Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২২-২০১৬

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ, কারণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা

নিগার আলম


হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ, কারণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। গ্লুকোজের দ্বারা সরবরাহকৃত শক্তির অভাবে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। মস্তিষ্ক রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। কারণ মস্তিষ্কের এনার্জির একমাত্র উৎস হচ্ছে গ্লুকোজ। শরীরের অন্যান্য টিস্যু গ্লুকোজ ও অন্য পদার্থ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় এনার্জি সংগ্রহ করতে পারে।

গ্লুকোজের প্রধান উৎস হচ্ছে খাদ্য, বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাদ্য। আহারের পর খাদ্য ভেঙ্গে গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড ও ফ্যাটি এসিডে পরিণত হয় এবং অন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয়। তারপর রক্তস্রোতের মাধ্যমে সারা শরীরে গ্লুকোজ সরবরাহ করে। গ্লুকোজের বিপাকে সাহায্য করে ইনসুলিন নামক হরমোন যা অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে যকৃত এবং পেশীতে গ্লাইকোজেন নামে জমা হতে থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত গ্লুকোজ চর্বিতে রূপান্তরিত হয় এবং ফ্যাটি টিস্যুতে জমা হয়।

রক্তের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৮০-১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা ৪.৪-৫.৫ মিলিমোল/লিটার। যখন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় তখন অগ্নাশয় গ্লুকাগন নামক হরমোন নিঃসৃত করে। এই হরমোন সঞ্চয়কৃত গ্লাইকোজেনে সংকেত পাঠায় গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত হওয়ার জন্য। কিন্তু এই সংরক্ষিত গ্লাইকোজেনের ক্ষমতা সীমিত, শুধুমাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য রক্তে  গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে পারে। কিন্তু যখন তারা ক্লান্ত হয়ে যায় তখন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। যখন এটি ৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা ২.৫ মিলিমোল/লিটার এর নীচে নেমে যায় তখনই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং বাহির থেকে এনার্জি সরবরাহের প্রয়োজন হয়। এর সতর্ক সংকেত যদি বোঝা না যায় তাহলে মস্তিষ্কের কোষের উপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস হয়।

দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা অথবা অতিরিক্ত ইনসুলিনের প্রভাবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীরা এবং ইনসুলিন ক্ষরণের ঔষধ যারা গ্রহণ করেন তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক। যেকোন সময়ই তারা এর শিকার হতে পারেন। হাইপোগ্লাইসেমিয়াকে চিহ্নিত করতে পারা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা যায়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ :
ক্ষুধা লাগা, নার্ভাসনেস, ঘামানো, ঘুম ঘুম ভাব, মাথাঘুরা, হালকা মাথাব্যথা, ঝাঁকুনি বা কাঁপা,  উদ্বিগ্নতা, দুর্বলতা, বিরক্তিভাব, দ্বিধা, ক্লান্তি এবং মারাত্মক পর্যায়ের হলে পড়ে যায় ও চেতনা হ্রাস পায়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ :
ডায়াবেটিক রোগীদের হাইপগ্লাইসেমিয়ার এজেন্ট সমৃদ্ধ ঔষধ বেশি খাওয়া অথবা ইনসুলিন বেশি নেয়ার ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেতে পারে। অ্যালকোহল সেবন করলে, কোন বেলার খাবার মিস করলে বা উপবাস করলে, মারাত্মক সংক্রমণে ভুগলে, এড্রেনাল গ্রন্থির নিঃসরণ কম হলে, কিডনি বা লিভার ফেইলিউর হলে, ক্যান্সারের কারণে, ইনসুলিনের অতিরিক্ত নিঃসরণ হলে, ইনসুলিনোমা, হেপাটোমা ইত্যাদির কারণে হাইপগ্লাইসেমিয়া হয়।  

প্রাথমিক চিকিৎসা :
১। হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঠিক করার জন্য রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এর জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে মুখে চিনি বা গ্লুকোজ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

২। প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে দিতে হবে অথবা আরামদায়ক পজিশনে বসাতে হবে।

৩। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক কাপ ফলের জুস অথবা ৩-৪ চা চামচ চিনি বা গ্লুকোজ এক কাপ পানিতে গুলিয়ে পান করান।

৪। তারপর স্যান্ডউইচ, পেস্ট্রি, চকলেট ও কেকের মত খাবারগুলো খেতে দিন।

৫। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে তাকে দ্রুত কাছের কোন হাসপাতালে নিয়ে যান।

৬। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলোর বিষয়ে সতর্ক হোন।  

সতর্কতা :
-   ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা জানা থাকা প্রয়োজন।

-   ডায়াবেটিক রোগীদের বাহিরে যাওয়ার সময় সাথে চকলেট, টফি বা গ্লুকোজের প্যাকেট রাখা উচিৎ।

-   কোন বেলার খাবার বাদ দেয়া উচিৎ নয়।

-   মানসিক চাপ প্রতিহত করুন।

-   ডায়াবেটিক রোগী না হয়েও ঘন ঘন হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হন তাহলে ডাক্তারি  পরীক্ষার মাধ্যমে এর কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। 

-   ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চলা উচিৎ এবং সময়মত চেকআপে যাওয়া উচিৎ।

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

এফ/০৯:১০/২২আগষ্ট

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে