Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-২৭-২০১৬

ফারাক্কা খুলে দেয়ার পর এবার তীর ভাঙছে পদ্মা

ফারাক্কা খুলে দেয়ার পর এবার তীর ভাঙছে পদ্মা

পাবনা, ২৭ আগষ্ট- পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুর, ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়ায় নদী তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সব কটি গেট খুলে দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত তৈরি হয়েছে। আর এই স্রোত নদী তীরে আঘাত হানায় শুরু হয়েছে ভাঙন।

খাইরুল ইসলাম বাসিদ জানান, গত চার দিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গত ১২ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে আরও চার সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পানি পরিমাপ করা হয় ১৪ দশমিক ১২ মিটার। গত সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত পানি বেড়েছে চার সেন্টিমিটার। আর ১৩ সেন্টিমিটার বাড়লেই পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

পদ্মায় কেবল পানি বাড়ছে না, সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে তীব্র স্রোতে। নদীর এই রূপ গত এক দশকেও দেখেনি স্থানীয়রা। কী হচ্ছে দেখতে নদী তীরে দিনভর পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয়রা। স্রোতের কারণে নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জেলেরা মাছ ধরছে একেবারে তীর ঘেঁষে।

শরীয়তপুর, ফরিদপুরের মত পাবনাতেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউনিয়নে বেশ কিছু এলাকা এবং ইসলামপুর, বড় বাঝদিয়া, ছোট মাঝদিয়া তীর ভাঙছে পদ্মা। পানি ঢুকে পড়েছে রূপপুর এলাকাতেও।

নদী ভাঙনের কারণে এসব এলাকায় পদ্মার তীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল করিম।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাজিদুল ইসলাম বাপ্পী জানান, গত চারদিন ধরে পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বাড়ছে। জেলার দৌলতপুর উপজেলা চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩২টি ও ভেড়ামারা উপজেলার তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি বাড়তে থাকায় নদী ও নদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাঁধে নজর রাখছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক বলেন, ‘ভারত তাদের ফারাক্কা বাধের দরজা খুলে দিয়েছে। এতে পদ্মায় পানি বেড়ে যাচ্ছে।’ 

দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ইউনিয়নের চেয়াম্যান সৈয়দ আহম্মেদ জানান, দুই দিনের পানি বৃদ্ধিতে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৫টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, নদী এলাকার চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান জানান, তাঁর ইউনিয়নের ঢাকপাড়া চর তলিয়ে গেছে। সেখান থেকে ১৫০টি পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। গোলাপনগর এলাকার ৭৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে সরিয়ে নেয়া হয়েছে আরও দেড় শতাধিক বসতবাড়ি। হুমকির মুখে রয়েছে জেলার ছোটবড় অন্তত ২০টি হাটবাজার, তিনটি প্রথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়, কয়েকশ একর কৃষি জমি।

সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত দেড় হাজার পরিবার। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে দুর্গতরা। বহু সম্পদশালী মানুষই কপর্দকহীন হয়ে গেছে পদ্মার রূদ্ররূপের কারণে। অর্থ ও শ্রমিক সংকটের কারণে স্থাপনাও সরিয়ে নিতে পারছেন না দুর্গতরা।

শুক্রবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান। প্রাণহানি এড়াতে নদীর তীর থেকে স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিগগির ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের কোন বিকল্প নেই, বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শীগগিরই প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের শরীয়তপুর শাখার সহকারী প্রকৌশলী শুক্কুর আলী মিয়া।

ফরিদপুর প্রতিনিধি মফিজুর রহমান জানান, এই জেলায় পদ্মা ভাঙছে চরভদ্রাসন উপজেলায়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের এমপিডাঙ্গী গ্রামের কয়েকটি স্থানে পাঁচ একর ফসলি এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পারে বড় বড় ফাটল ধরেছে। তীরে স্রোত আঘাত হানার সঙ্গে ধসে পড়ছে মাটি। ভাঙনের কারণে এলজিইডির পাকা রাস্তাটিও হুমকিতে রয়েছে।

পানি বাড়তে থাকলে এমপিডাঙ্গীর পাশাপাশি বালিয়াডাঙ্গী, হাজীডাঙ্গী, মাথাভাঙ্গা, জয়দেব সরকারের ডাঙ্গীতেও ভাঙন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা সিদ্দিকা জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধের জন্য বালুর বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এফ/২০:৩২/০১আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে