Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-০৭-২০১৬

এসপি বাবুলের চাকরি গেলো, মিতু হত্যা তদন্তের খবর কী

এসপি বাবুলের চাকরি গেলো, মিতু হত্যা তদন্তের খবর কী

ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর- মিতু হত্যার তদন্ত নিয়ে নয়, বরং এসপি বাবুল আক্তারের চাকরি নিয়েই এখন সর্বত্র আলোচনা। গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী। তিন মাস পার হলেও এ হত্যা মামলার তদন্তের উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি হয়নি। তবে এ সময়ের ব্যবধানেই বাবুল আক্তার চাকরি হারিয়েছেন। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাবুল আক্তারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে বাবুল আক্তার ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ব্যাপক প্রশংসিত হন বাবুল আক্তার। তখন তিনি সেখানে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। যেকারণে তিনি পিপিএম পদকও পেয়েছিলেন। গত ৫ এপ্রিল তিনি এসপি হিসেবে পদোন্নতি পান। পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর,২০১৬) অব্যাহতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন।

পদোন্নতির এক মাস পর গত ৫ জুন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও গুলি করে হত্যা করে। তখন তিনি ঢাকার কর্মস্থলে ছিলেন। মিতু হত্যায় প্রথম দিকে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাৎ বাবুল আক্তারকে মিতু হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে। ১৬ ঘণ্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় আবার শ্বশুরের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় চাকরি ছাড়ার শর্তে, স্ত্রী হত্যা ঘটনার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও তখন আলোচিত হয়। কিন্তু এ বিষয়ে বাবুল আক্তার কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রথম দিকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তখন পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করেন তদন্তে সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এভাবে মধ্যরাতে বাসা থেকে বাদীকে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা কি খুব প্রয়োজন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাব কোনও পুলিশ কর্মকর্তার কাছ কখনও পাওয়া যায়নি।

পরে চট্টগ্রামে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর চাকরি করার মতো মানসিক অবস্থা না থাকায় বাবুল আক্তার চাকরি থেকে অব্যাহতি পেতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।’ কিন্তু এর কয়েকদিন পর গত ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে গিয়ে কর্মস্থলে পদায়ন চেয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন।

গত ৯ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র প্রত্যাহার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আরেকটি আবেদন করেন বাবুল আক্তার। ওই আবেদনপত্রের একটি অংশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত ২৪-০৬-২০১৬ ইং তারিখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকরির অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই চাকরি। এমতাবস্থায় উক্ত অব্যাহতি পত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি।’ কিন্তু তার সেই আবেদন পত্র আর গ্রহণযোগ্য হয়নি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তার প্রথম আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘চাকরি না থাকলে বাবুল আক্তার মারা যাবেন। কারাগারে গিয়েও তিনি রক্ষা পাবেননা। সন্ত্রাসীরা তাকে মেরে ফেলতে পারে।’ সর্বশেষ বাবুল আক্তারের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মঙ্গলবার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার যুদ্ধে জিতেছে, কতদূর জিতবে জানি না। সরকার সরকারের কাজ করেছে। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’ গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আক্তারের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘বাধ্য করার প্রশ্নই উঠেনা। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। অনেকদিন অপেক্ষা করেই তার পদত্যাগপত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারাই দেবেন।’

চাকরি থেকে বাবুল আক্তারের অব্যাহতির বিষয়ে জানতে পুলিশের বেশ ক’জন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য কিংবা নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি। তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম ও পরিকল্পনা (মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) বিভাগের ডিআইজি এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, ‘বাবুল আক্তার যে পদত্যাগ পত্র দিয়েছিলেন, সেটা মঞ্জুর করেছে সরকার।’ স্ত্রী মিতু হত্যা ও এ ঘটনার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন।’

মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, ‘মিতু হত্যার তদন্ত এখনও শেষ করতে পারিনি।’ তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কে সেটা জানা যাবে।’

আগেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, আবারও মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা জানতে চাইলে এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, ‘চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার ও তার বিষয়।’ জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।

এফ/০৯:২৫/০৭ সেপ্টেম্বর 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে