Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১৫-২০১৬

দুই বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী

এবাদত উদ্দিন


দুই বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী

নিউ ইয়র্ক, ১৫ আগষ্ট- নিউ ইয়র্কে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইমামসহ ২ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাংলাদেশি মুসল্লিরা দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী। এ ঘটনা মুসলিমদের প্রতি তাঁর ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। কথিত ইসলামভীতির কারণেই এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।

শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় শহরের ওজন পার্ক এলাকার গ্লেনমোর এভেন্যুর আল ফুরকান জামে মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি তাঁর সহযোগি তারা উদ্দিন মিয়া। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তারা দুজনই ঐতিহ্যবাহী ইসলামি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এর কয়েক মিনিট আগেই আল ফুরকান জামে মসজিদে তারা একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশিরা নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বিচার দাবি করেছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় মুসল্লিরা ঘটনাস্থলে সমবেত হন। আল ফুরকান জামে মসজিদে সমবেত হয়ে তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। দাবি করেন, ধর্মীয় কারণেই সুনির্দিষ্টভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম (৩৩) বলেন, এটা প্রকৃত আমেরিকার চিত্র নয়। আমরা এ ঘটনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছি। ট্রাম্প ও তার নাটক ইসলামভীতি সৃষ্টি করেছে। আল ফুরকান জামে মসজিদ সংলগ্ন আরেকটি মসজিদের সভাপতি কবির চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমরা বিচলিত, বিধ্বস্ত। আমাদের এর গভীরে যাওয়া দরকার। এটা জানা দরকার যে, শুধু ধর্মীয় কারণেই তারা এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কিনা। আহমেদ জাকারিয়া নামের একজন মুসল্লি বলেন, তিনি ছিলেন একজন চমৎকার, মৃদুভাষী ও নিরহঙ্কার মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনও বিরোধ ছিল না। ইমাম হিসেবে তিনি ছিলেন একজন রোল মডেল। শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি আকস্মিকভাবে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এটা বাজির শব্দ নয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তি ছিলেন একজন লম্বা হিস্পানিক (স্প্যানিশ ভাষাভাষী যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী)। গাড় নীল রঙ-এর শার্ট ও শর্ট প্যান্ট পর ওই ব্যক্তি একটি বড় আকারের বন্দুক বহন করছিলেন। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ২৭ বছরের স্টিভেন নাউথ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার ছোট জ্ঞাতিভাই সেখানে ছিল। আমি তাকে সেখান থেকে দৌড়াতে বলি।

ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক। দুই বছরেরও কম সময় আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একজন প্রসিদ্ধ আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র ভাই মাশুক উদ্দিন জানান, একটি বুলেট তার ভাইয়ের মস্তিষ্কে আঘাত করে। মৃত্যুর আগে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি খুবই মর্মাহত। পুরো শরীর কাঁপছে। কারও সঙ্গে তার কোনও বিরোধ ছিল না। তিনি শুধু মসজিদে যেতেন, নামাজ পড়তেন এবং বাসায় ফিরতেন। আমরা সবাই কান্নাকাটি করছি। এটা খুব বেদনাদায়ক। ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র ভাতিজা ২৬ বছরের রাহি মাজিদ। তিনি জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনও ঝামেলা ছিল না।

রাহি মাজিদ বলেন, ‘তিনি একটি মাছিকেও আঘাত করতে পারেন না। আমি নিশ্চিত নই যে, কি ধরনের একটা পশু এই মানুষটিকে খুন করেছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র সহকারীর নাম থারা উদ্দিন (৬৫)। গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার ঘণ্টার মাথায় তার মৃত্যু হয়।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের একজন মুখপাত্র টিফানি ফিলিপস এ জোড়া খুনের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুইন্সের ওজোন পার্ক এলাকার একটি রাস্তায় তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খুব কাছ থেকেই দুজনের মাথায় গুলি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানানো হয়নি। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আর/১০:১৪/১৪আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে