Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-০৮-২০১৬

দুই প্যানেল লড়ছে : নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে

দুই প্যানেল লড়ছে : নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ‘কুনু-আজম প্যানেল’র সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু (বামে) এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী আজম।

নিউইয়র্ক, ০৮ সেপ্টেম্বর- নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচন ঘিরে সর্বত্র সাজ-সাজ রব উঠেছে। ১৮ হাজার ৫৫৩ ভোটারের এ নির্বাচনে ১৯ পদে ৩৯ প্রার্থী লড়ছেন। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন প্রবাসে সততার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারি ওসমান চৌধুরী। অপরদিকে ‘কুনু-আজম প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী আজম লড়ছেন। অপর প্যানেল ‘কামাল-রুহুল প্যানেল’-এ সভাপতি পদে কামাল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রুহুল আমিন সিদ্দিকী।


বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ‘কামাল-রুহুল প্যানেল’র সভাপতি প্রার্থী কামাল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুহুল আমিন সিদ্দিক। 

২৩ অক্টোবর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৫টি কেন্দ্রে। কুইন্সে-৩টি, ব্রুকলীন এবং ব্রঙ্কসে একটি করে। গত রোববার ৪ সেপ্টেম্বর উৎসবের আমেজে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কেউই প্রত্যাহার করেননি। এরপরই প্যানেলভিত্তিক প্রচারণায় নেমেছেন সকলে। উভয় প্যানেলেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামাত-শিবিরের মিশ্রন ঘটেছে। অর্থাৎ এই সংগঠনের অরাজনৈতিক চরিত্রের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে প্যানেল প্রক্রিয়ায়। সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান চৌধুরী হচ্ছেন ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির নেতা। তবে ডেমক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতির সাথেই তার দহরম-মহরম সবচেয়ে বেশী। ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বিল ক্লিন্টন পরিবারের সাথেও। ভোট প্রার্থনায় তিনি এসব বিষয় উপস্থাপন করছেন।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্যদিনের মতই সিটিতে ইয়েলো ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন ওসমান চৌধুরী। এক মহিলা যাত্রীকে নামিয়ে আরেকজনকে উঠানোর সময় ট্যাক্সির ট্রাঙ্কে একটি ব্যাগ দেখেন তিনি। সেটি নিজের কাছে রেখে নয়া যাত্রীকে তার গন্তব্যে নামিয়ে ব্যাগটি পরখ করেন বগুড়ার সন্তান ওসমান চৌধুরী। চমকে উঠেন তিনি। কারো সাথে কোন কথা না বলে ট্যাক্সি চালিয়ে ‘নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স’ অফিসে যান। 

এলায়েন্সের নেতৃ ভৈরবী দেশাইয়ের সাথে পরামর্শ করেন। এক পর্যায়ে ব্যাগের মধ্যে একটি টেলিফোন নম্বর পেয়ে সেখানে ফোন করেন তারা। যাত্রীটি এসেছিলেন টেক্সাস থেকে। মিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড রিংসহ আরো কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রি হারিয়ে মহিলাটি বিষন্ন হয়ে হোটেলে পায়চারি করাকালেই টেলিফোন পেয়ে যারপর নেই খুশী হন। এ সময় সিটি প্রশাসনকেও ঘটনাটি অবহিত করা হয়। মহিলাকে ঐ ব্যাগ ফিরিয়ে দেয়ার পর সারা আমেরিকায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ওসমান চৌধুরীর সততা নিয়ে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এখনও ট্যাক্সি ড্রাইভারদের কোন প্রসঙ্গ উঠলেই ওসমান চৌধুরীর নাম উচ্চারিত হয় হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল, স্টেট ও সিটি প্রশাসনে।


বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান চৌধুরী।

কামাল-রুহুল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী কামাল আহমেদ এর আগেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখযোগ্য কোন কাজ করে প্রবাসীদের মধ্যে নিজের অবস্থানকে মজবুত করতে সক্ষম হননি। দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় লড়েন দু’বছর আগের নির্বাচনে একই পদে। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। সে নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হন আজমল হোসেন কুনু। কুনু পুনরায় একই পদে লড়ছেন এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন সাবেক সেই সভাপতি কামাল আহমেদ। কামাল আহমেদের মত কুনুও দায়িত্ব পালনকালে প্রবাসীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন দূরের কথা নির্বাচনী ওয়াদা পূরণেও সচেষ্ট হয়েছেন বলে কেউ মনে করেন না।

কামাল এবং কুনু উভয়েই সিলেটের সন্তান। এবারের নির্বাচনে অবশ্য সিলেটের বাইরের ভোটারের সংখ্যাই বেশী। অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী আজম হচ্ছেন আজমল হোসেন কুনুর রানিংমেট। আর রুহুল আমিন সিদ্দিকী হচ্ছেন কামাল আহমেদের রানিংমেট। কাজী আজম চট্টগ্রামের এবং রুহুল আমিন হচ্ছেন বৃহত্তর ঢাকার সন্তান।

নিউইয়র্ক অঞ্চলে (নিউজার্সী, কানেকটিকাট এবং নিউইয়র্ক রাজ্য) বাংলাদেশীর সংখ্যা ৩ লাখের বেশী। সে তুলনায় ভোটার হবার হার খুবই কম অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটি সকল প্রবাসীকে এ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সোসাইটির নেতৃত্ব প্রদানকারী সকলেই নির্বাচনের সময় বিভিন্ন অঙ্গিকার করেন। নির্বাচনে জয়ী হবার পর সে অঙ্গিকার পূরণে ন্যূনতম চেষ্টা চালাননি বলেই ব্যাপক জনগোষ্ঠির মধ্যে সাড়া জাগাতে পারেননি কেউই। 

প্রবাসীদের প্রত্যাশা হচ্ছে, নিউইয়র্কে বড় একটি কম্যুনিটি সেন্টার, মূলধারার উপস্থিতিতে ম্যানহাটানে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’, স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন, নবাগতদের চাকরির সন্ধান এবং চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। এছাড়া, অভিবাসন সমস্যায় পড়া বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশী। এ কাজটি বর্তমান কমিটি এবং ২০০০ সালে দায়িত্ব পালনকারি কমিটি মোটামুটিভাবে করার চেষ্টা করেছেন। এম আজিজ সভাপতি থাকাকালে বাংলাদেশ সোসাইটির নামে শতাধিক কবরের জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। এর আগে ডা. মাঈনুল ইসলাম মিয়া ও এ কে এম ফজলে রাব্বির আমলে সোসাইটির নামে একটি ভবন ক্রয় করা হয়েছে। ২০০০ সালের সেনসাসে প্রবাসীদের সক্রিয় করেছিলেন ফখরুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

এফ/২২:২০/০৮ সেপ্টেম্বর

যূক্তরাষ্ট্র

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে