Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-৩১-২০১৬

কাঁধেই মৃত্যু হলো শিশুটির

কাঁধেই মৃত্যু হলো শিশুটির

কানপুর, ৩১ আগষ্ট- ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে অসুস্থ ছেলেকে কাঁধে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মনযোগ আকর্ষণ করতে পারেননি সরকারি ডাক্তারদের। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় ছেলেটি বাবার কাঁধেই মারা যায়। ১২ বছর বয়সী এই ছেলেটির মৃত্যু নিয়ে ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।  

বাবা সুনীল কুমারের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসার শুক্রবার ছেলে আমার কাঁধেই মারা যায়। জরুরি ভিত্তিতে আমি ছেলেকে সরকারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম।কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি।শত চেষ্টা করেও ডাক্তারদের মনযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ঘটনাটি বিস্তারিত উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা সেবা পেতে বিলম্বিত হওয়ার অভিযোগে উত্তর প্রদেশের সরকার দুটি তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সুনীল কুমার পেশায় একজন মেকানিক। তার ছেলে গত দুই দিন ধরে মারাত্মক জ্বরে ভুগছিল। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে দুই দিন চিকিৎসা দেয়া হয়।

সুনীল জানান, তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো এবং খুব মেধাবি ছিল। তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। দুই দিন পর ক্লিনিকের চিকিৎসক তার ছেলেকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।সে অনুযায়ী ছেলেকে কানপুর শহরের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল ‘হালেট হাসপাতালে’ নিয়ে যাই। ছেলেকে নিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করি হাসপাতালে। তারপর আমাকে ২০০ মিটার দূরে শিশু বিভাগে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এই ৩০ মিনিটে ছেলেকে কোনো ডাক্তার এসে একবার ধরেও দেখেনি। ভীষণ অসুস্থ ছেলেটিকে শিশু বিভাগে নেয়ার জন্য কোনো স্ট্রেচারও দেয়া হয়নি। পরে  নিরুপায় হয়ে ছেলেকে কাঁধে নিয়ে হেঁটেই রওয়ানা দেই। আর এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন একজন সাংবাদিক। 

শিশু বিভাগে নেয়ার পর তাকে জানানো হয় ছেলে মারা গেছে। কিছুক্ষণ আগে তার ছেলেকে নিয়ে আসা গেলে হয়তো বাঁচানো যেত। 

সুনীল কান্না করে বলেন, আমার নয় মিনিট লেগেছিল শিশু বিভাগে যেতে। এই নয় মিনিটে আমার ছেলে কিভাবে মারা গেল?’

হালেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গিয়েছিল।

হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: আরসি গুপ্তা বলেন, ‘আমরা তাকে ভর্তি করেছিলাম। তার কোনো হৃদস্পন্দন, নাড়ির স্পন্দন ছিল না এবং চোখ জমাট বেঁধে ছিল। হাসপাতালে আনার দুই থেকে তিন ঘন্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।’    

উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিদাস মেহরোত্রা বলেন, অপরাধী যেই হোক কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’

সম্প্রতি এনডিটিভিতে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের পর ভারতে সাধারণ জনগণের চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ চিত্র উঠে এসেছে। গেল সপ্তাহে ওডিশা প্রদেশে দানা মাঝি নামে দিনমজুর টাকার অভাবে তার মৃত স্ত্রীকে কাঁধে করে নিয়ে দশ কিলোমিটার হাঁটতে দেখা গিয়েছিল।

পরে এক টিভি সাংবাদিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেন। আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওডিশায় ট্রেনে কেটে পড়ে মারা যায় ৭৬ বয়সী এক বৃদ্ধা। পরে হাসপাতাল দুই কর্মচারী বৃদ্ধার কোমড়ের হাড় ভেঙে পুটলিতে ঢুকিয়ে বাঁশের সঙ্গে বেধে গন্তব্যে নিয়ে যায়।

আর/১২:১৪/৩১ আগষ্ট

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে