Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৫-২০১৬

‘জঙ্গি’ শামীম সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে

‘জঙ্গি’ শামীম সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে

ঢাকা, ২৫ আগষ্ট- ঢাকার শাহবাগে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার অন্যতম হোতা হিসেবে বুধবার টঙ্গি থেকে পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি মইনুল হাসান শামীমকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে গ্রেফতার হওয়ার আগে অনেকেই, বিশেষ করে তার নিজের এলাকার মানুষজন তার এ পরিচয় সম্পর্কে জানতো না। চার মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল না শামীমের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টঙ্গী থেকে দীপন হত্যার আসামি শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। 

গত বছরের ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতির কার্যালয়ের ভেতরে দীপনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। শামীমের জঙ্গি হয়ে ওঠা ও অতীত কার্যক্রম সম্পর্কে জানা গেছে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে।

জানা গেছে, মইনুল হাসান শামীমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মৃত আবদুল কুদ্দুছ।

২০১০ সালে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রচারপত্র বিতরণের সময় গ্রেপ্তার হন মইনুল হাসান শামীম। সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ছাতক থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা হয়। তবে জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার পুরস্কার ঘোষিত আসামি হিসেবে গেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত এলাকার অনেকেই জানতেন না তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন। চার মাস ধরে পরিবারের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। 

তার সম্পর্কে তথ্য দিতে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ডিএমপি। লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ভিন্নমতাবলম্বীসহ অন্তত ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত মে মাসে পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন ছয় জঙ্গির ছবি প্রকাশ ও পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই ছয়জনের মধ্যে শামীম ছিলেন।

ছাতক থানা​র পুলিশ জানিয়েছে, ছাতক শহরে হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রচারপত্র বিতরণের সময় পুলিশ শামীমকে ২০১০ সালের প্রথম দিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। একপর্যায়ে শামীম সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অস্থায়ী জামিনে মুক্তি পান। পরে উচ্চ আদালত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থায়ী জামিন দেন। 

জামিন পেয়ে তিনি ছাতক থেকে সিলেটে লেখাপড়া করতে চলে যান। শামীম সিলেটে থাকা অবস্থায় বছরে দু-একবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং খুব কম সময় বাড়িতে অবস্থান করতেন। গত চার মাস পরিবার থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন ছিলেন শামীম।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ছয় ভাইবোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। বড় ভাই আবু জাফর টিপু ছাতক শহরে একসময় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন সিলেট সরকারি কলেজে। তিনি ছোট তিন ভাইকে সিলেট শহরের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করেন। অপর দুই ভাই নাজমুল হাসান লিটু ও মঞ্জুরুল হাসান মনজু লন্ডনে আছেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা আবদুল কুদ্দুছ পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, শামীমকে গত কয়েক বছর এলাকায় কম দেখা গেছে। এলাকার লোকজন জানেন, শামীম সিলেটের মদনমোহন কলেজে লেখাপড়া করছেন। 

এক প্রতিবেশী বলেন, শামীম খুবই বিনয়ী ছেলে ছিলেন। কম কথা বলতেন। মানুষের সঙ্গে মেলামেশাও করতেন কম। তাদের পরিবার এলাকায় বেশ পরিচিত। তার বাবা এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।

শামীমের বড় ভাই আবু জাফর টিপু বলেন, ‘আমার ভাই খুবই নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। যে ছেলে রাতে ভয়ে ঘর থেকে বের হতো না, এখন শুনি সে ঢাকায় গিয়ে বড় সন্ত্রাসী হয়েছে, মানুষ খুন করেছে। আমরা এর কিছুই জানি না। গত ঈদেও সে বাড়িতে আসেনি। তখন থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা শামীমের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছিলাম। তাদের বাড়িতে পুলিশের নজরদারি ছিল। কিন্তু তিনি চার মাস ধরে পরিবার থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।’

এফ/১৬:৪৫/২৫আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে