Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৩-২০১৬

নারী জঙ্গি বানানোর তিন কৌশল!

নারী জঙ্গি বানানোর তিন কৌশল!

ঢাকা, ২৩ আগষ্ট- গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিনটি কৌশলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে নারীদের। জঙ্গি দমনে কাজ করতে গিয়ে এসব কৌশলের কথা জানতে পারেন গোয়েন্দারা। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নারীদের কাছ থেকেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানতে পারেন নানা কৌশলের কথা।এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। এখন থেকেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা কিংবা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দারা জানান, যারা জঙ্গি রিক্রুট করে তাদের প্রাথমিক কাজই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা নারীকে পর্যবেক্ষণ করা। প্রথমে তারা নামাজ, রোজা ও ভালো ভালো কথা বলে ধর্মভীরু নারীদের কাছে যান। এরপরই আস্তে আস্তে জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয় নারীদের। তবে এ ক্ষেত্রে খুবই কম সফল হয় বলে জানান তারা। কিন্তু যখন কেউ পারিবারিকভাবে জঙ্গি হয়, তখন তার স্ত্রী, সন্তান সবাই জঙ্গি হয়ে যায়। এই মতাদর্শ নিয়েই শিশুরা বড় হয়ে ওঠে। নারীরা জঙ্গি কাজে জড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে একজন বিবাহিত ব্যক্তি যদি হঠাৎ জঙ্গি দলে অংশ নেয়, তখন সে তার স্ত্রীকেও জঙ্গি কাজে জড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। যখন কারও স্ত্রীর জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আকাঙ্খা না থাকে তখন ওই ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান ফেলে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যায়। যেটাকে তারা হিজরত মনে করে। আরেকটি অংশ হলো, কেউ যদি অবিবাহিত থাকে তখন। এ অবস্থায় যদি কেউ জঙ্গি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয় এবং যখন বিয়ে করতে যায় তখন জঙ্গি পরিবারগুলোর পরিবারের কোনও মেয়েকেই তাকে বিয়ে করানো হয়। জঙ্গিরা নিজেরা নিজেরাই এ বিয়ের ব্যবস্থা করে থাকে।

জঙ্গিবাদ দমনে গঠিত পুলিশের বিশেষায়িত বিভাগ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন থেকেই জঙ্গি দমনে কাজ করছেন। ছানোয়ার তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, নানা কৌশলেই মাস্টার মাইন্ডরা জঙ্গি রিক্রুটিংয়ের কাজ করছে।

ছানোয়ার বলেন, জঙ্গি কাজে তিনভাবে নারীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। একটি হলো আগে থেকেই জঙ্গি পরিবারের সদস্য নারী জঙ্গি হয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্বামী হঠাৎ জঙ্গি হলে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে অংশ গ্রহণ করল বা করলনা। আরেকটি হচ্ছে জঙ্গি পরিবারের কোনও ছেলের সঙ্গে কোনও নারীকে বিয়ে দেওয়া। এই কৌশলে নারীদের জঙ্গি কার্যক্রমে জড়ানো হচ্ছে। ছানোয়ার বলেন, আমরা জঙ্গি বললেও তাদের দাবি, তারা একটি মতাদর্শে অধিকারী।

কাউন্টার টেররিজমের এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এই গ্রুপগুলো যখন সমাজে মিশছে, বিভিন্ন স্থানে ওঠাবসা করছে, ছেলেরাও বিভিন্নস্থানে ওঠাবসা করছে, রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় আছে, সেখানে এই পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে থেকে কোনও মেয়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের সংযুক্ত করার বিষয়টি খুব কম লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু পরিবারের ভেতর থেকেই স্বামী, ভাই কিংবা বাবা তাদের বুঝিয়ে উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আর এসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই এগিয়ে আছে জেএমবি।

গত ১৪ ও ১৫ আগস্ট গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চার নারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী ও ঢাকা

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন ইন্টার্নি চিকিৎসক। বর্তমানে তারা দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে রয়েছে। কী পরিমাণ নারী জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত তার সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশ ও র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সে নেই। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান বলেন, জঙ্গিবাদে নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট খতিয়ে দেখছে। তবে এর পরিমাণ খুবই কম বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা কয়েকজন নারীকে গ্রেফতার করেছেন। এর আগে হয়তো আরও দু’একজনকে ধরা হয়েছে। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম।

চার নারী জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, গ্রেফতার হওয়া আকলিমা রহমান মানারাত ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি আরবি অধ্যায়ন করতে বিভিন্ন স্থানে যেত এবং সেখানে দাওয়াতের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। সে অনেককেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন ধারায় জঙ্গিবাদে উৎসাহ দিয়েছে। এমন আরও ১০ নারীর সন্ধান তারা পেয়েছেন। সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছেন তারা।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন নারী জঙ্গির বিষয়ে বলেন,এখানে আহলে হাদীস মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্য থেকেই প্রায় ৯৯ ভাগ জেএমবিতে আসার প্রবণতা দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে এই আহলে হাদীস পরিবারের কোনও মেয়ে যদি কোনও কারণে মনে করে যে, সে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে, তাহলে তার জন্য বিষয়টা খুব সহজ। আহলে হাদীসের বাইরে থেকে কোনও একটি মেয়ে সদস্যকে উদ্ধুদ্ধ করে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা কিন্তু খুবই জটিল কাজ। সেক্ষেত্রে সংখ্যাটা খুবই নগন্য। তবে আহলে হাদীস নয়, কিংবা এদের পরিবারের সঙ্গে কোনওভাবে সম্পৃক্ত নয়, যেমন সুন্নি ও হানাফি সমাজের কজন নারী জঙ্গি কর্মকাণ্ডে এসেছে সেটা গবেষণার বিষয় । এসব নিয়ে তারা কাজ করছেন এবং চিন্তা-ভাবনা করছেন।

ছানোয়ার হোসেন আরও বলেন, জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে বলে যে কথা আসছে, বিষয়টা আসলে ততো ব্যাপকতর নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়। এটা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। বিষয়টি শুধু আমাদের দেশের জঙ্গিদের ক্ষেত্রে নয়। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ থেকে শুরু করে যারাই সমাজচ্যুত বা বিপ্লবী হয়, সেক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশ নিতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ হচ্ছে, যারা জঙ্গি কাজে রিক্রুটেড হচ্ছে, তারা কি এই গোষ্ঠীর ভেতরের না বাইরের। যদি বাইরের হয়ে থাকে, সেটা নিয়ে একটা গবেষণা ও আলোচনা বা বন্ধ করার বিষয় আছে। কিন্তু ভেতরের যদি হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ প্রক্রিয়ায় যেভাবে কাজ হচ্ছে সেভাবেই বিষয়টা চিন্তা করতে হবে।

এফ/১৭:০৮/২৩আগষ্ট

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে