Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১১-২০১৬

ঢাকা মহানগর আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি: নতুনের কাছে ধরাশায়ী পুরনো

পাভেল হায়দার চৌধুরী


ঢাকা মহানগর আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি: নতুনের কাছে ধরাশায়ী পুরনো

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর- ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তর-দক্ষিণের দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। রবিবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদিত কমিটি প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা মহানগরের দুটি কমিটিতেই নতুন মুখের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। পুরনো মুখগুলো- যারা এক/দেড় যুগ ধরে নগরের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নেই এ কমিটিতে। এমনকি ওয়ান ইলেভেনে নির্যাতিত ও রাজনৈতিক মাঠে উপস্থিত ছিলেন এমন অনেক নেতাও বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। বদৌলতে এসেছে নতুন মুখ। এসব নতুন মুখের কেউই এর আগে মহানগর কমিটির কোনও পদে ছিলেন না।

নগরের পুরনো ও প্রভাবশালী নেতাদের মূল কমিটি থেকে বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের মত অকার্যকর পদে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও মহানগরের সাবেক নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও নগরের ডাকসাইটে নেতাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না তারা।

কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মুকুল চৌধুরী, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, কামাল আহম্মেদ মজুমদার ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে। কিন্তু তারা কেউ কমিটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবিলা করার মতো কমিটি এটা হয়নি।

বিভক্ত ঢাকা মহানগরের দুটি কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের কমিটি। এখানে ৫২ জনই নতুন। দক্ষিণেও কমিটির পরিধি একই। এখানে নতুন মুখ এসেছে ৪৩ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মহানগরের অন্তর্গত বিভিন্ন থানার নেতা ছিলেন। কেউ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মহানগর উত্তর কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে দুজন নতুন মুখ এসেছে। তার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যিনি আগে তেজগাঁও থানার নেতা ছিলেন। এবার প্রথম মহানগরের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হলেন। সহ-সভাপতি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদও নতুন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জনের মধ্যে একজন এসেছেন নতুন মুখ, তিনি হলেন হাবিব হাসান।

সম্পাদকীয় অন্য পদেও বেশিরভাগ নতুন মুখ রয়েছেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এম এ এম রাজু আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মজুমদার, দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, বন ও পরিবেশ সম্পাদক এস এম তোফাজ্জল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল আনাম ভুঁইয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহেরুন্নেসা মেরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কাশেম খান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল গফ্ফার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এ জাফর নিজামী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. বরকত খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইকবাল খান চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. কানিজ ফাতেমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির মহিউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল হক জিল্লু, সহ-দফতর সম্পাদক শাহরুখ খান মিরাজ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আজিজুল হক রানা, কোষাধ্যক্ষ মো. ওয়াকিল উদ্দিন নতুন মুখ।

ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সংসদের সদস্যরাও বেশিরভাগ নতুন। নতুন মুখগুলো হচ্ছে- সদস্য মো. ওসমান গনি, সফিউদ্দিন, মো. লিয়াকত আলী, এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, শেখ মজিবুর রহমান, সৈয়দ আহম্মদ পাইন, মাহাবুব আলী, হাজী আব্দুল বাতেন, কাজী আবুল কালাম আজাদ, মো. ইসরাফিল আশরাফ, অধ্যাপক এম এ হামিদ, মুজিব সারোয়ার মাসুম, এম এ সেলিম খান, এম এ হান্নান, মো. বশির উদ্দিন আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম বেপারী, আব্দুল ওয়াসেক, মো. আমির হোসেন মোল্লা (শাহ আলী), মো. আব্দুল গফুর মিয়া, মো. আইয়ুব আকরাম মুকুল, মো. আফছার উদ্দিন খান, মো. মিজানুর রহমান, হাবিবুর রহমান সাচ্চা, আলাউদ্দিন আল আজাদ মাস্টার, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ডা. মামুন আল মাহতাব, সালাম চৌধুরী ও ইসমাইল হোসেন।

তবে ওয়ান ইলেভেনে মাঠে থেকে যারা কাজ করেছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন তাদের রাখা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদে। কামাল আহমেদ মজুমদার সাবেক নগর কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি ওয়ান ইলেভেনে চরম নির্যাতিত তাকে রাখা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদে। মুকুল চৌধুরী, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া ও এইচ বি এম ইকবালকে রাখা হয়েছে উপদেষ্টায়। উপদেষ্টায় আছেন উত্তরের মেয়র আনিসুল হকও।

ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগ কার্যনিবাহী সংসদে সহ-সভাপতি পদে আবু আহাম্মেদ মান্নাফী, মো. হুমায়ূন কবির, আবুল বাশার, আলমগীর চৌধুরী, নূরুল আমিন রুহুল, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, অধ্যক্ষ বাবু এস এন রায় সমর নতুন মুখ।

সম্পাদকীয় পদে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সবগুলোই সাবেক নগর কমিটিতে ছিলেন। তবে সম্পাদকীয় অন্য পদে বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছে। তারা হলেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, দফতর সম্পাদক গোলাম রব্বানী বাবলু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আকতার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর বিন আজিজ তামিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মীর মনির হোসেন টুটুল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আশরাফ হোসেন তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল, সহ-দফতর সম্পাদক মিরাজ হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা মামুনুর রশিদ শুভ্র নতুন মুখ।

কার্যনির্বাহী পদেও এসেছেন নতুনরা। এদের মধ্যে রয়েছেন- ডা. মোশারফ হোসেন, এস কে বাদল, মাসুদ সেরনিয়াবাত, লিয়াকত আলী খান, জহিরুল আলম, জাহানারা বেগম রোজী, আহসান উল্লাহ খান মনি, নির্মল গোস্বামী, মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, ফজলে রাব্বী, আনিস আহম্মেদ, আব্দুল মতিন হাওলাদার, জোবায়দুল হক রাসেল, নাছিমা আহাম্মেদ, সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী, নাজমুল হক, সফিকুল ইসলাম দিলু, মাহবুবর রহমান আলী জান, মজিবুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, মনসুর আহমেদ, জসীম উদ্দীন খান আজম।

দক্ষিণে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলামের মত নগরের পুরনো নেতাদের রাখা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদে।

আর/১০:১৪/১১ সেপ্টেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে