Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.4/5 (51 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১৩-২০১২

পৌরসভার মাসোহারা, তাই বেড়েছে রিক্সাভাড়া!

পৌরসভার মাসোহারা, তাই বেড়েছে রিক্সাভাড়া!
রিক্সাচালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে বগুড়ায় অতিরিক্ত রিক্সাভাড়া অদায়ের নেপথ্যে পৌর কর্তৃপক্ষের মাসোহারার বিষয়টি এখন শহরের অন্যতম অলোচিত বিষয়। রিকশা মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পৌরসভার কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজসে এই মাসোহারার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যে কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে রিক্সাচালকরা জোর করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও পৌর  কর্তৃপক্ষ কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না। এর ফলে রিকশা চালকদের দাপট যেমন বাড়ছে, তেমনি রিক্সাচালকদের হাতে হরহামেশা জিম্মি হতে হচ্ছে যাত্রীদের।  
শহরে চলাচলকারী শতাধিক আইনজীবী, আদালতের কর্মচারী ও রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীরা জানান- পৌর মেয়রের উদাসীনতাসহ পৌর কর্মকর্তাদের  দুর্নীতির কারণেই রিক্সাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারছে।
তাদের অভিযোগ- রিক্সাশ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে পৌর কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের মাসোহারা পায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য। যে কারণে এ বিষয়ে মেয়র কোন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেন নি।
তারা অভিযোগ করেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে আযিযুল হক কলেজের দূরত্ব এক কিলোমিটার হলেও রিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা।
একইভাবে সাতমাথা থেকে কলোনি প্রধান সড়কের দূরত্ব এক কিলোমিটার হলেও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ এবং কলোনি থেকে পুলিশ লাইন্স বা র‌্যাব অফিসের দূরত্ব আধা কিলোমিটার হলেও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা। এছাড়া যদি সামান্য একটু বৃষ্টি বা আবহাওয়া প্রতিকুল থাকে তাহলে তো কথাই নেই। ৫ টাকার ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্তও গুণতে হয় অসহায় যাত্রীদের।  
বগুড়া সরকারি অযিযুল হক কলেজের শিক্ষার্থী আদর, শোয়েব ও বগুড়া মজিবুর রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী রিতু, কান্তা, ফাহিমা, আফরিনসহ অনেকেই বলেন, পৌরসভা কার্যালয়ে রিক্সাভাড়ার তালিকা ফাইলবান্দি হয়ে থাকলেই চলবে না, আর শুধু সাংবাদিক বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা দেখালেই চলবে না। বরং বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখাতে পারলেই বোঝা যাবে মেয়র পৌরবাসীর জন্য কমপক্ষে রিক্সাভাড়াটা নির্ধারণ করতে পেরেছেন।
এ সময় তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, “মেয়র যদি পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষের মতো রিকশায় উঠতেন, তাহলেই বুঝতেন রিকশা ভাড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতো। যখন ৫ টাকার রিক্সাভাড়া ১৫ টাকা এবং ১০ টাকার রিকশাভাড়া ৩০ টাকা চাওয়া হয়, তখন ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের কতোখানি কষ্ট হয়।”
এদিকে, ২৯ জুন জাতীয় বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠেয় দিনব্যাপী এক কর্মশালায় বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।  
তবে অতিরিক্ত ভাড়া কেন আদায় করা হচ্ছে এবং সে বিষয়ে কেন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ- এমন প্রশ্ন করা হলে মেয়র বলেন, “জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শহরে চলাচলের রিক্সাভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার ৫ টাকা, ২ কিলোমিটার ১০ টাকা, ৩ কিলোমিটার ১৫ টাকা এবং ৪ কিলোমিটার ২০ টাকা দিতে হবে যাত্রীদের। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া কোনো যাত্রী যদি দেয়, তাহলে পৌরসভার কী করার আছে?

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে