Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৪-২০১৬

দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপির কূটনৈতিক উইং

দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপির কূটনৈতিক উইং

ঢাকা, ২৪ আগষ্ট- একের পর এক ঘটনায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপির কূটনৈতিক উইং। বছর খানেক আগেও আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রায় এক ডজন নেতা বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা বিষয়ে দলটির পক্ষে কাজ করতেন। কিন্তু একেক ঘটনায় একেক নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় সেই সংখ্যা এখন প্রায় তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস-চেয়ারম্যান সাবিহউদ্দিন আহমেদসহ তিন-চারজন নেতা অনেকটা গোপনে ও বেশ সতর্কতার সঙ্গে দলের পক্ষে বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা বিষয়ে কিছুটা তৎপর রয়েছেন।

এছাড়া বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কেএম ওবায়েদর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ও ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত নেতা অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও বিএনপির পক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

তবে সম্প্রতি ঘোষিত কমিটিতে শামা ওবায়েদকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রুমিন ফারহানাকে সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। শামা সম্প্রতি দলের পক্ষে চীনে পাঠানো একটি প্রতিনিধি দলে এবং রুমিন লন্ডনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

মূলত গত ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আগে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে খালেদার নজর কাড়েন শামা। যদিও পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ। এ নিয়ে দলে বিস্তর সমালোচনাও আছে। আর রুহিন ফারহানা টকশো করে বিএনপির নেতা হয়েছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। আগে বিএনপির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। সূত্র জানায়, মূলত মামলা-হামলা ও সরকারের এক ধরনের অদৃশ্য চাপের কারণে সিনিয়র নেতারা একে একে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় জুনিয়র এ দু’নেতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা বিষয়ে কিছু ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির মতো বড় একটি দলে কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের জন্য বড় বা দৃশ্যমান নেতার প্রয়োজন হয় না। কারণ ব্যাপক জনসমর্থন থাকা এ দলে প্রতিদিনই তরুণ নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক শক্তিগুলোও জানে, যেন-তেন মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে সরকার বিএনপির কূটনৈতিক উইংগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ফলে তারা সেভাবেই সমগ্র ঘটনার বিচার-বিশ্লেষণ করবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার কারণেই বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা বিষয়ে নিয়ে বিএনপি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গত বছর ২৯ অক্টোবর হঠাৎ করে স্বাস্থ্যগত কারণ দিয়ে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। ঘনিষ্ঠদের শমসের মবিন চৌধুরী জানান, কারাগারে থাকতে বিএনপির কেউ তার খবর নেননি। কিন্তু বিএনপি নেতাদের ধারণা, মূলত সরকারের চাপে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ অনেকদিন যাবত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছিলেন না শমসের মবিন। ফলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ ছিল।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে তাকে মোট পাঁচ মাস জেলে কাটাতে হয়। ২০১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি বনানীর বাসভবনে থেকে শমসের মবিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আসামি করা হয় আন্দোলনের সময় সংঘটিত নৈরাজ্যের ঘটনায় দায়েরকৃত আরও কয়েকটি মামলায়। পাঁচ মাস কারাগারে থেকে মুক্তিলাভ করে বেশ কিছুদিন নীরব থেকে হঠাৎ করেই পদ্যতাগ করে বসেন শমসের মবিন চৌধুরী। ওই সময় খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য সফরে ছিলেন। বিএনপি এতে বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

এদিকে, আন্দোলনকালে ১১ই জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। ওই সময় কার্যালয়ের দক্ষিণ দিকের রাখা তার প্রাইভেটকারে আগুন দেয় একদল দুর্বৃত্ত। ঠিক তিনদিন পরের ঘটনা। ১৪ই জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে বাসায় ফিরছিলেন রিয়াজ রহমান। গুলশান-২ নম্বরের ওয়েস্টিন হোটেলে পেছনের গলিতে পার্কিং করা গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে তার ওপর হামলা করে ছয় যুবক। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হন রিয়াজ রহমান। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর গ্রেফতার আতঙ্কে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। সবকিছু মিলিয়ে বেশ কয়েকমাস নীরব থাকেন এ দু’নেতা। এক পর্যায়ে অজানা আতঙ্কে তারা দু’জনেই বেশ কিছুকাল নিষ্ক্রিয় থাকেন। তবে সম্প্রতি কূটনীতিকদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অনেকগুলো বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকলেও আগ বাড়িয়ে খুব একটা কিছু করছেন না।

এদিকে এই দু’নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার মুখে কূটনৈতিক উইংয়ের হাল ধরেছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক। কিন্তু হঠাৎ করেই পৃথক দুটি ঘটনায় এ দু’জনের তৎপরতাও বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকার কূটনৈতিক জোনে ইতালীয় নাগরিক হত্যার পর কয়েকটি দেশের দূতাবাসের সতর্কতা জারির মুখে প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় ড. মঈন খান বলে বসেন, ‘সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই এখন এর ফাঁদে পড়েছে’। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এ হামলায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলে ড. মঈন খান ভয় পেয়ে যান।

পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রও খবর জানায় যে, সরকারের পরবর্তী টার্গেট তিনি। ফলে বেশ কিছুদিন নীরব থেকে গত জুলাই মাসে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান ড. মঈন খান। আলাপকালে এ প্রতিবেদককে তিনি জানিয়েছেন, কবে ফিরবেন তা তিনি জানেন না। তবে আরও বেশ কিছুদিন দেরি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কূটনৈতিক বিষয়ে দায়িত্ব পালনকারী আরেক নেতা ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগ ওঠার পর তিনিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। হঠাৎ করেই চলতি বছরের ৪ মে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ তদন্ত শুরুর কথা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়ক সানাউল হক জানান, ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন ১১ জনের একটি তালিকা নিয়ে কাজ করছেন তারা। যাদের মধ্যে ওসমান ফারুকের নামও রয়েছে। যদিও এই তদন্তকে রাজনৈতিক হীন-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, হঠাৎ করে ওই অভিযোগ উত্থাপনের পর গোপনে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান ড. ওসমান ফারুক। কূটনীতি দূরের কথা; বিএনপির কোনও নেতার সঙ্গেই এ পর্যন্ত তার দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের কথাও শোনা যায়নি। যদিও সদ্য ঘোষিত কমিটিতে তাকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রাখা হয়েছে।

এর আগে সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করায় দলীয় ফোরামের বাইরে বিএনপির পক্ষে কূটনৈতিক মহলে ভূমিকা পালনকারী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির কাজও থেমে যায়। চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে গঠিত আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সরাসরি দলের পদে না থাকলেও কূটনীতিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দীর্ঘদিন থেকে সহায়তা করতেন শফিক রেহমান। গত ১৬ই এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক দফা রিমান্ডের পর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন আরেক সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। সেই সঙ্গে জাস্টনিউজ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৫ সালের ১ মার্চ জাস্টনিউজ বন্ধ করে দেওয়া হলে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের বাইরে চলে যান মুশফিকুল ফজল আনসারী।

আর/১২:১৪/২৪ আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে