Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-১১-২০১৬

‘আমি এখন নিঃসঙ্গ। মমতার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি’

‘আমি এখন নিঃসঙ্গ। মমতার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি’

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর- ‘এখন খুব আনন্দ। মনটা প্রায় ভেঙেই গিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন রাজনীতি করছি। বাংলার মানুষ আমায় চেনেন। ছোট থেকে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে ছাত্র পরিষদ করেছি...’ জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যা বললেন মদন মিত্র

প্রশ্ন: কেমন লাগছে?
মদন:
এখন খুব আনন্দ। মনটা প্রায় ভেঙেই গিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন রাজনীতি করছি। বাংলার মানুষ আমায় চেনেন। ছোট থেকে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে ছাত্র পরিষদ করেছি। আমি তো কখনও ভাবিনি, দুর্নীতির দায়ে আমাকে ২০ মাস জেলে থাকতে হবে। খুবই কষ্টে ছিলাম। আদালত যা রায় দিয়েছে, তা মেনে চলব। সিবিআই যখন যা বলবে... সম্পূর্ণ সহযোগিতা আগেও করেছি। এখনও করব। আমি তো আইন ভাঙার লোক নই। দু’বছর দুর্গাপুজো দেখিনি। আমার ছোট্ট একটা নাতি। এক-দেড় বছর বয়স। আমি তাকেও আদর করতে পারিনি।

প্র: প্রভাবশালী শব্দটা কি আতঙ্কের?
মদন:
এ ব্যাপারে মন্তব্য করব না। এর ব্যাখ্যা পুরোটাই কোর্ট দেবে। আমি শুধু এটুকু বলব, আমি খুব খুশি। আমার দুই ছেলে, স্ত্রী, ছেলের বউ এবং ছোট্ট নাতিকে পেয়ে আমি খুব খুশি। তা-ও আমি বাড়ি যেতে পারলাম না। একটা ছোট্ট বোঝাপড়ার অভাবে। আমার বাড়ি ভবানীপুরে। থানা কালীঘাট হয়ে যাওয়ায় ২০ মাস বাদে বাড়ির কাছে এলাম। ঢিল মারলে বাড়ি। কিন্তু বাড়ি যেতে পারছি না! এই দুঃখটা রয়েই গেল। আদালত নির্দেশ দেওয়া মাত্র দৌড়তে দৌড়তে বাড়ি যাব।

প্র: কামারহাটিতে সকলে আনন্দ করছেন। কিন্তু এই কামারহাটি ভোটে আপনার থেকে মুখ ফিরিয়েছে। অভিমান হয়?
মদন:
কোনও মন্তব্য করব না। শুধু এটুকু বলব, যাঁদের মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনে গৃহীত হয়, বন্দি হলে প্যারোল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বক্তৃতা করা, লিফলেট বিলি করার নিয়ম রয়েছে। আমি তো কামারহাটি যেতে পারিনি, লিফলেট দিতে পারিনি, বক্তৃতাও করতে পারিনি। কোনও অনুমতিই পাইনি। কমিশন আমাকে কিছু করতে দেয়নি। ফলে একতরফা সিপিএম একদিকে করেছে। আর উল্টোদিকে গোলপোস্ট ফাঁকা ছিল। তাতে মাত্র তিন হাজারের কিছু বেশি ভোটে হেরেছি।

প্র: পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুক্রবার আদালতে এসেছিলেন। দলের পাশে থাকাটা কতটা বাড়তি মনোবল জোগাচ্ছে?
মদন:
দল তো থাকবেই! আমি তো নির্দল করিনি কখনও। দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। একদিন সত্য প্রমাণিত হবে যে, আমি কোনও বিশ্বাসঘাতকতা-বেইমানি করিনি।


প্র: রাজনীতিতে পুরোপুরি ফিরবেন?
মদন:
কোনও মন্তব্য করব না। এখন শুধু অক্লান্ত বিশ্রাম। পরিবারের সঙ্গে থাকব। বই পড়ব। বাচ্চাটাকে নিয়ে খেলা করব।

প্র: আপনার সমাজসেবা, দল করা— আপনার নেত্রী চাইবেন না?
মদন:
আমার সামনে কোনও মানুষ বিপদে পড়লে নিশ্চয়ই সাহায্য করব। কোনও মানুষ দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে পড়লে নিশ্চয়ই হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।

প্র: সিঙ্গুরের রায় বেরিয়েছে। সিঙ্গুরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা মনে হয় না?
মদন:
যা বলার দল বলেছে। আদালতের রায়ে আমি খুশি। এর বাইরে কোনও কথা বলব না। এখন একটাই আগ্রহ, মায়ের মুখ কখন দেখব। মা মানে দুর্গাপ্রতিমা।

প্র: সিবিআই বলছে, মদন মিত্র মরা হাতি! এটা মেনে নিতে পারেন?
মদন:
আমি ২০-২২ মাস অসুস্থ। চিকিৎসকদের নির্দেশ আছে, কোনও রাজনৈতিক যুক্তি-তর্কের মধ্যে না যেতে। কারণ, আমি ক্লান্ত-শ্রান্ত এবং আমি বিশ্রাম চাই।

প্র: মন্ত্রী, বিধায়ক ছিলেন। এখন কিছুই নন। দুটোর মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করছেন না?
মদন:
ছোটবেলায় পড়েছিলাম, লোকে যারে বড় বলে, বড় সে হয়। নিজে নিজে বড় বলে, বড় সে নয়। এর বাইরে কোনও বক্তব্য নেই।

প্র: মদন মিত্র এখন কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে?
মদন:
সম্পূর্ণ একা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে। আমি একা, একদিকে পৃথিবী।

প্র: সত্যিই নিঃসঙ্গ অনুভব করছেন?
মদন:
নিঃসঙ্গই তো। প্রভাব নেই, কিছু নেই। হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া নেই।

প্র: দল পাশে নেই?
মদন:
দল তো পুরোই আছে। আমি তো নির্দল নই। করজোড়ে গণদেবতার কাছে, বিচারব্যবস্থার কাছে এটুকুই বলব— অনেকদিন ধরে রাজনীতি করছি। রাজনীতি করতে গেলে এমন অনেক অভিযোগ আসে যে, রাস্তা অবরোধ করেছি, অধ্যক্ষ ঘেরাও করেছি, অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মারপিট হয়েছে, নির্বাচনে জুলুম করে ভোট করেছি। কিন্তু রাজনীতিক মদন মিত্র দুর্নীতি করেছে, এই অভিযোগ আমার এবং আমার পরিবারিক সম্মান নষ্ট করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে ২০-২১ মাস যাদের সঙ্গে একই বিছানায় পাশাপাশি কাটালাম, তারা কেউ কুখ্যাত ডাকাত, কেউ রাষ্ট্রদ্রোহী, নারীধর্ষণকারী। কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু আমার কষ্টটা অস্বীকার করতে পারব না।

প্র: আপনি কি পরিস্থিতির শিকার?
মদন:
আমি এসব বলব না। এটা কোর্ট বিচার করবে। কিন্তু এই অভিযোগটা আমাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। আলটিমেটলি আইন প্রমাণ করবে কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা। আমি ভাল কি না, তা আমি কীভাবে বলব?

প্র: কোথাও কি ভুল হয়েছিল, যেজন্য এই পরিস্থিতিতে পড়তে হল?
মদন:
আমি কিছু বলব না। কারণ, ভুল হয়েছে কি না, সেটাই তো ঠিক করছে আদালত। কোর্ট যদি বলে ভুল হয়েছে, আমি মাথা নিচু করে মেনে নেব।

প্র: দল কী বলছে?
মদন:
দল বলছে, খুব আনন্দ পেয়েছি। দলের মহাসচিব বলেছেন, দল পাশে আছে। কিন্তু দল নির্দেশ দিয়েছে, এখন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনে যাবে না। তোমার কমপ্লিট রেস্ট দরকার। আমিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় যা বলেছেন, তা-ই ফলো করে বলছি, সারা বাংলায় এতদিন রাজনীতি করছি। নিশ্চয়ই পাঁচজন-দশজন আমায় ভালবাসেন। আপনারা অতি উৎসাহী হয়ে দয়া করে এমন কিছু করবেন না, যাতে মানুষ দুঃখ পান।

প্র: রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়িয়ে?
মদন:
যখন শুরু করেছিলাম, তখন মাটিতে দাঁড়িয়েছিলাম। তার পরে পাহাড়ের উপরে উঠে গিয়েছিলাম। এখন আবার নিস্তরঙ্গ, নিঃসঙ্গ হয়ে সমুদ্রের পাড়ে একা একা হাঁটছি।

প্র: কোথাও কি মনে হচ্ছে দল আগের মতো পাশে নেই?
মদন:
এটাই তো ভুল। দলের বিরুদ্ধে তো বক্তব্য নয় যে তাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত...।

প্র: মানুষেরও তো মনে হয়েছে, দল আপনাকে ঝেড়ে ফেলতে চাইছে?
মদন:
না, না! তাহলে কি দল আর নমিনেশন দিত? তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার হয়ে বক্তৃতা করতেন? সেটা নয়। আমি মানসিকভাবে বিপর্যন্ত। মদন মিত্র দুর্নীতি করেছে, এই অভিযোগ আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে।

প্র: মদন মিত্র আর পুজো সমার্থক। এবারের পুজোয় কোনও বিশেষ পরিকল্পনা?
মদন:
আদালত বাড়িতে থাকার অনুমতি দিলে একদম বাড়িতে থাকব। এবং যা জীবনে করিনি, নাস্তিক হওয়ায় পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনওদিন অঞ্জলি দিইনি। অঞ্জলি দিলে খেয়ে দিয়েছি। এবার না খেয়ে, পরিষ্কার হয়ে আস্তিকভাবে আমার ছোট্ট নাতিকে নিয়ে পুজো দেব। যেভাবে একজন ধার্মিক মানুষ চলে সেভাবে চলব। পুজো উদ্যোক্তাদের মতো চলার বয়স আর আমার নেই। আমি এখন সিনিয়র সিটিজেন।

প্র: বিন্দুতে বিন্দুতে সিন্ধু কথাটা প্রবাদে পরিণত। তার জন্যই কি এই পরিস্থিতি?
মদন:
এটা তো আমার কথা নয়। এটা কবীরের কথা। আমরা অনেক কিছু ব্যবহার করি। অনেক সময় বলি, কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? কী হয়েছে, কেন হয়েছে— সবই ভবিষ্যৎ বলবে। বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ ঠিক কথা বলবে, সত্যি কথা বলবে।

প্র: জীবন সম্পর্কে নির্লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন?
মদন:
গত ২১ মাসে পরিবারের লোক ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা হয়নি। আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে আমার নাতি। দল পাশে না থাকলে এতদিনে আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেও আত্মহত্যা করে ফেলতাম। ওই সময়টা আর ফিরে পাব না। শিকড় থেকে এক ধাক্কায় মাটিতে পড়েছিলাম। হারিয়ে যাইনি মানুষের ভালবাসা, পার্টির মদত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা-আশীর্বাদে। মনকে শক্ত করতাম এই ভেবে, যদি ১৪ বছর বাদে রামের বনবাস শেষে রাম ফিরতে পারে বা যদি ১৩ বছর বাদে পাণ্ডবদের বনবাস শেষ হয়, তাহলে এক না একদিন আমিও বিচার পাব। অনেক দেখলাম। এখন আছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের অপেক্ষায়। একেবারে মাথা নিচু করে আছি।

আর/১০:১৪/১১ সেপ্টেম্বর

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে