Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-০৫-২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কি ওবামাকে সংবর্ধনা দেয়নি চীন?

যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কি ওবামাকে সংবর্ধনা দেয়নি চীন?

বেইজিং, ০৫ সেপ্টেম্বর- জি টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে চীনে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা না দেওয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্য নেতাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হলেও বিশ্বের বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তা না দেওয়াটা চীনের ‘কূটনৈতিক তিরস্কার’ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সমালোচনা হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চীন ইচ্ছে করেই এমনটা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এটা তাদের কূটনৈতিক তিরস্কার।

এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চীন আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি। অবশ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার দাবির বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাই লাল গালিচা সম্বলিত রোলিং সিঁড়ি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ব্যাপারে কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বহরের আকার দেখে চীন হয়তো খানিক ভড়কে গিয়েছিল। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার এ কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

বিমানবন্দরে যা হলো
রবিবার সকালে একে একে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল তেমার এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে চীনের বিমানবন্দরে নামেন। সেসময় তাদেরকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে শনিবার। এদিন দুপুরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন হ্যাংঝৌ বিমানবন্দরে পৌঁছান তখন তাকে মোটেও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। তাকে বিমান  থেকে নামার জন্য রোলিং স্টেয়ারকেইজ (আলাদা সিঁড়ি) দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়। এ নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবাদও হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস ওবামার সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত সীমারেখা দড়ি টপকে ওবামার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকেও বাধা দেওয়া হয়। ওই সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে এক চীনা কর্মকর্তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘এটা আমাদের দেশ! এটা আমাদের বিমানবন্দর!’ এক পর্যায়ে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানের খুবই কম ব্যবহৃত দরজা দিয়ে দিয়ে নেমে আসেন ওবামা। ওই দরজাটি মূলত আফগানিস্তানের মতো উচ্চ নিরাপত্তামূলক সফরগুলোতে ব্যবহার করা হয়।


এয়ারফোর্স বিমানের সবচেয়ে কম ব্যবহৃত সিঁড়ি দিয়ে নামছেন ওবামা

সংবর্ধনা না দেওয়াকে কূটনৈতিক তিরস্কার বলছেন অনেকে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং মার্কিন কর্মকর্তারা চীন পৌঁছানোর পর যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন তা খুবই বিবর্ণ।’  

চীনে নিয়োজিত মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত জর্জ গুয়াজারদো গার্ডিয়ানকে বলেন, তিনি মনে করেন, ওবামার প্রতি চীন যে আচরণ করেছে তা হিসেব নিকেশ করে করা কূটনৈতিক চাল। এটি ভুল করে কিছু হয়নি। আমি চীনাদের সঙ্গে ছয় বছর কাটিয়েছি। এ ধরনের সফরগুলো আমি করেছি। আমি শি জিংপিং-কে মেক্সিকোতে নিয়ে গিয়েছি। আমার মেয়াদকালে চীনে দুইজন মেক্সিকান প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়েছি আমি। আমি জানি কিভাবে এ কাজগুলো করা হয়। এসব ব্যাপারে সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সুতরাং এটি ভুল হতে পারে না।’

কেন এমনটা করা হলো, সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে গুয়াজারডো বলেন, ‘এটি একধরনের ধমক। এভাবে কয়েকটি বার্তা দিতে চাওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীন বোঝাতে চেয়েছে ওবামা তাদের কাছে বিশেষ কেউ নয়। এটা চীনের নতুন ক্ষোভেরই অংশ। এটি চীনা জাতীয়তাবাদ প্রকাশের অংশ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হয়েছে যে চীন পরাশক্তি, আর যুক্তরাষ্ট্র আলাদা কিছু।’

চীনা বিশেষজ্ঞ বিল বিশপও এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওবামার গালিচাবিহীন অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে এটি ইচ্ছেকৃত। মার্কিনিদের দুর্বল আর খাটো করে দেখাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’


অন্য নেতাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হলেও ওবামাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি

চীনের কর্মকর্তার দাবি, এটি তিরস্কার নয়
তবে চীনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করা হলেও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের কাছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন ওবামাকে স্বাগত না জানানোটা কূটনৈতিক তিরস্কারের অংশ নয়। তার দাবি, ওবামার সফর সঙ্গীরা প্রচলিত লাল গালিচা সম্বলিত রোলিং স্টেয়ার (বিমান থেকে নামার জন্য ব্যবহৃত সিঁড়ি) ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ওবামার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে চীনের কোনও লাভ নেই।’

ওবামার প্রতিক্রিয়া
এদিকে রবিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর সঙ্গে এর যৌথ কনফারেন্সে ওবামার কাছে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কূটনৈতিক উত্তর দেন বলে উল্লেখ করেছে গার্ডিয়ান।

ওবামা বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারি না। কেননা, এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয় এবং তা যে কেবল এখানেই (চীনে) হয়েছে তাও নয়। অনেক জায়গাতেই এমনটা হয়েছে। মাঝে মাঝে আমাদের মিত্র দেশেও এমন হয়েছে। এগুলোর কোনওটিই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে খর্ব করেনি। ওবামার মতে, ‘আয়োজক দেশ চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বহরের আকার দেখে সামান্য হতভম্ব হয়ে পড়তে পারে। আমাদের সঙ্গে অনেকগুলো বিমান, হেলিকপ্টার, গাড়ি ও অনেক মানুষ ছিল। আয়োজক দেশের কাছে কখনও কখনও তা সামান্য বেশি বলে মনে হতেই পারে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে স্বাগত না জানানোর কারণে চীনের ওপর তিনি বিরক্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের রাইস বলেন, ‘যা হয়েছে তা ধারণাতীত।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নানা প্রকার টানাপোড়েন রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সেনা কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সাইবার হ্যাকিং ও যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল বিরোধী সিস্টেম নিয়েও নানা ইস্যু রয়েছে।

আর/১০:১৪/০৪ সেপ্টেম্বর 

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে