Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৫-২০১৬

বিরোধী ভাঙিয়ে শাসকের দখলে দুই জেলা পরিষদ

বিরোধী ভাঙিয়ে শাসকের দখলে দুই জেলা পরিষদ

কলকাতা, ২৫ আগষ্ট- সকালে মালদহ, সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি! প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য সোমবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার কিছু আগে-পরে বিরোধী দল থেকে সদস্য ভাঙিয়ে এনে এ দিনই তাঁকে উত্তরের দুই জেলা পরিষদ ‘উপহার’ দিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব!

মালদহের জেলা পরিষদ থেকে ভাঙিয়ে আনা হল বাম-কংগ্রেসের ১৬ জন সদস্যকে। জলপাইগুড়িতে ভাহিয়ে আনা হল বিরোধী শিবিরের ছয় সদস্যকে। যার দৌলতে তিন দশক পর জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ যেমন বামেদের হাত ছাড়া হল, তেমনই প্রায় দেড় দশক পর মালদহ জেলা পরিষদ হারাল কংগ্রেস।

যদিও এমন রঙবদলের মধ্যে বিশেষ রহস্য নেই। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়া সত্ত্বেও ভোটের অঙ্কে যেখানে যেখানে সাফল্য পাওয়া যায়নি, সেখানে এ ভাবেই সব ক্ষমতা দখল করার সঙ্কল্প করেছিল তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা খোলাখুলিই বলেছিলেন, ‘‘কংগ্রেস-সিপিএম রাজ্যে থাকবে কেন? মালদহ-মুর্শিদাবাদে শিগগিরই ওদের মুছে দেব!’’ রাজ্যকে বিরোধীশূন্য করা জন্য তাঁদের সহজ ফর্মুলা হল সিপিএম-কংগ্রেসের নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে আনা। সেই সূত্রেই সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ, বেলডাঙা ও পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার দখল পেয়েছে তৃণমূল। এ বার দখলে এল মালদহ ও জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে মাত্র তিনটি জেলা পরিষদ বিরোধীদের দখলে গিয়েছিল। তার মধ্যে দু’টিই সোমবার হাতছাড়া হল তাঁদের। পড়ে রইল শুধু মুর্শিদাবাদ। কিন্তু তার অবস্থাও এখন পদ্ম পাতায় জল ধরে রাখার মতো! যে কোনও দিন মুর্শিদাবাদের দখল নিতে পারে শাসক দল। অচিরেই ভাঙনের কবলে যেতে পারে ওল্ড মালদহ পুরসভাও!

রাজনৈতিক ভাবে এবং জনতার ভোটে যেখানে ক্ষমতা দখল করা যায়নি, সেখানে তৃণমূলের এ ভাবে ‘শক্তি বাড়ানো’য় নৈতিকতার প্রশ্নটি উঠছে। মালদহে গনিখান চৌধুরীর অন্যতম রাজনৈতিক উত্তরসূরি তথা স্থানীয় কংগ্রেস সাংসদ মৌসম নূর এ দিন তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেত্রীর। মমতা-মৌসম ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। কিন্তু এ দিন মৌসম বলেন, ‘‘টাকার টোপ দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কিনছে তৃণমূল! দিদিমণি লোক দেখিয়ে এক দিকে দলের কাউন্সিলরদের বলছেন, নোট নয়, ভোটের কথা ভাবুন। অথচ তিনিই নোট দিয়ে মানুষের ভোট কিনতে দলের নেতাদের উৎসাহ দিচ্ছেন! এর থেকে বড় প্রহসন আর ভণ্ডামি কী হতে পারে?’’ একই মত বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর।

তৃণমূল অবশ্য এই সব সমালোচনা গায়েই মাখছে না। দলীয় তরফে মালদহের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু। বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে এনে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে সামিল করিয়ে এ দিন তৃণমূল ভবনে বসে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আইন মেনেই এই যোগদান হচ্ছে। মালদহের জেলাশাসককেও এ ব্যাপারে সব তথ্য দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’’ শুভেন্দুর পাশেই ছিলেন দলের শীর্ষ নেতা মুকুল রায়। এক ধাপ এগিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘এখানে ভাঙিয়ে আনার কথা আসছে কেন? সংবিধানেই তো দলত্যাগের কথা রয়েছে। এই যোগদানকে ভাঙানো বললে সংবিধান থেকেই দলত্যাগ শব্দটা বাদ দিতে হবে।’’ পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনৈতিক রাজনীতির খবর খুঁড়েছিল বামেরাই। বাম আমলে পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন দিতে দেওয়া হতো না। এখন সেটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

মালদহ জেলা পরিষদে আসন ৩৮। এর মধ্যে তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন মাত্র ছ’জন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি সরলা মুর্মু-সহ যে ১৬ জন এ দিন তৃণমূলে যোগ দেন, তাতে সিপিএমের সদস্য সাত জন। কংগ্রেসের ৬ জন (যদিও তৃণমূল ভবনে হাজির ছিলেন পাঁচ জন), সমাজবাদী পার্টির দু’জন এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের এক জন। শুভেন্দুর দাবি, ‘‘ফলে মালদহ জেলা পরিষদে তৃণমূলের শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ১৯-কে ছাপিয়ে গিয়েছে।’’ কাল উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন এই সদস্যরা। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদে আসন সংখ্যা ১৯। সেখানে বামেদের ৬ জন তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় জেলা পরিষদে তাদের শক্তি বেড়ে ১০ হয়েছে।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তনে রহস্য না থাকলেও দু’দিন ধরে নাটক কম হয়নি। শনিবার রাতে মালদহ জেলা পরিষদের ১৬ জন বাম-কংগ্রেস সদস্যকে দীঘার সরকারি অতিথিশালায় এনে তোলেন শুভেন্দু। রবিবার তাঁরা ওই সৈকতাবাস থেকে বাইরে বেরোননি। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সেখানে গিয়ে গোপন বৈঠক করেন শুভেন্দু। সোমবার সকালে কার্যত গাড়ির কনভয় করে তাঁদের আনা হয় কলকাতার তৃণমূল ভবনে। সেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন শুভেন্দু-মুকুল।

শুভে‌ন্দুকে অবশ্য প্রচারের  আলোর সবটা নিতে দেননি তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, এ দিন বিকেলে তৃণমূলনেত্রী বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই তাঁর সঙ্গে দেখা করে সৌরভ বলেন, ‘দিদি আমরা শুভেন্দুর মতো হইচই করি না ঠিকই, কিন্তু নিঃশব্দে একটা অপারেশন সেরে ফেলেছি। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ এখন তৃণমূলের’!

এফ/০৯:৫০/২৫আগষ্ট

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে