Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-৩০-২০১৬

সহধর্মিনী জেল গেটে এসে বলল, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী

জাকিরুল আহসান


সহধর্মিনী জেল গেটে এসে বলল, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী

ঢাকা, ৩০ আগষ্ট- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম নিজের ইচ্ছায় আত্মজীবনী লিখতে শুরু করেননি। তার আত্মজীবনী লেখার পেছনে ছিল সহধর্মিনী ও বন্ধুবান্ধবের অনুরোধ। বঙ্গবন্ধু এও ভাবেননি তার জীবনের ঘটনাগুলি ইতিহাসের পাতায় এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ধরা দেবে। তিনি বলতেন, আমার জীবনের ঘটনাগুলি জনসাধারণের কি কোন কাজে লাগবে?

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বইটিতে তার বংশ পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। আছে লেখকের কারাজীবন, পিতা মাতা, সহধর্মিনী ও সন্তানদের নিয়ে একান্ত কিছু স্মৃতির কথা।

বঙ্গবন্ধুর ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়। খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায় অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী লেখার শুরুটা এভাবে করেছেন- বন্ধুবান্ধবরা বলে, “তোমার জীবনী লেখ। সহকর্মীরা বলে, রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।” আমার সহধর্মিনী একদিন জেল গেটে এসে বলল, “বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী।” বললাম, লিখতে যে পারি না; আর এমন কি করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলি জেনে জনসাধারণের কি কোন কাজে লাগবে। কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।

এর পর তিনি লিখেছেন-একদিন সন্ধ্যায় বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দিয়ে জমাদার সাহেব চলে গেলেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছোট্ট কোঠায় বসে বসে জানালা দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ভাবছি, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কথা। কেমন করে তার সাথে আমার পরিচয় হল। কেমন করে তার সান্নিধ্য পেয়েছিলাম।

হঠাৎ মনে হল লিখতে ভাল না পারলেও ঘটনা যতদূর মনে আছে লিখে রাখতে আপত্তি কি? সময় তো কিছু কাটবে। বই ও কাগজ পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে দুটো চোখ ব্যাথা হয়ে যায়। তাই খাতা নিয়ে লেখা শুরু করলাম।

বঙ্গবন্ধু এর পর লিখেছেন, আমার স্ত্রী যার ডাক নাম রেনু-আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেল গেটে জমা দিয়েছিল। জেল কতৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম। এভাবেই এগিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী লেখা।

আর/১০:১৪/২৯ আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে