Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-০৪-২০১৬

ফাঁসিতে স্বস্তি, কাসেমের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

ফাঁসিতে স্বস্তি, কাসেমের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

চট্টগ্রাম, ০৩ সেপ্টেম্বর- মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন একাত্তরে চট্টগ্রামে এই বদর কমান্ডারের পরিচালিত ‘মৃত্যুঘর’ ডালিম হোটেলের নির্যাতিতরা।

এই ডালিম হোটেলে মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে হত্যায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এরপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেখানে নির্যাতিতদের কয়েকজন বলেন, এই শাস্তির মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। বুকের ওপর থেকে যেন পাথর নেমে গেছে তাদের। 

মীর কাসেমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করার দাবি করেছেন তাদের একজন।

একাত্তরে দেশ স্বাধীনের ২২ দিন আগে চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া এলাকা থেকে ধরে পুরাতন টেলিগ্রাফ অফিস রোডে অবস্থিত ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াসকে।

মীর কাসেমের ফাঁসির পর তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার টনের বোঝা নেমে গেছে। জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

“আমরা যারা সেখানে নির্যাতিত হয়েছি, যারা তাদের স্বজন হারিয়েছে তাদের মনের দুঃখ মিটেছে। আমি খুবই আনন্দিত তার ফাঁসি হওয়ায়। চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হল।’’

ডালিম হোটেলে নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইলিয়াস বলেন, ওই কেন্দ্রে তাকেসহ বন্দি অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় প্রতিদিন অমানুষিক নির্যাতন করা হত। হোটেলের অনান্য কক্ষ থেকে মানুষের গোঙানির শব্দ শুনতে পেতেন।

“চট্টগ্রামের তৎকালীন বদর কমান্ডার কাসেম আলীই ডালিম হোটেলে হত্যা-নির্যাতনের নেতৃত্ব দিতেন।”

ডালিম হোটেলে নির্যাতিত অপর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ এমরান বলেন, “কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরে তার হাতে নির্যাতিত একজন হিসেবে আমি খুবই খুশি। তার ফাঁসি হওয়ার মাধ্যমে জাতি মুক্তি পেয়েছে।

“কিন্তু মীর কাসেমের বিশাল সাম্রাজ্য রয়ে গেছে। তা বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহার করা হোক।”

ইমরান বলেন, মীর কাসেম আলী ও পাক সেনারা একাত্তরের ৩০ নভেম্বর চান্দগাঁও এলাকার বাড়ি থেকে তাকেসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকে ধরে নিয়ে আসেন।

“ডালিম হোটেলের দোতলার একটি কক্ষে চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে আটকে রেখে প্রতিদিনই শারীরিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড  মীর কাসেমের নির্দেশেই হত।”

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন নগরীর হাজারী লেইনের বাসিন্দা মৃদুল দে। ওই এলাকার বাসিন্দা টুনটু সেন ও রঞ্জিত দাশকে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।

একাত্তরের এই ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “যারা আঘাতপ্রাপ্ত, নির্যাতিত, মারা গেছে তাদের এবং তাদের স্বজনদের জন্য আজ শুভদিন। তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।”

ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কুকর্ম কেউ করতে না পারে সেজন্য এই শাস্তি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

আর/১৭:১৪/০৩ সেপ্টেম্বর 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে