Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 3.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-২১-২০১৬

‘নেত্রীর জীবনরক্ষায় বাবার ভূমিকা আমাকে অনুপ্রাণিত করে’

শামীম খান


‘নেত্রীর জীবনরক্ষায় বাবার ভূমিকা আমাকে অনুপ্রাণিত করে’

ঢাকা, ২১ আগষ্ট- নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের নেতার(সভাপতি শেখ হাসিনা) জীবনরক্ষার জন্য সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। যে দৃষ্টান্ত আমার বাবা (মোহাম্মদ হানিফ) দেখিয়ে গেছেন সন্তান হিসেবে আমি তাতে গর্বিত। নেতার প্রতি তার এই অনুগত্য ও সাহসী দৃষ্টান্ত থেকে আমি অনুপ্রাণিত হই। প্রয়োজনে এ ধরনের ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে আমাকে প্রেরণা যোগায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার দু:সহ স্মৃতির বর্ণনা করতে গিয়ে উপরোক্ত এসব কথা বলেন।

এই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।আহত হন কয়েক শ’ নেতাকর্মী। এসময় মানবঢাল তৈরি করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী(তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ।


এই হামলায় মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকনও আহত হয়েছিলেন। খোকন ওই সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনার দু:সহ স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমাহামলা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরি্স্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সমাবেশ ও র‌্যালির কর্মসূচি ছিলো। ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমি দুপুর ১২টা থেকেই সেখানে ছিলাম। সমাবেশ পরিচালনা করছিলাম। দুপুরের পর আমি চলে যাই আমার নির্বাচনী এলাকা সুত্রাপুর-কোতোয়ালি, পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে আসি। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমার বাবা মোহাম্মদ হানিফ সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন। বৃক্ততা চলছিলো, টান-টান উত্তেজনা ছিলো। আগে থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটা নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলো। বিভিন্ন সময় শোনা যাচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর হামলা হবে, নেত্রীর ওপর হামলা হবে।

এরকম একটা ভয়ের পরিস্থিতি কিছু দিন আগে থেকেই বিরাজ করছিল। সাঈদ খোকন বলেন, ‘‘ওই দিনের সমাবেশের কারণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ছাড়িয়ে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিলো। বিকেল ৪টার কিছু সময় পর নেত্রী(শেখ হাসিনা) সমাবেশে আসেন। একে একে নেতা-নেত্রীদের বক্তৃতা শেষ নেত্রী বক্তৃতা শুরু করলেন। আমি মঞ্চে ট্রাকের সিঁড়িতে বসে ছিলাম। মঞ্চে নেত্রীর ডান দিকে আমার বাবা ছিলেন। অন্য নেতারাও সেখানে ছিলেন। নেত্রীর বক্তৃতা শেষ করে আবার কিছু একটা সম্ভবত বলতে চাইলেন, এমন সময় বোমার মতো কিছু একটার বিস্ফোরণ ঘটল। 


গ্রেনেডের বিস্ফোরণ-মুহূর্তের এবং এর পরের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘‘প্রথমে বুঝতে পারিনি কি হলো। শব্দও খুব একটা বেশি ছিলো বলে মনে হয়নি। এর কয়েক সেকেন্ড পরই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। আমার বাম পা ঝলসে গেছে বলে মনে হলো। আমি লাফ দিয়ে ট্রাকের উপর পড়ে গেলাম। আমার গায়ের উপর অনেকেই শুয়ে পড়লো। আমার বাবা মানবঢালের মতো ঢাল তৈরি করে নেত্রীকে আড়াল করলেন, সেখানে অন্য নেতারাও ছিলেন। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও আমি শুনতে পেলাম।। কিছুক্ষণ পর আমার বাবা নেত্রীকে ধরে ট্রাক থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে দিলেন। এরপর তিনি পার্টি অফিসের(কেন্দ্রীয় কার্যালয়) দিকে যাচ্ছিলেন, তার সমস্ত শরীর রক্তে ভেজা। বাবার গায়ের রক্তে নেত্রীর শাড়িও ভিজে গিয়েছিল। এ সময় আমি বাবাকে গিয়ে ধরি, আমিও হাঁটতে পারছিলাম না, বাবাকেও ধরে রাখতে পারছিলাম না। এ সময় সেখানে আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। পর্টি অফিসের ঢোকার মুখে বাব ও আমি পড়ে যাই। 

পার্টি অফিসের কর্মচারীরা আমাদের ধরে যুব লীগের অফিসে নিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স এলে আমাকে তাতে তোলা হয়। এরপর সেই অ্যাম্বুলেন্সে আমার বাবাকেও তোলা হয়। আমাদের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আমার বাবার পেটে মাথায় শত শত স্প্লিন্টার ছিলো। আমার বাম পায়ে ১৫/১৬টি স্প্লিন্টার। সব স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হয়নি। এখনো স্প্লিন্টারের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করি। আমার বাবার মাথায় স্প্লিন্টার থাকায় উনার বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ২০০৬ সালে মুক্তাঙ্গণে এক সমাবেশে তিনি বক্তৃতারত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার স্ট্রোক করে কিন্তু স্প্লিন্টার থাকার কারণে চিকিৎসা ব্যহত হয়।’’

মানবঢাল তৈরি করে, দলের নেত্রীকে(শেখ হাসিনা) রক্ষা করা প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন আরও বলেন, ‘‘আসলে এটা চিন্তা করে, পরিকল্পনা করে হয় না। দলের নেতার প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি যদি হৃদয়ের টান থাকে, আনুগত্য থাকে, মনের গভীরে যদি ভালবাসা থাকে তাহলেই একজন কর্মী নিজের জীবনের পরোয়া না করে নেতার জীবনরক্ষার জন্য এমন যে কোনো ঝুঁকি নিতে পারেন। আমার বাবার এই ভূমিকাটি নেত্রীর প্রতি একটা আনুগত্য, ভালবাসা ও পরম আস্থারই বহি:প্রকাশ ছিলো। পরে বিষয়টি আমি গভীরভাবে অনুভব করেছি, নেতার প্রতি কতোটা আনুগত্য থাকলে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে পারে একজন মানুষ! আমার বাবার এই ভুমিকায় আমি গর্ববোধ করি। নেত্রীকে গাড়িতে তুলে দেয়ার আগে এক মুহূর্তও নেত্রীকে ছাড়েননি। বাবার গায়ের রক্তে নেত্রীর শাড়ি ভিজে গেছে। তিনি যে নিদর্শন রেখে গেছেন তার সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত, অনুপ্রাণিত হই।’’

সাঈদ খোকন আরও বলেন, ‘‘দলের প্রতিটি কর্মীরই নেতৃত্বের প্রতি এ ধরনের ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। নেতৃত্বের জন্য ত্যাগ স্বীকার, শ্রদ্ধা, আনুগত্য দেখানোর মনোভাব থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরই এই মনোভাব থাকা উচিত।’’

এফ/০৮:৪৫/২১আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে