Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-০৭-২০১৬

কাসেমের ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে পাক পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

কাসেমের ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে পাক পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

ইসলামাবাদ, ০৭ সেপ্টেম্বর- একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে আজ বুধবার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সরকার বেশ কয়েক বার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেয়। তা সত্ত্বেও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নিন্দা প্রস্তাব’ পাস হলো।

নিন্দা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন শের আকবর খান এমপি।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের এই নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি চুক্তির পরিপন্থি।’

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানো বন্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোকে একত্রিত করতে পাকিস্তানের সরকারকে গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে প্রস্তাবে বলা হয়। 

রেডিও পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক নিন্দা প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

গত শনিবার যুদ্ধাপরাধী মীর কাসিম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মীর কাসেম আলী তার বিচার ঠেকাতে দুই’শ কোটি টাকার বেশি বিতরণ করেছেন বিশ্বজুড়ে। ফাঁসি ঠেকানো সম্ভব না হলেও বহু দিন থেকেই বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার একটা নিরব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মহলটি।

কেবল মীর কাসেমের বেলায়ই নয় এর আগে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও  সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদসহ যত জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে প্রতিবারই পাকিস্তান নির্লজ্জের মতো এর বিরোধীতা করেছে, নিন্দা জানিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ প্রতিবারই এর কড়া প্রতিাবাদ জানিয়েছে। এর পরও পাকিস্তান তার বিতর্কিত কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় আবারও প্রমাণিত হলো যে, একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে মীর কাসেমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ রয়েছে তা আদালতের বাইরে বার বার প্রমাণিত হচ্ছে।

পাকিস্তান পার্লামেণ্টের নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পাকিস্তানের অভিধানে শিষ্টাচার বলতে কিছু নেই। তারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র। কিন্তু আমরা শিষ্টাচার বজায়ে রেখে প্রতিবাদ করি। আমাদের সরকারের উচিত হবে পাকিস্তানকে আদালতে দাঁড় করানো। তাদের বিচার করতে হবে। জার্মানি ও জাপানের মতো তাদেরকে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে।’ শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তানাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পরেরদিন এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ বিচারের এ দণ্ড কার্যকর করায় পাকিস্তান 'গভীরভাবে মর্মাহত'।এর প্রতিবাদে গত রবিবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ কথা জানিয়ে লিখিত একটি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বিবৃতি পাকিস্তানের চরম অসভ্যতা। পাকিস্তানের আচরণ ভিয়েনা কনভেনশনেরও লঙ্ঘন বলে মনে করেন তারা।

আর/১০:১৪/০৭ সেপ্টেম্বর 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে