। তবে অভিযোগের সপক্ষে কোনও তথ্য-প্রমাণ নথিবন্ধ অবস্থায় হাজির করতে পারেনি তারা। ২০১৫ সালে রাজনীতি-বিষয়ক বিশ্লেষণধর্মী মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ সংক্রান্ত নথি হাজির করে। আর এ বছর হামলার  ১৫তম বর্ষপূর্তিতে  পলিটিকো আরেক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলাকালে বুশ মার্কিন আকাশে কেবল নিজেদের আধিপত্যই দেখতে পাচ্ছিলেন, তারমধ্যে কোনও উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। বুশ যে ওই হামলার কথা জানতেন, তার ইঙ্গিত মিলেছে এবার হামলার ১৫তম র্বষপূর্তিতে প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনেও। কোনও আকষ্মিকতা বোধে আক্রান্ত হননি বুশ, হামলাকালে তিনি নিরুদ্বিগ্ন ছিলেন বলে তারাও প্রমাণ হাজির করেছে। 

এপি জানিয়েছিল, ২০০১ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ওসামা বিন লাদেনের যুক্তরাষ্ট্রে হামলার বিষয়ে ব্রিফিং করে বুশকে। ৯/১১ হামলার একমাসেও বেশি সময় আগে এমন সতর্কতার কথা জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেননি বুশ। হামলা পরবর্তী ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিশন তদন্তের স্বার্থে বুশকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সিআইএর দেওয়া ৬ আগস্টের ব্রিফিং সম্পর্কে জিজ্ঞসাবাদে তদন্ত কমিটি কথা বলে উভয় পক্ষের সঙ্গেই। তদন্ত কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর ২০০১ হামলার মাসখানেক আগেই মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এক ধরনের সতর্ক  সংকেত দিয়েছে। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ‘জুন ও জুলাই মাসে জরুরি অবস্থা দেখানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সতর্কতা আরোপের ক্ষেত্রে সৌদি আরব, ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, ইয়েমেন এবং সম্ভবত রোমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে যে কোনও স্থানেই হামলার আশঙ্কা ছিলো। এর মধ্যে জেনোয়ায় আয়োজিত জি-৮ সম্মেলনে হামলার আশঙ্কা করা হয়।’  

প্রশ্ন ওঠে, তারপরও এসব আমলে নেওয়া হলো না কেন? ওই সময়ের প্রতিরক্ষা বিষয়ক ডেপুটি সেক্রেটারি পল উলফউইটজ দাবি করতে চান, ‘ওসামা বিন লাদেন সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া দেখতে চাইছিলেন’।


সিআইএর দেওয়া সতর্কতার সেই গোপন নথি

যে কমিশন বুশকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, তার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়েই খবরটি প্রকাশ করেছিল এপি। প্রমাণ হিসেবে কোনও নথি হাজির করতে সমর্থ হয়নি তারা। তবে ২০১৫ সালে এসে পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে প্রমাণ হিসেবে ওই নথির অনুলিপি হাজির করা হয়। আর এতেই ধরা পড়ে  বুশের মিথ্যাচার।

পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সন্ত্রাসী হামলা বিষয়ক কমিশনের কর্মকর্তারা সে সময় জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর ২০০১ হামলার মাসখানেক আগেই সতর্কতা জারি করা হয়। ওই বছরের ৩ আগস্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি সুপারিশ প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, সম্ভাব্য আল কায়েদা হামলা সম্পর্কে অনির্দিষ্ট হুমকি অব্যাহত ছিলো।  আরব উপকূল, জর্ডান, ইসরায়েল এবং ইউরোপ আল কায়েদার হামলার আশঙ্কা করছিলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের ভেতরে হামলার আশঙ্কা করা হয়নি।   

হামলার পর কমিশন জর্জ ডাব্লিউ বুশকে তদন্তের আওতায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তারা জানায়, “প্রেসিডেন্ট বুশ আমাদের বলেছেন, আগস্টের ৬ তারিখের ওই রিপোর্ট প্রকৃতিগত দিক থেকে ছিল ঐতিহাসিক। তিনি কমিশনের কাছে দাবি করেছিলেন, তাকে সিআইএর তরফ থেকে বলা হয়েছিল, ‘আল কায়েদা ভয়াবহ’। বুশ দাবি করেন, এ কথা তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় থেকেই শুনে আসছিলেন। ‘লাদেনের যুক্তরাষ্ট্রে হামলার অঙ্গীকারও নতুন কিছু নয়’। সে সময় সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট ৭০টি তদন্ত চলছিলো, তিনি এফবিআইকে কিছু নথি আবারও পর্যালোচনা করতে বলেছিলেন। যতোটা পেরেছেন সেসব ঘেটে দেখেছেন তিনি। তখনকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিনা রাইস সে সময় তাকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ভবনে মে-জুনে ইয়েমেনি নজরদারির একটা সম্ভাব্যতা পেয়েছিলেন তারা। তবে আল কায়েদার ব্যাপারে তখন কিছু জানা যায়নি।”


বুশের প্রেস সহকারীর হাতে লেখা নোট

পলিটিকোর অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, শুধু ওই আগস্ট নয়, ২০০১ সালের বসন্ত থেকেই এই হামলার ব্যাপারে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে আসছিলো সিআইএ। পলিটিকোর খবরে সিআইএর সন্ত্রাসবিরোধী সেন্টারের শীর্ষ কর্মকর্তা কফার ব্ল্যাকের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের মে মাসে কফার ব্ল্যাক বলেন, আমাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছিল যে আমরা হামলার শিকার হতে পারি’। ‘হামলার প্লটগুলো খুব স্পষ্ট ছিল’, ঘটনার কয়েক বছর পর বলতে বাধ্য হন তৎকালীন সিআইএ পরিচালক জর্জ টেনেট।

গত বছর ১২ নভেম্বর প্রকাশিত  ‘হামলাটি হবে দর্শনীয়’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,  টেনেট ও ব্ল্যাক হোয়াইট হাউসকে এসব কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, ‘আমরা এখন এ নিয়ে ভাবতে চাইছি না। আমরা চাই না, একই ঘণ্টা বারবার বাজতে থাকুক।’  

পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এর চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু হতে পারে না। বুশ জানতেন এটা ঘটতে যাচ্ছে এবং এটা বন্ধ করার জন্যও তিনি কিছু করেননি। এমনকি চেষ্টাও করেননি। অন্যভাবে বলতে গেলে, তার একমাত্র মনযোগের কেন্দ্রে ছিলো, বিষয়টি যেন এমনভাবে ঘটে যাতে তার অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করা না যায়, অস্বীকার করা যায়। তিনি এই অস্বীকৃতি জানানোর দিকেই জোর দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বছর ১০ জুলাই সকালে, ব্ল্যাক ও তার সহকারী টেনেটের অফিসে গিয়ে তাকে এ সম্পর্কে অবগত করেন। ব্ল্যাক আরও বলেন, ‘আমরা যে সব তথ্য জড়ো করেছিলাম, তা সত্যিকার অর্থেই প্রভাবিত হওয়ার মতোই ছিলো। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া সব তথ্য এবং যা একভাবে শেষ সুযোগ ছিল।’  

সবাই একমত হন, হোয়াইট হাউসে একটি জরুরি বৈঠকের প্রয়োজন ছিলো বুশের জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কনডেলেসা রাইসের সঙ্গে, বুশের সঙ্গে নয়। তাদের মতে ‘সবকিছু অস্বীকার’ করার অভ্যাস ছিলো বুশের। বৈঠক করলে বিষয়টির সুরাহা হতে পারত। কেননা এই বৈঠকের কথা বাইরে প্রকাশিত হলে রাইসই হতেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারতেন। 

এমনকি এরকম একটা জরুরি বিষয় বুশের মনযোগ না পাওয়ায় টেনেট ও ব্ল্যাক স্তব্ধ হয়ে যান। পলিটিকোকে ব্লি  ব্ল্যাক বলেন, ‘এ বিষয়টি এখনও আমার কাছে ব্যখ্যার অতীত। উচ্চপদস্থদের এতবার জানানোর পরও কিছুই হলো না- এটা কী করে সম্ভব?’  তার মতে, হোয়াইট হাউস যখন বলল, ‘পুরনো ঘণ্টা বাজাতে চান না’ তখনই রহস্যটির কিনারা হয়ে গেছে। টেনেট আর ব্ল্যাক বুদ্ধিমান মানুষ, তারা এর অর্থ বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তারা এটাও বুঝেছেন, এ কথা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউস দাবি করতে চেয়েছে, আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ঘটনার পরও নিজেদের দাবি থেকে সরে আসেনি তারা। তারা এখনও একই মিথ্যে-বানোয়াট ও প্রমাণবিহীন দাবি করেই যাচ্ছে।’


প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়

এদিকে ২০০৪ সালের ওই প্রতিবেদনেই গুরুত্বপূর্ণ এক কংগ্রেশনাল রিপোর্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এপি। ২০০৩ সালের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ১৯৯৭ সাল থেকে মার্কিন ভূমিতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আল কায়েদা। অসমর্থিত সূত্রের বরাতে লাদেনের সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে জানতে পেরেছে এফবিআই। তাদের কাছে অসমর্থিত সূত্রে খবর ছিলো, ওই মার্কিন বিমান ছিনতাই করে ওই হামলা চালানো হবে। প্রতিবেদনে এপি আরও জানায়, এফবিআই কর্মকর্তারা অন্তত ২ মাস আগে হামলার আশঙ্কার কথা জানতে পারলেও এর বিপরীতে তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আজও জানা যায়নি।

শুধু এটুকুই নয়, হামলার প্রসঙ্গে বুশের অবগত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে ৯/১১ হামলার পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে হাতে লেখা একটি নোটেও। দ্রুততার সঙ্গে লেখা বুশের এক সহকারী প্রেস সচিব ফ্লাইচারের ওই নোট রয়টার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশ পায়। ছয় পৃষ্ঠার ওই নোটে হামলার খবর শুনে বুশ যা যা করেছিলেন তার উল্লেখ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নোট অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার খবর শোনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিকে ফোন করে বুশ বলেন, ‘আমরা ওই (অশ্লীল শব্দ)-কে ধরতে যাচ্ছি। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি।’ এ ঘটনায় বুশের কোনও উদ্বেগের কথাও জানা যায়নি।


বুশের সঙ্গে ফ্লেইচার

গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হামলার খবর পেয়েই বুশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কথা বলছেন। হামলার কিছুদিন পরে সত্যিকার অর্থেই তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন এবং পুরো বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেন।

ডিক চেনির সঙ্গে কথা বলার পর ফোন হাতে ধরেই তিনি কক্ষে থাকা সহকর্মীদের দিকে ঘুরে বলেন, ‘যখন আমি এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে পাব, তারা সারা জীবনের জন্য একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাকে অপছন্দ করবে। জড়িতদের এর মূল্য দিতে হবে।’ এ সময় বুশ ছিলেন  মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান-এ। বিমানে তার পাশে থাকা কয়েকজনকে বুশ বলেন, ‘হামলাকারীকে খুঁজে বের করতে হবেই। হয়ত কিছু সময় লাগবে। কিন্তু আমরা একটুও ছাড় দেব না।’

ওই ঘটনার নয় দিন পর নিজের ‘তাৎক্ষণিক’ কথার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধ ঘোষণা করেন বুশ। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও দ্য আমেরিকান পিপল-র যৌথ অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আল কায়দার ওপর হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধ সেখানেই শেষ হবে না। বিশ্বের সব সন্ত্রাসী দলকে খুঁজে বের করে তাদের থামানো ও পরাজিত না করা পর্যন্ত এ যুদ্ধ থামবে না।’

প্রশ্নবিদ্ধ সেই সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকেই কি তবে হামলার কথা জেনেও নিশ্চুপ ছিল যুক্তরাষ্ট্র? হামলার ১৫ বছর পর এসেও নানা প্রশ্ন আর অজানা তথ্য রহস্যই থেকে গেছে।

হাতে লেখা এ নোট থেকে জানা যায়, প্রথম হামলার খবর বুশকে জানানো হয় তখন তিনি ফ্লোরিডার একটি স্কুলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন। বুশকে জানানো উত্তর টাওয়ারে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং হতে পারে তা একটি দুর্ঘটনা। দ্বিতীয় হামলার কথা বুশকে জানানো হয় তখন তিনি বাচ্চাদের বই থেকে কিছু একটা পড়ে শোনাচ্ছিলেন।  ফ্লেইচার দাবি করেন, তিনি চাইছিলেন সম্পূর্ণ বিষয় জানার আগে যেন এ বিষয়ে বুশ কিছু না বলেন। অবশ্য বুশ দাবি করেন, মার্কিন নাগরিকদের আতঙ্কিত করতে চাননি বলেই তিনি যা করছিলেন তা অব্যাহত রাখেন।


চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রিউ কার্ডের সঙ্গে বুশ

এটুকুই নয়, স্কুলের অনুষ্ঠান শেষ করে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার পরও নিরুদ্বেগ ছিলেন বুশ। নোট অনুসারে বুশ ও তার একজন এইড ওই সময় টেলিভিশনে চুল ওঠানোর একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনও দেখেন। ফ্লেইচারের নোটের তথ্য অনুসারে, বুশ তার পরিবার ও কুকুর বার্নিকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জেনে বুশ জানতে চান, বার্নির অবস্থা কী? জবাবে  চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রিউ কার্ড রসিকতা করে জানান, সে (বার্নি) এখন ওসামা বিন লাদেনের গোড়ালিতে ঘুমাচ্ছে।

মার্কিন হামলার ভয়াবহয়তার ১৫ বছর পর এসে এবার পলিটিকো আরও এক বিস্ফোরক উন্মোচন করেছে। হামলাকালে বুশ নিরুদ্বিগ্ন ছিলেন বলে উঠে এসেছে সেই প্রতিবেদনে। মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি আট ঘণ্টা আকাশে উড়েছেন। বিমানে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে কথা বলে পলিটিকো। সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হুবহু বক্তব্য’ প্রকাশ করেছে নিজেদের প্রতিবেদনে। সুদীর্ঘ ওই আলাপের সারমর্ম দাঁড়ায়, হামলার পরও বিমানে খুব নিরুদ্বিগ্ন ছিলেন বুশ। একজন বলেছেন, ‘যে কোনও কিছু জিজ্ঞেস করলে তিনি বলছিলেন, তিনি ব্যস্ত আাছেন’। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন একজন কর্মকর্তাকে তিনি বলেছিলেন, ‘আকাশটা এখন কেবল আমাদের’!

এফ/১৬:০৫/১২ সেপ্টেম্বর

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে