Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৫-২০১৬

কিভাবে দিন শুরু হয় বিল গেটস, জাকারবার্গ, ওবামাসহ বিশ্বের সব সফল ব্যক্তিদের?

কিভাবে দিন শুরু হয় বিল গেটস, জাকারবার্গ, ওবামাসহ বিশ্বের সব সফল ব্যক্তিদের?

জিমে যাওয়া থেকে শুরু করে, সংবাদপত্র পড়া বা এক কাপ কফিতে চুমুক দেওয়া ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলা এমন কিছু অভ্যাস কম-বেশি সবারই থাকে। একটি ভালো সকাল যেমন আমাদেরকে একটি ফলপ্রসূ দিন উপহার দিতে পারে ঠিক তেমনি এটি আমাদের জীবনের সাফল্যকে ধরে রাখার চাবিকাঠি হতে পারে।

স্লিপিপিপল.কমের বেশ কটি বিখ্যাত ইনফোগ্রাফিকের সাহায্য নিয়ে আমরা বিশ্বের সফল কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের সকালের রুটিন উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

মার্কিন প্রেসিডিন্ট বারাক ওবামা প্রত্যেকদিন সকালে জিমে যান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তবে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটির সকাল শুরু হওয়াই জিম করে। ভোর পৌনে ৬টায় ঘুম থেকে ওঠেন ওবামা। আর তারপরই তিনি শরীর চর্চার জন্য জিমে যান। জিম থেকে এসে পরিবারের সাথে নাস্তা করেন তিনি। নাস্তা শেষে মেয়েদের স্কুলে ছেড়ে দেন তিনি। স্কুলে পৌছে দেওয়ার পরই শুরু হয় তার দেশ চালানোর গুরুতর কাজ।

সকালে টিভি দেখা থেকে বিরত থাকেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন
এ বছরের প্রথম দিকে দ্য সানের এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠেন। আর তারপরই সকাল ৮টা অব্দি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন তিনি। ৮টার পর পরিবারের সাথে নাস্তার টেবিলে বসেন তিনি।

লন্ডনের নম্বর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত ক্যামেরনের ব্যক্তিগত ফ্লাটে সকালে টিভি অন করা নিষিদ্ধ। অতীতে একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, তারা বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার সকালে কিছু একটা করে। ক্যামেরন গণমাধ্যমের সামনে আসতে পছন্দ করেন না। আর প্রত্যেক সকালে খবরগুলো পড়তে ভোলেন না তিনি।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল অতটা সকালে উঠতেন না অবশ্য
ব্রিটেনের সাবেক রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ঘুম থেকে উঠতেন। খুব সাধারণ মনে হচ্ছে না? তাই না? ঘুম থেকে ৭টায় উঠলেও ১১টার আগে খাট ছেড়ে উঠতেন না তিনি। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে ঐ সাড়ে তিন ঘন্টা তিনি কি করতেন? চার্চিল ঐ সময় সাধারণত সংবাদপত্র পড়তেন এবং নাস্তা খেতেন। তাছাড়া নিজের সচিবদের দিয়ে কতিপয় সাংবাদিকদের তলব করতেন তিনি (তখন তো স্মার্টফোন ছিল না)।

স্টারবাকস সিইও হোওয়ার্ড শুলজের সকাল শুরু হয় জোয়ের (বিশেষ ধরণের কফি) কাপে চুমুক দিয়ে
স্টারবাকসের সিইওর সকাল যে এক কাপ কফির কাপে চুমুক দিয়ে শুরু হবে সেটা স্বাভাবিক। ২০১২ সালে ব্লুমবার্গ বিজনেস উইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে শুলজ বলেন, প্রত্যেকদির ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। ঘুম থেকে উঠে নিজের পোষা তিন কুকুরকে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হন তিনি। প্রাতঃভ্রমণ শেষে বাসায় এসে পৌনে ৫টার দিকে নিজের ও স্ত্রীর জন্য কফি বানান তিনি।

প্রয়াত অ্যাপল সিইও স্টিভ জবস প্রত্যেক সকালে আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতেন
প্রয়াত অ্যাপল সিইও স্টিভ জবস তার কালো পোশাকপ্রীতি, গলাবন্ধনী এবং অ্যাপলকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জনপ্রিয়। জনপ্রিয় এই ব্যক্তিটি প্রত্যেকদিন সকালেই একটি সাধারণ কাজ করে নিজেকে উদ্দীপ্ত রাখতেন।

জবস ঘুম থেকে ওঠার পরপরই আয়নার সামনে যেতেন। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতেন, ‘যদি এটা আমার জীবনের শেষ দিন হয়, তবে আমি কি আমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকব?’ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জবস কোন কিছু অপূর্ণ থাকলে তা বদলাতে হবে বলে মনে করতেন।

মাইক্রোসফট সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস রোজ সকালে নিজের মনন ও দৈহিক পরিচর্যা করতে পছন্দ করেন
প্রযুক্তি বিশ্বের আরেক ধনকুবের, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি বিল গেটস রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে মন ও দেহের ব্যায়াম করেন। গেটস অন্তত এক ঘন্টা ট্রিডমিলে দৈহিক ব্যায়াম করে থাকেন। 

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ প্রায়ই রাতে ঘুমান না
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক হার্ভারড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ সাধারণত তেমন একটা ঘুমান না। তিনি প্রায়ই ভোর ৬টা পর্যন্ত জেগে থাকেন। পুরো রাত ফেসবুক কর্মীদের সাথে কথা বলে কাটিয়ে দেন তিনি।   

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস প্রত্যেকদিন সকালে সময় নিয়ে নাস্তা করেন
বিশ্বের সফল সব ব্যক্তিদের মত মোটেও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কাজে যান না অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস। যাতে ভালো ঘুম হয় সেদিকে খেয়াল রাখেন বেজোস। ১৯৯৯ সালে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জেফ বেজোস জানান, ‘রাতে অন্তত ৮ ঘন্টা ঘুমাতে পারলে তিনি দিনে ভালো বোধ করেন।’

তাছাড়া সকালবেলা মিটিং করা থেকে বিরত থাকেন তিনি যাতে পরিবারের সাথে সময় নিয়ে নাস্তা করা যায়। অ্যালার্ম ওয়ালা ঘড়ি পাশে রাখেন না তিনি। তার ফলে রাতে একটি স্বাস্থ্যকর ঘুম হয় তার। তাছাড়া সকালে উঠে চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে সময় নিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান তিনি।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

এফ/০৯:১০/২৫আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে