Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-৩০-২০১৬

নিহত রিপনই ‘আনসার রাজশাহী’র মাস্টারমাইন্ড

রিমন রহমান


নিহত রিপনই ‘আনসার রাজশাহী’র মাস্টারমাইন্ড

রাজশাহী, ৩০ আগষ্ট- বগুড়ার শেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন তাদের একজন নতুন ‘জঙ্গি’ সংগঠন ‘আনসার রাজশাহী’র মাস্টারমাইন্ড আবু ইব্রাহীম ওরফে তারেক ওরফে রিপন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকা-েরও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই রিপনকেই হন্য হয়ে খুঁজছিল রাজশাহী মেট্টোপলিটন এবং জেলা পুলিশ।

বগুড়ার শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরফান আলী জানান, ভোররাতে বন্দুকযুদ্ধে দুই ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনায় রাত আটটার দিকে উপপরিদর্শক এবাদ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এজাহারে রিপনের পুরো নাম লেখা হয়েছে, আবু ইব্রাহীম ওরফে তারেক ওরফে রিপন। রিপন রাবি শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা মামলারও আসামি হওয়ায় ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী নগর পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিককে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই নামটি শেরপুরে নিহত জঙ্গি রিপনের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।

গত ১৬ আগস্ট রাজশাহীর বাগমারায় জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার রাজশাহী’র সন্ধান পায় পুলিশ। সেদিন আটক করা হয় আমিনুল ইসলাম ওরফে রুমি ও এনামুল হক ওরফে সবুজ নামে সংগঠনটির দুই সদস্যকে। পরে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছিলেন, সংগঠনটির মাস্টারমাইন্ডের নাম আবু ইব্রাহীম ওরফে তারেক ওরফে রিপন। গ্রেপ্তার রুমি ও সবুজ ‘থ্রিমা’ অ্যাপসের মাধ্যমে রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। ওই ঘটনায় করা মামলার আসামি করা হয় রিপনকেও। রুমি ও সবুজকে গ্রেপ্তারের পর বাগমারা থানায় একটি মামলা করা হয়। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও ছিলেন রিপন, যিনি সোমবার ভোররাতে বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। এছাড়া বন্দুকযুদ্ধে জেএমবির সামরিক কমান্ডার বদর মামা ওরফে খালেদ মামাও নিহত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিপন রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া মহল্লায় নিজের বাসায় থাকতেন। গত তিন মাস ধরে তিনি ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। রাজশাহীতে রিপন ‘তান’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার নিখোঁজ থাকার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৯ মে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রিপনের বাবার নাম গোলাম সবুর ওরফে বাবলা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। প্রতিবেশীরা জানান, রিপন ও তার বোন সামিনা ফেরদৌস যখন ছোট ছিলেন তখন তাদের বাবা মারা যান। তারপর তাদের মা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান। রিপনের দাদী তাদের লালনপালন করেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে তার দাদী তাদের তিনতলা একটি বাড়ি তৈরি করে দেন।

পাঠানপাড়া মহল্লার এই বাসার হোল্ডিং নাম্বার ১৬৯। রিপন থাকতেন নিচতলায়। দ্বিতীয় তলায় তার চাচা পরিবার নিয়ে থাকেন। তৃতীয় তলার মালিক ছিলেন রিপন। সেটি তিনি ভাড়া দিয়েছেন।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, রিপন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর সোমবার বিকালে পুলিশ এই বাসায় অভিযান চালায়। বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ইব্রাহিমের চাচা আবদুস সালাম, চাচাতো ভাই ইউসুফ আলী ও বোন সামিনা ফেরদৌসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানতে চাইলে রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের নিয়ে আসা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

আর/১২:১৪/৩০ আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে