Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-১৪-২০১৬

যে কারণে সময়মতো শেষ হয় না দুদকের অনুসন্ধান

আরিফুল ইসলাম


যে কারণে সময়মতো শেষ হয় না দুদকের অনুসন্ধান

ঢাকা, ১৪ আগষ্ট- বিভিন্ন অনিয়ম অবহেলার কারণে বর্তমানে ৮০ ভাগ অনুসন্ধানই সময়মতো শেষ করতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন। সম্প্রতি সংস্থাটির নিজস্ব মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দুদকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই পদ্ধতি বেশ দীর্ঘ। তা অনুসন্ধানের জন্য বিবেচনার অনুমোদন পেতে প্রায়ই দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে অভিযোগকারীগণ হতাশ হয়ে পড়েন এবং প্রমাণ নস্যাৎ হয়ে যায়। অধিকন্তু দাখিলকৃত দুর্নীতির প্রতিটা অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা।

অনুসন্ধান ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয় না। তাই এ সময়সীমা বৃদ্ধি করা জরুরি। সমস্যা ও কারণ হিসেবে কৌশলপত্রে আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের চর্চার প্রচলন হয়েছে যে- অনুসন্ধান পর্যায়ে যে সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়, তদন্ত পর্যায়ে তা ব্যবহার না করে পুনরায় একই প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।

অনুসন্ধান পর্যায়ে বক্তব্য প্রদানকারী সাক্ষীদের তদন্ত পর্যায়ে পুনরায় এসে জবানবন্দি প্রদান করতে হয়, আদালতে তা উপস্থাপনার্থে। উভয় ক্ষেত্রেই সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত।

কৌশলপত্রে আরো বলা হয়, দুদকের মধ্যে কোনো পেশাদার নজরদারি সক্ষমতা নেই। বিশেষ উদ্দেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মাঝে মাঝে অপরিকল্পিতভাবে নজরদারি পরিচালিত হয়। কিন্তু এসব কর্মকর্তা যথাযথভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন এবং কার্যকর এবং নিরাপদ নজরদারি কর্মকর্তা হতে তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব আছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে গ্রাহকদের ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগে ১৭টি বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ছে গত ২১শে জুন। বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে এই অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় দুই মাসের মতো সময় পার হতে চললেও অনুসন্ধান কার্যক্রমের এখনও কিনারা করতে পারেনি সংস্থাটি।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া বেশকিছু অভিযোগের অনুসন্ধানের সময়সীমা শেষ হলেও এখনও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হয়নি। পূর্বে হলমার্ক, পদ্মা সেতু, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ডেসটিনি ও রেলওয়ে নিয়োগের দুর্নীতিসহ বেশির ভাগের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি এর কোনোটির অনুসন্ধান। মাসের পর মাস লেগেছে। তবুও অনুসন্ধান শেষ হয়নি।

অনুসন্ধানের এই ধীর গতির ফলে বিচার প্রক্রিয়ায়ও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোরও অন্যতম কারণ এটি। দুদক কর্মকর্তারা মনে করেন, সময়মতো অনুসন্ধান শেষ করতে না পারার কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়ায় ফাঁদে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

এফ/১৭:৫৫/১৪আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে