Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-০৫-২০১৬

মীর কাসেমের ফাঁসিতে আর্থিক চাপে পড়বে জামায়াত?

মীর কাসেমের ফাঁসিতে আর্থিক চাপে পড়বে জামায়াত?

ঢাকা, ০৫ সেপ্টেম্বর- মীর কাসেম আলী জামায়াতের আর্থিক ভিত ছিলেন৷ তার ব্যবসা বা শিল্প প্রকারান্তরে জামায়াতেরই প্রতিষ্ঠান৷ তাই তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এখন এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কী? তার পরিবার কি এই সম্পদ জামায়াতকে দিতে চাইবে?

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং নানা সূত্র থেকে জানা যায়, ১৬টি প্রতিষ্ঠানের ৩০ হাজারেরও বেশি শেয়ার আছে মীর কাসেম ও তার পরিবারের নামে৷ ঢাকার মিরপুরের রয়েছে তার বহুতল বাড়ি৷ তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা৷ এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ সম্পদই বিভিন্ন কোম্পানি, ট্রাস্ট ও বেসরকারি সংস্থার নামে রয়েছে৷ বৈধভাবে আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা৷ ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি ব্যবসা, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে রয়েছে তার ব্যবসা৷

যেসব ব্যবসা, আর্থিক এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে মীর কাসেম এবং তার পরিবারের শেয়ার আছে তার মধ্যে আছে – ইসলামী ব্যাংকের দুই হাজার ১১৩টি শেয়ার, কেয়ারী লিমিটেডের ১৪ হাজার শেয়ার, কেয়ারী টেলিকমের ১০ হাজার, কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেসের এক হাজার শেয়ার, কেয়ারী ঝর্নার ২০টি, কেয়ারী তাজের পাঁচটি, কেয়ারী সানের পাঁচটি, কেয়ারী স্প্রিংয়ের ২০টি, সেভেল স্কাইয়ের ১০০, মীর আলী লিমিটেডের ২৫টি এবং দিগন্ত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের ১০০টি শেয়ার৷ তিনি ছিলেন কেয়ারী লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য, ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্য৷

এছাড়া ঢাকার মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরে বহুতল ভবন৷ মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির পাঁচ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সাড়ে ১২ শতক জমি রয়েছে৷ ধানমণ্ডির বহুতল ভবন কেয়ারী প্লাজার ১৭৮ দশমিক ৬৯ বর্গমিটারের মালিক তিনি৷

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির দাবি করেন, ‘‘মীর কাসেমের দেশে বিদেশে ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে৷ শূন্য থেকে তিনি এ সব সম্পদের মালিক হয়েছেন৷ তার বাবা ছিলেন একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী৷'' মীর কাসেম যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিলেন বলে জানান শাহরিয়ার কবির৷

২০১০ সালের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট ফার্ম কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের সঙ্গে চুক্তি করেন মীর কাসেম আলী৷ এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার বানাচালে প্রচারণা এবং বাংলাদেশ সরকারের ওপর বিচার বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা৷ এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং প্রধান নির্বাহী সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান মার্টি রুশো৷ চুক্তিপত্রে জামায়াতের পক্ষে মীর কাসেম আলী নিজে এবং লবিস্ট ফার্মের পক্ষে জেনারেল কাউন্সেল জে ক্যামেরুজ স্বাক্ষর করেন৷ চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালের ৬ অক্টোবর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রচারণা চালায়৷ চুক্তি করার এক মাসের মধ্যেই ২০১০ সালের ১৭ জুন গ্রেপ্তার করা হয় মীর কাসেম আলীকে৷ তবে প্রচারণার কাজ অব্যাহত থাকে৷ পরে এই চুক্তি নবায়নও করা হয়৷ সিটি ব্যাংক এনএর মাধ্যমে ইলেকট্রানিক মানি ট্রান্সফার করে চুক্তির প্রথম ছয় মাসের আড়াই কোটি মার্কিন ডলার ফার্মটির হিসাবে পাঠানো হয়৷

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘‘সরকারের উচিত একটি কমিশন গঠন করে মীর কাসেম আলীর বৈধ এবং অবৈধ সম্পদের হিসাব বের করা৷ দুদক দিয়ে এটা হবে না৷ কারণ দুদক তার বিদেশের সম্পদ বা সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের হিসাব পাবে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘মীর কাসেমের সম্পদ জামায়াতের সম্পদ৷ আর এই অর্থ সম্পদ যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালে ব্যবহার করা হয়েছে৷ মীর কাসেমই সরাসরি ব্যবহার করেছেন ২৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার৷ তাই এইসব সম্পদের তালিকা করে, তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া দরকার৷''

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘‘মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় মীর কাসেমের পরিবার এবং জামায়াতের মধ্যে সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একটি সংকট সৃষ্টি হতে পারে৷ জামায়াতও পড়তে পারে আর্থিক চাপে৷ তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, মীর কাসেমের কাছেই জামায়াতের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান৷ তার কাছে একটি অংশ থাকতে পারে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত স্বাধীনতার পর নামে বেনামে জামায়াত অনেক ব্যবসা এবং শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছে৷ তাদের এটাই বড় শক্তি৷''

প্রসঙ্গত, সরকারের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী ব্যক্তি এবং সংগঠনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার চিন্তা-ভাবনা আছে৷ ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন মামলার রায়ে এরই মধ্যে জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন বলে রায় দিয়েছে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

এফ/২৩:২২/০৫ সেপ্টেম্বর 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে