Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১৩-২০১৬

একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকই উদ্ঘাটন করলেন

একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকই উদ্ঘাটন করলেন

লন্ডন, ১৩ আগষ্ট- ওরা তিন বান্ধবী। খাদিজা। আমিরা। শামিমা। এর মধ্যে খাদিজার বয়স ১৭। বাকি দুজনের বয়স ১৫। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির এ লেভেলের ছাত্রী। হঠাৎ করে একদিন নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা ছুটোছুটি শুরু করলেন। পুলিশকেও জানালেন। তারা কোথায় গেলো? বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের সাহায্য চাওয়া হলো। 

গ্যাটউইক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরা সব জল্পনার জবাব দিলো। তিনজনের হাতেই ব্যাগ। ওরা সিরিয়ার উদ্দেশে লন্ডন ছেড়েছে। তা ২০১৫ সালের ১৭ই ফেব্র“য়ারি। খবর রটলো ওরা আইসিসে যোগ দিতে সিরিয়ায় গেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তিন বৃটিশ কিশোরীর গন্তব্য নিয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গেলো তারা সিরিয়ায় পৌঁছেছে। কে তাদের উদ্বুদ্ধ করলো। বলাবলি আছে, স্কটিশ মহিলা আকসা মাহমুদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ধারণা করা হয়, এই আকসা তাদের দলে ভিড়ায়। 

অনেক দিন কোনো যোগাযোগ নেই। মাঝখানে তাদের একজন পরিবারকে জানায়, আইসিস যোদ্ধা বিয়ে করেছে। সহযোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনাতেই। এর মধ্যে খাদিজা বিয়ে করেছিল সোমালি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিককে। তিনি গত বছরের শেষদিকে নিহত হন। পুলিশ নানা পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিল ওদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে। কিন্তু কোনো কূলকিনারাই হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকালে লন্ডনভিত্তিক আইটিভির খবর গোটা বৃটেনকেই হতচকিত করে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক যশোয়া বাকের এ খবরটি ব্রেক করেন। খবরে বলা হয়, আইসিস যোদ্ধা খাদিজা রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। 

খাদিজার পরিবার কিছুদিন আগেই টের পেয়েছিল। তারা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছিল খাদিজা মারা গেছে। খাদিজার বড় বোন হালিমা আইটিভির কাছে স্বীকার করেছেন। বলেছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল টেলিফোনে। উভয়ের টেলিসংলাপও প্রচার করেছে আইটিভি। খাদিজা বলছিল তার ভালো লাগছে না। বড় ভয় করছে। মনে হয় আর কখনও ফিরতে পারবো না। পালিয়ে আসার পথ নিয়েও উদ্বেগ শোনা যায় খাদিজার কণ্ঠে। সে বলে, ‘সীমান্তগুলো এখন বন্ধ। তাহলে আমি বের হবো কোন পথে। আমি পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি) এলাকা দিয়ে যাবো না। কখনোই সেটা করবো না। ক্যাবে করে একটি সেফহাউজে যাওয়ার কথা আলোচনা করা হয়েছিল। এতেও ভরসা পাচ্ছিল না খাদিজা। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চায় খাদিজা। সে প্রশ্ন করে, ‘মা কোথায়? আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

খাদিজার পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জিও নিশ্চিত করেছেন কয়েক সপ্তাহ আগেই খাদিজা মারা গেছে। বৃটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, তারা এখনও নিশ্চিত নয়। আইটিভি অবশ্য দাবি করেছে যে খাদিজা ভুল বুঝতে পেরেছিল। ফিরতে চেয়েছিল বৃটেনে। সেটা খুব সহজও ছিল না। দল ছাড়লে সমূহ বিপদ। পরিণতি কি হয় তাদের বারবার বলাও হয়েছে। পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এটা ঠিক সে ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু সাহস করেনি। মনে হয়, প্রপাগান্ডা শুনে সে সিরিয়ায় গিয়েছিল। খুব দ্রুতই সে বুঝতে পারে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাকী দুই জনের অবস্থা কি হয়েছে তা জানা যায়নি। তাদের পরিবারের তরফ থেকেও কিছু বলা হচ্ছে না। 

আর/১২:১৪/১৩ আগষ্ট

যুক্তরাজ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে