Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১৩-২০১৬

সেই জোসেফ, এই জোসেফ...

মেহেরিনা কামাল মুন


সেই জোসেফ, এই জোসেফ...

লন্ডন, ১৩ অগাস্ট- ‘তোমার আদর্শ কে?’ ২০০৮ সালে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল ১৩ বছরের জোসেফ স্কুলিংকে। ঝটপট উত্তর দিয়েছিলেন মাইকেল ফেলপস। কিন্তু সেদিন কেউই ভাবেননি আট বছর পরে কি হতে যাচ্ছিল!

সেই জোসেফই আট বছর পরে হারিয়ে দিল ফেলপসকে। ১০০ মিটার বাটারফ্লাই সাঁতারে ফেলপসকে শুধু হারাননি, রেকর্ড গড়ে শেষ করেছেন এই ইভেন্ট। অথচ এই ইভেন্টের জন্যই বিখ্যাত মাইকেল ফেলপস!

আট বছর আগে জোসেফ বলেছিলেন, ‘মাইকেল ফেলপস আমার আদর্শ, কিন্তু আমি আমার নিজের ক্যারিয়ার নিজের মতো গড়তে চাই।’ এবং তিন বছর পরেই জোসেফ তার এই কথা রাখেন। ২০১১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফেলপসের সে সময়ের রেকর্ড ভেঙে দেন।

এই সময় জোসেফ বলেন, ‘এটাই আমার লক্ষ্য ছিল এবং আমি এটা ভাঙতে পেরে ভীষণ খুশি। এটা অনেক বড় কিছু। আশা করি এই রেকর্ডের থেকেও বড় কিছু করে দেখাবো।’ 

২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ফেলপসের সাথে একই সাথে পুলে নামার সুযোগ আসে জোসেফের, কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে নামার আগে তার ওয়াটার গগলস হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তা খুঁজে পেলেও তার আর পুলে নামার সময় ছিলো না। মন খারাপ করে পুলের পাশেই হাঁটছিলেন জোসেফ। ফেলপসের সামনে আসতেই, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে?

জোসেফ তার সমস্যার কথা জানালেন। শুনে ফেলপস বললেন, ‘তুমি খুবই ছোট। সামনে অনেক পথ। এখন শেখো এবং মাথা উঁচু করে চল।’ এটাই ছিল জোসেফকে দেওয়া তার আদর্শের প্রেরণা।

এর আগে, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের আগে যুক্তরাষ্ট্র সাঁতার দল সিঙ্গাপুরে কান্ট্রি ক্লাবে অনুশীলন ক্যাম্প করেছিল। ১৩ বছর বয়সী জোসেফ স্কুলিংও সেই ক্লাবে অনুশীলন করতেন। একদিন ভোরে সেই অনুশীলনে হাজির হন সাঁতারের মহাতারকা মাইকেল ফেলপস।

জলের দানবকে হঠাৎ করে সামনে পেয়ে কান্ট্রি ক্লাবের সবাই আনন্দে আত্মহারা। বাদ যাননি ১৩ বছর বয়সী স্কুলিংও। এই স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুললেন মহা তারকার সাথে। কিন্তু তখন কি কেউ জানতেন, আবারও এ দু’জন একই ফ্রেমে বন্দী হবেন? তাও আবার অলিম্পিকের মহামঞ্চে! স্কুলিং যেন তাই এখনও ঘোরের মধ্যেই আছেন!

বললেন, ‘ফেলপসের সঙ্গে আমার পরিচয় আট বছর আগেই হয়েছিল। কান্ট্রি ক্লাবে এক সকালে সে এল। আমাদের সবার মধ্যেই হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল ফেল্‌প্‌সের সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য। তার পাশে দাঁড়িয়ে, আমার এই অর্জন উদ্‌যাপন করছি। ব্যাপারটা আমি হৃদয়ে ধারণ করে রাখব সারাটা জীবন।’

একই ইভেন্টে রয়েছেন জলদানব ফেলপস। তাই হয়তো বড় স্বপ্নও দেখেননি স্কুলিং। সে কারণেই হয়তো ফেলপসকে পেছনে ফেলে অবাক তিনিও। তাইতো ফেলপসকে বললেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য, ফেল্‌প্‌স। আমি তোমাকে হারিয়েছি! এই অনুভূতির সঙ্গে আমি পরিচিত নই। অন্যরকম এক অনুভূতি এটা। আমি ঠিক জানি না কি করব।’

উওরে অবশ্য ফেলপস তেমন কিছু বলেননি। খুবই সংক্ষিপ্তভাবে উওর দিলেন, ‘আমি জানি।’

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে