Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১০-২০১৬

জেনে নিন সাফল্যে ঘেরা সালমানের জীবনের যত বিতর্ক

জেনে নিন সাফল্যে ঘেরা সালমানের জীবনের যত বিতর্ক

বলিউডে এ বছরের শুরুই যেন বিতর্ক দিয়ে। নতুন বছরের যাত্রার প্রথম থেকেই বছর জুড়ে মামলা মোকদ্দমা, বাজে ব্যবহার, সাফল্য ও বিয়ের কারণে বিটাউন ও গণমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন দাবাং অভিনেতা সালমান খান। গত বছরের শেষে বলিউড ভাইজান সালমান তার বিখ্যাত ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এই খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেক সিনেপ্রেমী ও তার ভক্ত। ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাছে ব্যপারটি খুবই আনন্দদায়ক হলেও সালমানকে জড়িয়ে ছিল বিতর্ক।

২০০২ সালে গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্মম ঘটনায় বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। সালমানের হিট অ্যান্ড রান মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সালমানের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তারই দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাতিল। সেই একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীকে আদালত ‘অনির্ভরযোগ্য ও অবাস্তব’ তকমা দিয়ে মামলা থেকে ‘বিয়িং হিউম্যান’খ্যাত সালমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০০২ সালে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন এই নায়ক। মুম্বাই পুলিশে এই ব্যপারে অভিযোগ করা হলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে একজন দেহরক্ষী নিয়োগ দেয়া হয়। সেই দেহরক্ষীর নাম রবীন্দ্র পাতিল, যিনি ছিলেন সালমানের হিট অ্যান্ড রান মামলার প্রত্যক্ষদর্শী এবং একমাত্র তিনিই সালমানের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

পথচারীদের উপর গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই ঘটনার পুরো সময় সালমানের পাশে ছিলেন তার দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাতিল। এমনকি দুর্ঘটনার আগে ও পরের সমস্ত ব্যপার জানতেন রবীন্দ্র। যার ভিত্তিতে পরে আদালতে সালমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি। কিন্তু সালমানের মতো শক্তিধর বলিউড ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে যাওয়ার কঠিন মূল্য দিতে হয়েছিলো তাকে। মামলার জবানবন্দী পাল্টানোর জন্য প্রচুর চাপ এসেছিল তার জীবনে। কিন্তু জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সাক্ষ্য পরিবর্তন করেন নি এই নিরীহ দেহরক্ষী।

২০০৬ সালে সালমানের পক্ষে মুম্বাইয়ের শীর্ষ আইনজীবী পাতিলকে পুনরায় জেরা করতে ডাকেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে পাতিল নিখোঁজ হয়ে যান, যার ভিত্তিতে তার ভাই স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে। একটানা পাঁচদিন আদালতে হাজিরা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেসময় পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে তাকে বরখাস্তও করা হয়।

একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলায় সালমানের বিরুদ্ধে থাকা সাক্ষী রবীন্দ্র পাতিলের জন্য কঠিন সময় সেটি যখন তিনি অন্যায় না করেও সাজা খেটেছেন। তাকে ছোট হোটেল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। অমানবিক অত্যাচার সইতে হয়েছে তাকে। জানা যায় সেই কারাগারে তাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছিলো। একসময় ছাড়া পান রবীন্দ্র, তবে সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে একা হয়ে যান এই দেহরক্ষী। কেউ তাকে আপন করে নেয় নি তার জীবনের সেই কঠিন সময়ে। সেই ঘটনার পাঁচবছর পর রবীন্দ্রকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের মাঝে দেখা যেত। যক্ষা রোগ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। সেখানেই যক্ষাতে ভুগেই মৃত্যু হয় পুলিশ সদস্য ও দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাতিলের।

সালমানের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সিনেমার খ্যাতির কারণে হিট অ্যান্ড রান মামলার কথা ভুলে গেল সবাই। এর মাসখানেক পর আরেক বিতর্ক শুরু হয় বলিউডের এ সময়ের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে। সেবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার সামনে সালমান খানের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন অরিজিৎ। সকল ভক্ত অনুরাগীকে সাক্ষী রেখে টুইটারে চিঠি লিখে সালমানের কাছে নত স্বীকার করেছেন তিনি। তা স্বত্বেও ‘সুলতান’ ছবিটি থেকে অরিজিতের গাওয়া গান বাতিল করে দিয়েছিলেন সালমান।

ঘটনা ছিল সামান্যই। একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ক্যাজুয়াল পোশাকে হাজির হওয়ায় অরিজিতের উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না সালমান। কাজের চাপে ব্যস্ত অরিজিৎ পুরস্কার নেবেন বলে তাড়াহুড়া করে সাধারণ পোশাকে হাজির হয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। আর দুর্ভাগ্যবশত সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন সালমান। যখন তার নাম ঘোষণা করা হয়, তখন নাকি তিনি ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এরপর পুরস্কার নিতে স্টেজে উঠতেই সালমান খান হাসতে হাসতে বলেন, ‘তুমি পুরস্কার পেয়েছ?’ ওদিকে স্টেজে ওঠার পরে তিনি জিজ্ঞেস করেন, অরিজিৎ ঘুমিয়েছিল কিনা। ওদিকে নার্ভাস হয়ে তার মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, ‘আপনারা ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছেন’। এর পরেই অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে জিভ কেটে ক্ষমা চান গায়ক। আর এতেই রাগ করেন সালমান।

অরিজিতের ভাষায়, ‘এছাড়া আমি তো অন্য কোনও অপমানের কথা মনে করতে পারছি না। তবে এটা বলছি যে, ওই কথাটা আমার বলা উচিত হয়নি।’

ওদিকে ‘সুলতান’ ছবিতে অরিজিতের গান বাতিলের ঘটনায় অনেকেই গায়কের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেন। কিন্তু মন গলে নি সালমানের। অরিজিতের ঔদ্ধত্যের কারণে কোনও অবস্থাতেই তাকে ক্ষমা করতে রাজি নন সালমান। এমনকি অরিজিতের গান বদলে রাহাত ফতেহ আলী খানকে দিয়ে একই গান আবারও রেকর্ড করেন ‘সুলতান’ ছবির সেই বিখ্যাত গান ‘জগ ঘুমিয়া’।

এ বছরের সেরা ব্যবসা সফল সিনেমা ‘সুলতান’ মুক্তি পায় এই বছরের রোজার ঈদ উপলক্ষ্যে। এই নিয়ে সামনে আসে নতুন বিতর্ক। কারণ এবারের  ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল বলিউড কিং শাহরুখ খানের ‘রইস’ আর ভাইজানের ‘সুলতান’। সবার ধারণা ছিল, এবার এই দুই খানের লড়াইটা বেশ জমবে বক্স অফিসে। কিন্তু সেই জল্পনায় পানি ঢেলে হঠাৎই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ‘রইস’ ছবির মুক্তির দিন পিছিয়ে দেন শাহরুখ খান।

বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়, সালমান খানের তারকা খ্যাতির কাছে ভয় পেয়েই শাহরুখ ‘রইস’-এর মুক্তি পিছিয়ে নিলেন আগামী বছরে। বি-টাউনে গুঞ্জন, সম্প্রতি নতুন করে বন্ধুত্ব হয়েছে দুই খানের। সেই জন্যই কি একে অপরকে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে দিচ্ছেন তারা! নাকি সালমানকে ‘ভয়’ পেয়ে এমনটা করেছিলেন বলিউড বাদশাহ? এতদিন চুপ থাকলেও এবার ‘রইস’ এর মুক্তি নিয়ে পরে মুখ খোলেন খোদ ছবির নায়ক শাহরুখ।

এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানিয়েছেন, ‘রইস’-এর শুটিং চলার সময় তিনি আঘাত পেয়েছিলেন। সেই সময়ই ছবির সমস্ত কাজ বাধ্য হয়ে আট-ন’মাস পিছিয়ে দিতে হয়। আর এটাই নাকি ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ।

৫০ বছর বয়সী শাহরুখ বলেন, ‘এর জন্যই ছবির কাজ গুছিয়ে নিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে আমি ঠিক যেভাবে এগুতে চেয়েছিলাম সেটা সম্ভব হল না। ফাইনালি এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হল। তাছাড়া এত বিগ বাজেটের দু’টো ছবি একই দিনে মুক্তি পাচ্ছিল। কাছাকাছি অন্য কোনও দিন ফাঁকা ছিল না বলে আগামী বছর ২৬ জানুয়ারী মুক্তি পাবে আলোচিত ‘রইস’ ছবিটি।

শাহরুখের জবানবন্দি সামনে আসলেও এই নিইয়ে বিতর্ক থেকেই যায়। সালমানের আচরণ সম্পর্কে অজানা নন কেউই। অনেকের মতে, পুরনো বন্ধুত্ব নতুন করে পরিণতি পাওয়ায় সালমানের সঙ্গে ঝামেলায় যেতে চান নি শাহরুখ।

সেই বিতর্কের উষ্ণতা শীতল হওয়ার আগেই আবারও শিরোনামে সালমান। এক সাক্ষাৎকারে ‘সুলতান’ ছবির শুটিংয়ে হাড়ভাঙা খাটুনিতে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নিজেকে ‘ধর্ষিতা’ নারীর সঙ্গে তুলনা করে বিপাকে পড়েন এই সুপারস্টার। তবে এবার বিটাউনের অনেককে পাশে পেয়েছেন তিনি। কিন্তু আবার অনেকে সালমানের এই মন্তব্যের সমালোচনা করছেন। ‘সুলতান’ ছবির প্রোমোশন করতে গিয়ে সালমান নিজের পরিশ্রমের কথা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, সুলতানের শুটিংয়ের সময় তার উপর দিয়ে অনেক ধকল যেত। যখন তিনি আখড়া থেকে বেরোতেন, ঠিক করে হাঁটতে পারতেন না। নিজেকে তখন তার ‘ধর্ষিতা’র মতো মনে হত।

সালমানের এই মন্তব্যের পরই বিতর্কের ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহলে। মন্তব্যের জন্য জাতীয়  মহিলা কমিশন সালমান খানকে সাতদিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। নিজেকে ‘ধর্ষিতা’র সঙ্গে নিজেকে তুলনায় করায় সালমানকে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশন। সেই চিঠির উত্তর দিলেন সালমান কিন্তু তিনি ক্ষমা চান নি।  শুধু কমিশনকে একটি চিঠি লিখে তার মতামত জানিয়েছেন। ওদিকে সালমানের হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চান তার বাবা সেলিম খান।

একের পর এক বিতর্কের মেঘ কাটছে না সালমান খানের উপর থেকে। কৃষ্ণসার হত্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আদালত থেকে বেকসুর অব্যাহতি পেয়েছিলেন সালমান। কিন্তু গত বুধবার এই মামলার একমাত্র চাক্ষুষ সাক্ষী বয়ান দেন আদালতে। তার বয়ানের কথা বিবেচনা করে এবার মামলাটি যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে।

এই একমাত্র সাক্ষী হচ্ছেন সালমানের গাড়ির ড্রাইভার হরিশ দুলানি। তার বয়ানের পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে রাজস্থান সরকার। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হত্যার প্রধান সাক্ষী দুলানি ঘটনার দিন সালমানের গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন। তার বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে গোটা মামলা।

‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলার সময় কৃষ্ণসার হত্যার অভিযোগ ওঠে সালমানের উপর। কিন্তু কোনও তথ্য প্রমাণ না থাকায় দিন কয়েক আগে রাজস্থান হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পান তিনি। কিন্তু গতকালই সামনে এসেছে সালমানের গাড়ির ড্রাইভার হরিশ দুলানির বয়ান।
বয়ানে হরিশ জানান, সালমানই শিকার করেন সেই হরিন। কিন্তু তারপর আদালত থেকে তাকে বারবার সমন পাঠালেও তিনি অনুপস্থিত থাকেন। কিন্তু বুধবার আবার প্রকাশ্যে আসেন হরিশ। ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিনি যে বয়ান দেন, তা থেকে অনড় ছিলেন তিনি। তার দাবি, তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, ফলে প্রাণভয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারেননি হরিশ।

তিনি জানিয়েছেন, তার সামনেই সালমান কৃষ্ণসার হত্যা করেন। তিনি যাতে সাক্ষ্য না দেন, তার জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। একটি সংবাদ মাধ্যমকে সম্প্রতি এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হরিশ। তা প্রচারের পরই কৃষ্ণসার হত্যা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান সরকার।

এই বছরের এপ্রিলে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হন বলিউড সেসময় তার গুডউইল হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক বিতর্ক। বিশিষ্ট ক্রীড়া তারকা সহ অনেক অভিনেতারাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সম্প্রতি রিও অলিম্পিকে মহিলাদের জিমন্যাস্টিক্সে ভল্ট ইভেন্টের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ষষ্ঠ হয়ে ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছেন দীপা কর্মকার। তারই নাম কি না সবার সামনে ভুল বললেন গুডউইল অ্যাম্বাসাডর!

প্রথম ভারতীয় হিসেবে জিমন্যাস্টিকের কোনও বিভাগের মূলপর্বে পৌছলেন ত্রিপুরার এই জিমন্যাস্ট। এর আগে কোনও ভারতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট অলিম্পিকে যাওয়ার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেননি। সালমান সম্প্রতি হাজির ছিলেন ‘ফ্রিকি আলি’ ছবির ট্রেলার মুক্তি উপলক্ষ্যে ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে। সেখানে যখন তাকে এই মহিলা জিমন্যাস্টের সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হয়। সালমান তখন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘দীপিকা না ওর নাম?’ সবাই যখন এটা শুনে চমকে যান, তখন ভুলটা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন সালমান। বলেন, ‘মনে পড়েছে। তার নাম দীপ্তি।’ যদিও অলিম্পিকে ভারতীয় প্রতিযোগীদের মধ্যে দীপ্তি কিংবা দীপিকা নামের কেউ নেই।

এদিকে নিজের প্রযোজিত ছবির ট্রেলার প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শুধু দীপা কর্মকারের নাম নয়, ‘ফ্রিকি আলি’ তারকা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকিকে মঞ্চে ডাকার সময় সালমান ভুল করে ‘নওয়াজুদ্দিন শাহ’ বলে সম্বোধন করে আবারও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন সালমান।

এতো গেল বিতর্কের কথা। এই বছরের শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছে, এই বছরেই নাকি বিয়ের কাজটা সেরে ফেলবেন বলিউডের মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর সালমান খান। আর এবার নাকি তার মা সালমা খান তার ছেলের বিয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। আর পাত্রীর নাম প্রকাশ্যে না এলেও ধারণা করা হচ্ছিল, সেটি আর কেউ নয়, সালমানের রোমানিয়ান মডেল বান্ধবী লুলিয়া ভান্তুর। এই প্রসঙ্গে সালমান জানালেন, বিয়ে নিয়ে তিনি খুব একটা মাতামাতি না করলেও, বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তাকে। বিশেষত মা বোনেরা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

প্রীতি জিনতার বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে সুলতান ছবির সেট, সবখানেই সালমানের সঙ্গে এবছর দেখা গেছে লুলিয়াকে।  সালমানের বাড়ির যে কোন পার্টিতেই যোগ দেন তিনি। এমনকি বিমানবন্দরে সালমানের মায়ের হাত ধরে বের হতে দেখা গেছে লুলিয়াকে। সেখান থেকেই ধারণা করা, সালমানের বিয়ের পাত্রী রোমানিয়ান সুন্দরী লুলিয়া ভান্তুর।

জানা যাচ্ছে, এই বছরের ১৮ নভেম্বর সালমানের বিয়ের তারিখ। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ৫০ বছর বয়সী সালমান এর উত্তরে জানান, ‘হ্যাঁ, ১৮ নভেম্বর। যদিও এই ১৮ নভেম্বর ২০-২৫ নভেম্বর ধরে চলছে! জানি না কোন বছরের ১৮ নভেম্বর সানাই বাজবে। তবে বাজবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জানি খুব কম মেয়েই আছে যারা আমার বিয়ে দেখতে চায়। তবে আপনাদের জানা নেই বিয়ের জন্য আমার ওপর বিশাল চাপও আছে।’ বিয়ে করানোর জন্য লেগে থাকা নারীদের কথা জানিয়ে সালমান বলেন, ‘আমার মা ও বোনদের কথা বলছি। তারাই কেবল চায় আমি বিয়ে করি।’

প্রসঙ্গত, ১৮ নভেম্বর তার বাবা-মায়ের বিবাহ-বার্ষিকী। এমনকি  তার ছোট বোন অর্পিতা খানও দুই বছর আগে একই তারিখে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। পরিবারের পাশাপাশি সালমানের বিয়ে নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে তার ভক্তদের মধ্যেও। তাই তিনি বলেন, বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়া মাত্রই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করবেন বিয়ের দিন।

ওদিকে বিয়ের দিন নিয়ে প্রশ্নের উত্তর যেন সালমান বরাবরই রহস্য করে দিতেই বেশি পছন্দ করেন। তার বিয়ের প্রশ্ন করা হলেই একেকবার একেক উত্তর দেন তিনি। তবে এইবার শুধু বিয়ে নয়, নিজের যৌনজীবন নিয়েও কথা বলেছেন। সম্প্রতি তার হোম প্রডাকশন থেকে নির্মিত ‘ফ্রেকি আলি’র ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সালমান। সেখানে তাকে ফের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আর তার জবাবে তিনি জানালেন, সেক্স আর বিয়ে কোনটাই তার জীবনে এখনও ঘটেনি। আর বিয়ে করলে সেটা সকলকে জানিয়েই করবেন।

বলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে