Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৫-২০১৬

শিক্ষক নিয়োগে ২৪ রিটকারির তথ্য ভূয়া!

শাওন ইসলাম


শিক্ষক নিয়োগে ২৪ রিটকারির তথ্য ভূয়া!

ফরিদপুর, ২৫ আগষ্ট- ভূয়া তথ্য দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে তারা উচ্চ আদালত থেকে আদেশও পেয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে আদালতের নথি পৌঁছলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাহি কর্মকর্তা ও ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

ওই ২৪ ব্যক্তি আদালতের আদেশের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদেরও প্রশ্রয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সদ্য জাতীয়করণকৃত ওইসব স্কুলে আগে থেকেই প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগের যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এরা দীর্ঘদিন আদালতে লড়াই করেই জাতীয়করণকৃত স্কুলে নিয়োগ পেতে হাইকোর্টের রায় পেয়েছেন। ভূয়া এই ২৪ ব্যক্তির জন্য প্যানেলভুক্তদেরকে আবার আদালতে দৌড়াতে হচ্ছে।

জানা যায়, এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে রিটকারী ২৪ ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ স্কুলে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। এই ২৪ ব্যাক্তিকে কোনোভাবেই হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেন আদালত। এসব শিক্ষকের পদ স্থায়ী করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই ২৪ ব্যক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিতে কেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদিদের প্রতি রুলও জারি করেন আদালত। রুলের জবাব দিতে ৬ সপ্তাহের সময় দেয়া হয়। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিটকারীদের সংশ্লিষ্ট স্কুলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

রিটকারী ২৪ জন তাদের রিট আবেদনে দাবি করেন যে, তারা ২০০৯ সাল থেকে এসব স্কুলে কর্মরত। পঞ্চম পদে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু জাতীয়করণের সময় তাদের নাম বাদ পড়ে। কিন্তু আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, রিট আবেদনে বর্ণিত কোনো শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত নাই। রিট আবেদনে বর্ণিত ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণ সম্পর্কিত উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইসব বিদ্যালয়ে কর্মরত ৪ জন করে শিক্ষকের নাম গেজেটের জন্য সুপারিশ আকারে পাঠায়। পরে উপজেলা কমিটির পাঠানো সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতিটি স্কুলে ৪ জন করে শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রিট আবেদনে বর্ণিত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নজরে এলে ওই ২৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় ২৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রদত্ত লিখিত প্রত্যয়ন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এ ধরণের কোনো শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়নি বা কোনো শিক্ষক কর্মরত নাই। ওই ২৪টি স্কুলে ২৩টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরা খাতায়ও এ ধরণের কোনো শিক্ষকের স্বাক্ষর নাই। কেবল একটি বিদ্যালয়ে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে একজন শিক্ষক কর্মরত আছেন বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান। কিন্তু তিনিও তার নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, স্কুলগুলো জাতীয়করণের পর ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয়করণকৃত প্রতিটি স্কুলে ৫টি করে পদ অর্থাৎ পঞ্চম পদ সৃষ্টি করা হয়। এর আগে কোনো স্কুলে পঞ্চম পদ ছিলো না এবং ২০১৩ সালের আগে পঞ্চম পদে নিয়োগ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। একই ধরণের বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা।

গত ২১ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। তাদের সেই আবেদনের সাথে প্রতিবেদনগুলোও যুক্ত করা হয়।
রিটকারী ২৪ জন হলেন- নাজমুল হুদা, আবুল কালাম, শাহনাজ লিপি, নাহিদা আক্তার, ফেরদৌসী, রুনা, ইমারত হোসেইন, মোস্তাফিজুর রহমান, শিখা খানম, সালেহা পারভীন, রাজিয়া সুলতানা, কবিতা রাণী রায়, সোমা চৌধুরী, রূপালি আক্তার, আফরোজা খাতুন, মাহাদি হাসান, সুজন শেখ, আকরামুল ইসলাম, মো. আলিমুজ্জামান, জিয়াউর রহমান, তারা রানী বারি, ফাহিমা আক্তার, লাইজু আক্তার, শিরিন আক্তারি।

জাতীয়করণের আগে এসব স্কুল বেসরকারি রেজিস্টার্ড স্কুল হিসাবে ছিলো। সেসব স্কুলে নিয়োগের জন্য সরকার আগেই একটি প্যানেল করেছিলো। প্যানেলভুক্তদের একটি অংশ জাতীয়করণের আগেই নিয়োগ পান। পরে স্কুল জাতীয়করণ হলে তারাও সরকারি শিক্ষক হিসাবে সুবিধা পান। কিন্তু জাতীয়করণের পর আগে তৈরি করা প্যানেলে যারা বাকি ছিলেন, তাদের নিয়োগ দিচ্ছিলো না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। পরে প্যানেলভুক্তরা আদালতে রিট করেন। সেই রিটে তাদের পক্ষে রায় আসে। পরে আদালতের রায় অনুসারে অধিদফতর প্যানেলভুক্ত বাকিদেরও নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। এদের মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায়ও আছে কয়েকশ জন। কিন্তু ভূয়া রিটকারীদের জন্য এখন ওইসব প্যানেলভুক্তরা নিয়োগ পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপাওে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার শিব পদ দে বলেন, আমি একটি প্রতিবেদন আমার ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছি। তবে সে প্রতিবেদনে এই ২৪জন ব্যাক্তি সম্পর্কে কি লিখেছেন সে বিষয়টি পরিস্কার করেন নি তিনি। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এ ব্যাপারে আগামী ২৮ আগষ্ট সুপ্রিমকোর্টে একটি মামলার শুনানি আছে, বিচারাধীণ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসাঈনকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনা পর্যদের আইন বিভাগের সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, আদালতে ২৪ জন শিক্ষক যে সকল নথিপত্র জমা দিয়েছে সেগুলো মিথ্যা।

তিনি বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে তারা যে আদেশ নিয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে আমরা সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেছি। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্তাধীন একটি বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ আগষ্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েব সাইড থেকে জানা গেছে, রোববার (২৮ আগষ্ট) এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ৪০ নম্বর আইটেমে রাখা আছে।

আর/১০:১৪/২৫ আগষ্ট

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে