Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২১-২০১৬

সত্যটাই বলে দিলেন সেই ‘জজ মিয়া’

সত্যটাই বলে দিলেন সেই ‘জজ মিয়া’

ঢাকা, ২১ আগষ্ট- একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আলোচিত চরিত্র জজ মিয়া। তাকে নিয়ে সেই দিন কী হয়েছিলো সব বললেন তিনি। সিআইডির তিন কর্মকর্তা তাকে দিয়ে সাজিয়েছিলেন ‘জজ মিয়া’ নাটক। হত দরিদ্র জজ মিয়া একুশে আগষ্ট মামলায় জড়িয়ে ভিটেমাটি ছাড়া হন।

সেই নারকীয় হত্যাকান্ডে নিজের জড়ানো প্রসঙ্গ তুললে স্মৃতি হাতড়ে জজ মিয়া বলেন, আটকের পর এসপি রশীদ সাব (সিআইডির সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ) আমাকে বলেন -‘আমরা যা বলি তাই-ই হবে’। আমাকে থানার মধ্যে ব্যাপক মারধর করেন তারা। এক পর্যায়ে বলেন ‘কথা না শুনলে ক্রসফায়ার হবে। আর কথা শুনলে তোরে বাঁচাইয়া আনবো। তোর ফ্যামিলির খরচের টাকা দিবো। মাইরের চোটে আমার হাতের হাড় ভেঙে যায়। এরপরে আমারে নোয়াখালীর সেনবাগ থানা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তারা। ক্রসফায়ারে মারার ভয় দেখিয়ে তারা যা শিখিয়ে দেয় সেগুলো কোর্টে বলতে বলেন। আমি সেভাবেই বলি।’

জজ মিয়া জানান, এখনো একরকম আত্মগোপনেই দিন পার করেন তিনি। কারও সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ করেন না। পরিচয়ও দিতে চান না। সিদ্ধিরগঞ্জের যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেখানকার মানুষ তাকে প্রকৃত পরিচয়ে চিনে না। রেন্ট-এ-কারের একটি ভাড়া মাইক্রোবাস চালান তিনি। নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বীরকোর্ট গ্রাম থেকে সর্বশেষ ৬ বছর আগে পৈত্রিক ভিটা ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে গ্রাম ছেড়েছেন, আর ফিরে যাননি। গ্রামের মানুষ তার কোন ঠিকানাও জানে না। ঢাকায় এসে বেকার জজ মিয়া গাড়ি চালকের চাকুরি নিয়েছিলেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। অধিক পরিশ্রম ও অল্প বেতনের কারনে সেই চাকরিও ছেড়ে দিয়ে এখন ভাড়া গাড়ি চালান। জজ মিয়া বলেন, সারা বছর কেউ আমার খোঁজ নেয় না। ২১ আগস্ট আসলেই আপনারা (সাংবাদিক) আমার খোঁজ নেন। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। 

জজ মিয়া বলেন, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেণেড হামলার দিন (২১ আগস্ট ২০০৪) আমি গ্রামের বাবুলের চায়ের দোকানে ছিলাম। টেলিভিশনে হামলার খবর দেখে সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিল। সেখানে গ্রামের মুরুব্বীরা সবাই ছিলেন। অথচ প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে সেই আমাকে বানানো হলো গ্রেনেড হামলার ‘নাটের গুরু’।

২০০৫ সালের ৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় জজ মিয়াকে। দুধর্ষ সন্ত্রাসী বানিয়ে সিআইডির ওই সময়কার তিন কর্মকর্তা স্বীকারোক্তি আদায় করেন ১৬৪ ধারায়। বিনিময়ে তার মাকে প্রতি মাসে সংসার খরচের জন্য দুই হাজার টাকা করে দিতেন তারা। সেই আষাঢ়ে গল্পের নেপথ্য কারিগর ছিলেন- সিআইডির ওই সময়কার বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারি পুলিশ সুপার মুন্সি আতিক ও আব্দুর রশীদ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জানা যায় প্রকৃত ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে ছাড়া পান জজ মিয়া। বিনা অপরাধে চার বছর জেল খেটে ওলট পালট হয়ে যায় তার গোটা জীবন।

এফ/০৯:২৮/২১আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে