Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-৩১-২০১৬

পিবিআই তদন্ত প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন রাগীব আলী!

পিবিআই তদন্ত প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন রাগীব আলী!

সিলেট, ৩১ আগষ্ট- জালিয়াতির দুটি মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিলেন পলাতক কথিত দানবীর রাগীব আলী। এ জন্য প্রলোভন, হুমকির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে ওই দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হন। অনুসন্ধানে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। প্রথমে এই দুটি জালিয়াতি মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানাকে। কিন্তু দায়িত্ব পেয়েও রহস্যজনক কারণে তদন্ত করেনি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। ফলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে প্রায় এক যুগের মাথায় সক্রিয় করা মামলা দুটি কোতোয়ালি মডেল থানার পরিবর্তে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। পিবিআই দুটি মামলা তদন্ত করে চার্জশিট প্রদান করলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রায় ১১ বছর পর তদন্তে নেমে মন্ত্রণালয়ের চিঠি জাল করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ভূ-সম্পদ আত্মসাতের আড়ালের ঘটনার সত্যতা পায় পিবিআই। গত ১০ আগস্ট আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তড়িঘড়ি করে ওই দিনই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গোপনে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব আলী। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর আরও অনেক রহস্য বেরিয়ে আসছে অনুসন্ধানে। যে দুটি মামলায় রাগীব আলী সপরিবারে দেশান্তরী সেই দুটি মামলাই তদন্ত করেছে পিবিআই। মামলার তদন্ত তত্ত্বাবধান করেন পিবিআইয়ের সিলেট বিভাগের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারওয়ার জাহান। এর মধ্যে তদন্ত চলাকালীন আড়ালে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরেন রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি জানান, রাগীব আলীর দুটি জালিয়াতি মামলা তদন্ত চলাকালীন অফিসে প্রায়ই ফোন আসত। প্রলোভন দেখানো হতো বিশাল অংকের। অফার দেয়া হয় লাখ লাখ টাকার। বলা হতো, মামলার চার্জশিট না করতে। এতে সায় না পাওয়ায় শুরু হয় হুমকি দেয়া। তদন্ত প্রভাবিত করতে বলা হতো চার্জশিট করতে গেলে ক্ষতি হবে। রাগীব আলীকে রক্ষায় করা ওই ফোনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তাদের আপনজন বলে দাবি করা হতো। তাকে দিয়ে ফোন করিয়ে প্রমোশন আটকে দেয়া এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকিও দেয়া হতো। কিন্তু পিবিআই কোনো প্রলোভন, হুমকি-ধমকিতে থেমে না গিয়ে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ামতে চার্জশিট প্রদান করেছে।

পিবিআইয়ের সিলেট বিভাগের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক আরও জানান, জনবল ও সুবিধাদি নগণ্য থাকলেও সিলেট বিভাগের চার জেলার অধিকাংশ আলোচিত মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।

গত ১০ জুলাই আদালতে দুটি চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। এর মধ্যে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ১১৭নং মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইয়ের এসআই দিলীপ কুমার নাথ। তদন্তে জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে গত ১০ জুলাই চার্জশিট দাখিল হয়। এতে রাগীব আলী, সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত, দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, আবদুল হাই, আবদুল কাদির ও রোজিনা কাদিরকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রাগীব আলীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন মৃত্যুবরণ করায় চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়। অভিযুক্ত সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্ত আদালতে আত্মসমর্পণের পর এখন তিনি জামিনে রয়েছেন। রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর। পিবিআইয়ের এসআই দেওয়ান আবুল হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর গত ১০ জুলাই মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযুক্ত করা হয় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে।

পৃথক দুটি চার্জশিট সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে দাখিল করা হয়। গত ১০ আগস্ট চার্জশিটের শুনানির পর রাগীব আলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন। বর্তমানে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। সিলেট কোতোয়ালি থানায় এই দুটি এজাহার দায়েরের সময় সরকারি দফতরের স্মারক জাল করে ভুয়া চিঠি সৃজনসহ জালিয়াতির ৪টি প্রমাণপত্রও জমা দেন মামলার বাদী। গত ১৯ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের নির্দেশনার আলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এই দুটি জালিয়াতির মামলা।

এফ/০৯:০০/৩১আগষ্ট

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে