Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৯-০১-২০১৬

টিকিট ছাড়াই ফিরতে হবে বহু মানুষকে

এম গোলাম মোস্তফা


টিকিট ছাড়াই ফিরতে হবে বহু মানুষকে

ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর- ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে চাওয়া মানুষদের কাছে আজ বিক্রি করা হচ্ছে ১০ সেপ্টেম্বরের টিকিট। অন্যদিনগুলোর মতো বৃহস্পতিবারও সকাল আটটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিট পেতে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও অনেককেই ফিরতে হবে খালি হাতে। কারণ আজ ২৩ হাজার টিকিট দেয়ার কথা থাকলেও লাইনে দাঁড়িয়েছেন তার চেয়েও অনেক টিকিট প্রত্যাশী। এ কারণে অনেককেই টিকিট ছাড়াই ফিরতে হবে।

কমলাপুরে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কাঙ্খিত টিকিট পেতে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। এদের অনেকে গতকাল বিকাল থেকে আবার অনেকে মধ্যরাত থেকে অপেক্ষা করছেন টিকিটের জন্য। পুরুষের পাশাপাশি লাইনে দাঁড়ানো নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তারাও গতকাল বিকাল থেকে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

সকাল আটটা থেকে একযোগে ১৩টি কাউন্টার থেকে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় ছিল উপচেপড়ার মতো। মানুষের এই স্রোত সেনটশনের প্লাটফর্ম ছাড়িয়ে কমলাপুর রেলওয়ে থানার সামনে পর্যন্ত চলে গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

রেল কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা থেকে ঈদ যাত্রা শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় অফিস আদালত, স্কুল কলেজ ছুটির পর বিকেল থেকেই কমলাপুর স্টেশন মানুষের পদচারনায় মুখরিত হবে। তাদের এ যাত্রা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আর এ কারণেই ৯, ১০, ১১ তারিখের ঈদের টিকিটের এত চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গতকাল দেয়া হয় ৯ সেপ্টেম্বরের অগ্রিম টিকিট এবং একারণেই টিকিট প্রত্যাশীদের মূল ভিড় শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন ২৩ হাজার অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ টিকিট দেওয়া হচ্ছে অনলাইনে, ৫ শতাংশ ভিআইপি এবং ৫ শতাংশ রেলওয়ে কমকর্তা-কমচারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সকালে কমলাপুর স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, ১০ সেপ্টেম্বরের যাত্রীরা টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় কেউ গতকাল বিকাল থেকে কেউবা রাত ১২টা আর কেউবা ভোর ৪টায় দাঁড়িয়েছেন অগ্রিম টিকিটের জন্য।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেসের ঈদের অগ্রিম টিকিটের জন্য দাঁড়িয়েছেন মো. ইলিয়াস আহমেদ। তিনি যাবেন গাইবান্ধায়। তিনি বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্যই এতো কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছি। রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো হওয়াতে এতো লোকের ভিড়েও তেমন কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

রাজশাহীগামী সিল্কসিটি ট্রেনের টিকিটের জন্য আরেকটি লাইনে দাঁড়িয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাতটা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি শুরু হবে আর ওই দিনই পরিবার নিয়ে রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবো।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোর থেকে এ বছর রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো। টিকিট কালোবাজারী নেই, নেই অব্যবস্থাপনাও। এই বিষয়গুলি তারা খুব ভালোভাবেই দেখাশোনা করছে। এতো লোকের ভেতর কোন বিশৃঙ্খলা নাই মন্তব্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবতীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, অগ্রিম টিকিট দেয়া থেকে শুরু করে যাত্রীদের বাড়ী পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি। আশা করি কোনো ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে পারব।

সিতাংশু আরও বলেন, প্রতিদিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২৩ হাজার অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ফিরতি টিকিট বিক্রি, চলবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ৩১টি আন্ত‍ঃনগর ছাড়াও প্রতিদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ৬৯টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। সব ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিনের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় অর্ধলাখ।

আর/১৭:১৪/০১ সেপ্টেম্বর 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে