Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-৩০-২০১৬

মারদিনির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অন্যরকম কাহিনী

শামীম হাসান


মারদিনির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অন্যরকম কাহিনী

প্রতিযোগিতায় সফলদের সাফল্য নিয়ে আমরা আনন্দে মেতে উঠি। এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু আমরা কখনো দেখিনি এই সাফল্যের পেছনে অমসৃণ পথটা। বেশির ভাগ না বলে বলা ভালো সব সফল প্রতিযোগিদের সাফল্যের লড়াইটা একটু ভিন্ন প্রকৃতির। 

কঠোর পরিশ্রম তো থাকেই- তার সঙ্গে তাদের এই সাফল্যের চলার পথে বেশ কিছু চমৎকার গল্পও থাকে। এবারের অলিম্পিকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরাও এর চেয়ে ব্যতিক্রম নন। সবারই কম বেশি কিছু কিছু ঘটনা থাকে, তবে ইউসরা মারদিনির ব্যাপারটা একেবারেই অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। শুধু তাই নয়, ভয়ঙ্কর তো বটেই সে সঙ্গে মানবিকও।

মারদিনি নামী কোনো অ্যাথলিট নয়, তবে এবারের অলিম্পিকে তার অংশ গ্রহণটা অবশ্যই অনেক অনেক বড় বিষয়। যেখানে জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই, জীবনের নেই সঠিক ঠিকানা, মৃত্যু এসে কখন ঘরের দরজায় দাঁড়ায়- প্রতিটা মুহুর্ত সেই আতঙ্কে কাটে, যেখানে প্রতিদিন দেখতে হয় লাশের মিছিল সেখানে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই অস্বাভাবিক এক ব্যাপার।

বলা হচ্ছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার কথা। মৃত্যু এখানকার মানুষের নিত্য সঙ্গী। যেখানে লাশের দাফন করতে সময় যায় সেখানে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অলিম্পিকে অংশ গ্রহণের চিন্তা করার সময় কোথায়। তাদেও সে সময়ও ছিল না। প্রতিযোগীদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। তাই তো শরনার্থী অলিম্পিক অ্যাথলিট হয়েই মারদিনি অলিম্পিকে অংশ নেন; কিন্তু সিরিয়ান এ সাঁতারুর অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বরং ভয়ঙ্কর এক পথ পাড়ি দিয়ে তাকে পৌঁছাতে হয়েছিল ব্রাজিলে।

যুদ্ধের কারণে একটা সময় দেশে বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। মারদিনিও  সিরিয়ায় থাকা নিরাপদ মনে করেনি। দেশের ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে ২০১৫ সালের আগস্টে ছোটো বোনকে সঙ্গে করে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। লেবানন, তুরস্ক হয়ে গ্রিসে পৌঁছানো ছিল তাদের লক্ষ্য। লেবানন হয়ে তুরস্কে তুলনামূলক ভালোভাবে পৌঁছাতে পারলেও কল্পনা করতে পারেননি সামনে কি ভয়ঙ্কর অবস্থা অপেক্ষা করছে। 

ছয়জন যাত্রীর উপযোগী মোটরচালিত এক নৌকায় করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করেন। ছোট্ট এ নৌকায় গাদাগাদি করে ধারণক্ষমতার তিনগুনেরও বেশি যাত্রী (২০ জন) নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাদের। ভাগ্যটা যে মোটেও সুপ্রসন্ন ছিল না তা বুঝতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি মারদিনিদের। এমন এক নৌকা করে ভূ-মধ্য সাগর পাড়ি দেওয়ার কথা চিন্তা করাই কঠিন। সেখানে ছোট্ট এই নৌকাটি বিশাল সমুদ্রে চলতে চলতে হঠাৎ করে শব্দ হারিয়ে ফেলে। বন্ধ হয়ে যায় ইঞ্জিন।

হঠাৎ করে যেনো তাদের সবার হৃদস্পন্দন থমকে যায়। সাগর শান্ত থাকলেও যাত্রীদের মনে দুঃশ্চিন্তার ঝড় বয়ে যেতে শুরু করে। আর এটাই সর্বৈব্য সত্য যে, যাত্রীদের বেশির ভাগই সাঁতার জানেন না। এমন অবস্থায় মারদিনি সাহস হারালেন না, বরং ভীত সন্ত্রস্ত যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। নিজের বিপদের কথা চিন্তা না করে ভয়ঙ্কর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। ছোটো বোনকে নিয়ে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। না, যাত্রীদের ফেলে নিজেরাই বাঁচার জন্য এটা করেনি।

বরং নিজেদের জীবনকে ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়ে যাত্রীবাহী নৌকা টেনে নিয়ে যেতেই নিজেরা ওই ভয়ঙ্কর ঠান্ডা পানিতে নেমে পড়েন। কাজটা যে সহজ ছিল তা কিন্তু নয়। এক হাতে নৌকার দড়ি আর এক হাতে সাঁতরে এগিয়ে চললেন দুই বোন। তিন ঘন্টারও বেশি সময় ঠান্ডা পানিতে সাঁতরে দুই বোন নৌকাসহ লেসবসে এসে পৌঁছান। ভয়ঙ্কও সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মারদিনি বলেন, ‘নৌকাতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে মাত্র চারজনে সাঁতার জানত। আমার এক হাত নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং এক হাত ও দুই পায়ে আমি সাঁতরে এগুতে থাকি। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা প্রচণ্ড ঠান্ডা পানিতে আমাকে সাঁতরাতে হয়েছিল। আমার শরীরটা হিম হয়ে গিয়েছিল। আসলে এটির বাস্তব অবস্থা কখনোই মুখে বলে বোঝানো যাবে না।’

লেসবসের পর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া হয়ে মারদিনি ও তার বোন সারাহ চূড়ান্ত লক্ষ্যে জার্মানিতে গিয়ে পৌঁছান। বার্লিয়ে স্থায়ী হয়েই মারদিনি মনোযোগ দেন সাঁতারে। মারদিনির পারফরম্যান্স দেখে তার কোচ তাকে ২০২০ সালের অলিম্পিকের জন্য বিবেচনা করছিলেন; কিন্তু সিরিয়া অলিম্পিক কমিটি নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল। শেষ পর্যন্ত সবকিছু বিবেচনা করে তাকে শরনার্থী দলের হয়ে ব্রাজিল অলিম্পিকে সুযোগ করে দেওয়া হয়। 

১০০ মিটার বাটার ফ্লাই এবং ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে তিনি প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। পদক তিনি পাননি তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের প্রতিনিধি হয়ে অদম্য সাহস আর পরিশ্রমে যে তিনি অলিম্পিকে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নামতে পেরেছেন তাতেই বিশ্ববাসী অবাক। মারদিনির এমন অবদান বিশ্বকে অনেক দিন মনে রাখতে বাধ্য করবে। আগামী অলিম্পিকে হয়তো মারদিনিকে অন্যভাবে দেখা যাবে। নিয়মিত অনুশীলনে নিজেকে আরো দক্ষভাবে গড়ে তুলবেন। 

তবে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্নটা কিন্তু ঠিকই মনে লালন করে চলেছেন মারদিনি। তাই তো এমন দৃঢ় উচ্চারণ তার কণ্ঠে, ‘সম্ভবত আমি আমার ক্যারিয়ার জার্মানিতে গড়বো এবং বয়সটা যখন বেড়ে যাবে তখন সিরিয়ায় ফিরে যাবো এবং আমার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মকে জানাবো। তারা এখান থেকে শেখার চেষ্টা করবে।’

অনিশ্চিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সিরিয়াকে কী আদৌ মারদিনিরা শান্তির দেশ হিসেবে দেখতে পাবেন? যে স্বপ্নের জালা তারা বুনছেন, সেটা কী কখনও বাস্তবায়ন হবে। পারবে কী তারা আবারও নিজের দেশ, নিজের জন্মভুমিতে ফিরে গিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারবেন? জবাব দেশে বিশ্ব রাজনীতিবিদরা।

এফ/১৬:১৫/৩০আগষ্ট

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে